জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, টানা ভারী বৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা ও ভূমি ধসে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মানবিক পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। এতে বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত ১৫ জন রোহিঙ্গা নিহত, ১৮ জন আহত এবং ২৬ হাজার ১১৯ জন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
একই সময়ে সাময়িক বাস্তুচ্যুত হয়েছে ৪ হাজার ৩০৭ জন। গতকাল ইউএনএইচসিআরের বাংলাদেশ অফিসের বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, মানবিক সংস্থাগুলো বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে জরুরি উদ্ধার, নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর, খাদ্য, চিকিৎসা, আশ্রয় ও অন্যান্য জরুরি সহায়তা দিচ্ছে। তবে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর আজ (শনিবার) পর্যন্ত ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে। এতে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে নতুন করে ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি রয়েছে।
তারা আরও জানায়, রোহিঙ্গা ক্যাম্প চালুর পর এ পর্যন্ত ২৮৬টি আবহাওয়াজনিত ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে ৯৫টি ভূমিধস, ১৫৬টি ঝোড়ো হাওয়া ও ২১টি বন্যার ঘটনা রয়েছে। টানা বৃষ্টিতে ২ হাজার ৮০৯টি আশ্রয় আংশিক ও ১৩টি আশ্রয় সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষাকেন্দ্র, স্বাস্থ্যসেবা, পানি, স্যানিটেশন অবকাঠামোসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইউএনএইচসিআর বাংলাদেশের রিপ্রেজেন্টেটিভ ইভো ফ্রেইসেন বলেছেন, ভূমিধস ও বন্যায় মর্মান্তিক প্রাণহানি আবার মনে করিয়ে দিচ্ছে প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখে এসব ক্যাম্প কতটা ঝুঁকিপূর্ণ এবং প্রতি বর্ষা মৌসুমে রোহিঙ্গা পরিবারগুলো কত বড় ঝুঁকির সম্মুখীন হয়। ইউএনএইচসিআর রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে বসবাসরত মানুষের নিরাপত্তা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সম্পদ, জমি ও পরিকল্পনার সুযোগ নিশ্চিত করার জন্য জোরালো প্রচার অব্যাহত রাখবে।


