কক্সবাজারে সমুদ্রে ভাসমান চারটি অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। হঠাৎ ৪টি লাশ কোত্থেকে কীভাবে সাগরে ভেসে এলো তার কোনো কূলকিনারা করতে পারেনি পুলিশ।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, বৃহস্পতিবার রাতে জোয়ারের পানিতে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে অর্ধগলিত লাশটি ভেসে আসে। এটি কার এবং মৃত্যুর কারণ জানার চেষ্টা চলছে। এরই মধ্যে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ওসি বলেন, লাশটি পচে গলে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। শরীরের বিভিন্ন অংশে হাড় থেকে মাংস খসে পড়েছে। শরীরের অবয়ব ও পোশাকের ধরন দেখে পুরুষের বলে শনাক্ত করা হয়েছে। এর আগে বুধবার দুপুরে সেন্টমার্টিন দ্বীপে অর্ধগলিত একটি লাশ উদ্ধার করা হয়। একইদিন সন্ধ্যায় টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ এবং সদর ইউনিয়নের রাজারছড়া সংলগ্ন সাগর তীর এলাকা থেকে ভাসমান অবস্থায় অর্ধগলিত আরও দুটি লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এদিকে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১০টার দিকে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে মাথা ও পাবিহীন একটি অর্ধগলিত খণ্ডিত লাশ ভেসে আসে। বিচকর্মী খোরশেদ আলম জানান, রাতে পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থে সমুদ্রের পানির কিনারা থেকে ওপরে উঠে যেতে অনুরোধ করা হচ্ছিল। এ সময় পানিতে ভেসে থাকা অর্ধগলিত লাশটি তাদের চোখে পড়ে। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। এই লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরিতে নিয়োজিত কক্সবাজার সদর মডেল থানার এসআই মো. সরোয়ার বলেন, লাশের মাথা ও শরীরের নিচের অংশ নেই। দীর্ঘ সময় পানিতে থাকায় শরীরের বেশির ভাগ অংশ পচে গেছে।
এদিকে টেকনাফ মডেল থানার ওসি মো. সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, গত বুধবার টেকনাফ উপজেলার সেন্টমার্টিন দ্বীপ, শাহপরীর দ্বীপ এবং সদর ইউনিয়নের রাজারছড়া সংলগ্ন সাগর তীর এলাকা থেকে ভাসমান অবস্থায় অর্ধগলিত তিনটি অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। যেগুলোর বেশির ভাগই পচে গেছে বা নষ্ট হয়ে গেছে। অবয়ব ও পোশাক দেখে এগুলো নারীর লাশ বলে মনে করা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে তারা মিয়ানমারের বাসিন্দা। সাগরে নৌযান ডুবে তাঁদের মৃত্যু হয়েছে। তবে স্থানীয়রা ধারণা করছেন, লাশগুলো মিয়ানমারে চলমান সংঘাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নিহতদের হতে পারে।


