বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনা করছেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্সে । এমনকি দলের নেতাকর্মীসহ তিনি আত্মসমর্পণের কথা ভাবছেন বলেও রয়টার্সকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন।
এর আগে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে লিখিতভাবে প্রশ্নের উত্তর দিলেও আগে সরাসরি কথা বলেননি শেখ হাসিনা। রয়টার্স বলছে, টেলিফোনে তার এই সাক্ষাৎকারটি নেওয়া হয়েছে। শেখ হাসিনা রয়টার্সকে বলেন, “আমাদের প্রায় সব নেতাকর্মীর বিরুদ্ধেই মামলা হয়েছে, এবং তাদের অনেকে আত্মগোপনে আছেন। তাই আমি বলেছি, এবার আমি দেশে ফিরছি, আর একদিন তোমরাও সবাই এসো। আমরা সবাই একসঙ্গে আদালতে আত্মসমর্পণ করবো।”
শেখ হাসিনা টেলিফোনে রয়টার্সকে বলেছেন, তিনি ও আওয়ামী লীগের সদস্যরা স্বেচ্ছায় বাংলাদেশে ফিরতে চান। তারা আদালতে হাজির হয়ে আত্মসমর্পণ করতে চান।
বাংলাদেশে ফিরলে গ্রেফতার, এমনকি হত্যাকাণ্ডের শিকার হতে পারেন বলেও তিনি মনে করেন। বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে শুক্রবার পর্যন্ত প্রায় এক ঘণ্টা টেলিফোনে শেখ হাসিনা এই সাক্ষাৎকার দেন বলেও রয়টার্স জানিয়েছে।
বাংলাদেশের সরকার তাকে ভারত থেকে ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “তারা আমাকে ফিরিয়ে নিতে চায়। আমাকে ফেরত পাঠানোর জন্য তারা বারবার ভারতে চিঠি পাঠাচ্ছে। আমি নিজেই ফিরে যাব।”
ডিসেম্বরে ঠিক কবে বাংলাদেশে ফিরবেন, কখন বা কোন আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন, তা উল্লেখ করতে অস্বীকৃতি জানান শেখ হাসিনা।
ফেরার পরিকল্পনা নিয়ে ঢাকার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ হয়নি বলেও তিনি জানিয়েছেন।
“গণতন্ত্র, ভোটাধিকার, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অধিকার এবং ন্যায়বিচার—এসব গোপন আলোচনার বিষয় নয়,” এই মন্তব্য করে শেখ হাসিনা এটাও বলেন যে, কারাগারে যাওয়া নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন নন, কারণ এর আগেও তাকে একাধিকবার গ্রেফতার করা হয়েছে।
চব্বিশে দেশ ছাড়ার কারণ হিসেবে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার বাসভবনের দিকে জনতা এগিয়ে আসার সময় তার প্রাণনাশের হুমকি ছিল।
সরকারে থাকার সময় আওয়ামী লীগের ভুল হয়ে থাকতে পারে- এধরনের মন্তব্য করলেও কোনো ধরনের দায় স্বীকার করেননি শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, “কোনো সরকার দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকলে ভুল হতেই পারে– কোনো সরকারই ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। কিন্তু একটি সরকারের ভালো-মন্দ, সঠিক-ভুল বিচার করার অধিকার জনগণের। আমি সেই বিচার জনগণের ওপরই ছেড়ে দিচ্ছি।”
আওয়ামী লীগকে সক্রিয় করা
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ২০২৫ সালের ১২ই মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করে আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সব সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল। বিএনপি সরকারও সেটাই বহাল রেখেছে। সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত কোনো সত্তার যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার বিধান যুক্ত করে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ গত এপ্রিলে অনুমোদন করা হয়েছে জাতীয় সংসদ।
তবে নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনার ইঙ্গিতও দিয়েছেন শেখ হাসিনা।
আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠনের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে তিনি বাংলাদেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ১২৫টি আসন নিয়ে অনলাইন বৈঠক করেছেন বলে রয়টার্সকে জানান।
তিনি বলেন, “তারা আমাকে দোষী সাব্যস্ত করে থাকতে পারে এবং আমি হয়তো নির্বাচনে অংশ নিতে পারব না। কিন্তু আওয়ামী লীগকে কেন স্থগিত করা হবে? আমরা যদি খারাপ কাজ করে থাকি, তাহলে সিদ্ধান্ত জনগণই নিক।”
প্রসঙ্গত, চব্বিশের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে তার দল আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের ওপরও বাংলাদেশে সরকারিভাবে নিষেধাজ্ঞা জারি আছে। শেখ হাসিনার সঙ্গে একই মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ নেতা আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধের মৃত্যুদণ্ডে রায় আছে।


