Homeআন্তর্জাতিকবিশ্বকাপকে ‘পণ্য’ করার প্রশ্নে বিভক্ত ফুটবলবিশ্ব

বিশ্বকাপকে ‘পণ্য’ করার প্রশ্নে বিভক্ত ফুটবলবিশ্ব

২০২৬ বিশ্বকাপে রেকর্ড পরিমাণ আয়ের পরই নতুন ভাবনা পেয়ে বসেছে ফিফাকে। সেই ভাবনায় আরো অর্থের হাতছানি।তাতে বিশ্বকাপটাকে সরাসরি ‘পণ্য’ বানিয়ে ফেলতে দ্বিধা করছেন না জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। তিনি বিশ্বকাপের মতো ফিফার বড় আসরগুলো আয়োজনে পৃথক একটি এন্টারপ্রাইজ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন, যারা আবার এর শেয়ার বিক্রি করতে পারবে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে। অর্থাৎ ফিফার হাত থেকে বিশ্বকাপ চলে যাচ্ছে একরকম একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের হাতে, যা নিয়ে এখন দ্বিধাবিভক্ত ফুটবলবিশ্ব।

যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান জেপি মরগান ফিফার হয়ে এই পরিকল্পনা সাজিয়েছে। তারা পৃথক এন্টারপ্রাইজটির নাম দিয়েছে ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই)’, যার আর্থিক মূল্য হবে ২০ বিলিয়ন ডলার।

উল্লেখ্য, এবারের যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, মেক্সিকো বিশ্বকাপ থেকে ফিফা আয় করেছে এযাবৎকালের সর্বোচ্চ ১৫ বিলিয়ন ডলার। জেপি মরগানের প্রতিবেদন বলছে, ফুটবল বিশ্বকাপ পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি মানুষের দেখা আসর, অথচ ফিফা সে তুলনায় আয় করতে পারছে না। সে কারণেই এখন নতুন এন্টারপ্রাইজ খোলা, বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে যার ২০ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করে করে ৪.২ বিলিয়ন ডলার নগদ আয়ের লক্ষ্য ফিফার।

কিন্তু ফুটবল কেনাবেচার, আরো সুনির্দিষ্ট করে বললে বিশ্বকাপ বিক্রির এমন প্রস্তাব একেবারেই ভালোভাবে নেয়নি ফুটবলের অন্যতম বড় আরেকটি সংস্থা উয়েফা। গত পরশুই নিজেদের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে ভোটাভুটির মাধ্যমে তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ফিফা এমন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে চাইলে বিশ্বকাপই বর্জন করবে তারা। ‘বিশ্বকাপ কোনো বিনিয়োগ পণ্য নয়। যুগের পর যুগ খেলোয়াড়রা, জাতীয় দলগুলো এবং এর সমর্থকরা মিলে এই আসরটাকে এই উচ্চতায় নিয়ে এসেছে। তা মোটেও বিক্রির জন্য নয়’, এক বিবৃতিতে এ কথা বলেছে উয়েফা।ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থার এই অবস্থানের পরপরই উত্তর, মধ্য ও ক্যারিবিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন বা কনকাকাফও এই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। গতকাল শুক্রবার এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনও (এএফসি) এই দুটি সংস্থার সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করলে পুরোপুরি ঝুঁকির মুখেই ফিফার এই পরিকল্পনা।

এএফসি তাদের বিবৃতিতে জানিয়েছে, বৈশ্বিক ঐকমত্য ছাড়া ফিফা কিছুতেই এমন কোনো পরিকল্পনা এগিয়ে নিতে পারবে না। আর যা সেই একতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলে তা নিয়ে নতুন করে ভাবা উচিত ফিফার। ইনফান্তিনো জানিয়েছেন, সদস্য দেশগুলোর ভোট পক্ষে থাকলেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সম্ভব। ২১১টি দেশের মধ্যে তাই ১০৬টি ভোট পেলেই তাঁর চলে। তবে উয়েফা (৫৫), কনকাকাফ (৩৫) ও এএফসি (৪৬) মিলেই ১৩৬ ভোট। তারা পক্ষে না থাকা মানে ইনফান্তিনোর পরিকল্পনা ভেস্তে যাচ্ছে। যদিও এএফসির অবস্থান মেনে প্রতিটি সদস্য দেশ ভোট দিতে বাধ্য নয়, তবে তেমন ব্যতিক্রম না হওয়ারই কথা। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন থেকে জানানো হয়েছে, কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় তারা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবে। উয়েফা যদিও বলছে, এসব করে ফিফা নিজে এবং তার বন্ধুস্থানীয় কিছু প্রতিষ্ঠান লাভবান হবে। তবে ইনফান্তিনো বলছেন, সদস্য দেশগুলোকে আর্থিকভাবে আরো সচ্ছল করতেই তাঁর এই উদ্যোগ। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হলে যেমন আগামী চার বছরের চক্রে চার কোটি ডলার করে পাবে প্রতিটি সদস্য সংস্থা। আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চল ও ওশেনিয়া এখনো এ ব্যাপারে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেনি। প্রস্তাবটি আরো বিতর্কিত হয়ে পড়েছে তিনটি কনফেডারেশনের বিরোধী অবস্থানের পর খোদ ইনফান্তিনোর একজন উপদেষ্টার পদত্যাগের ঘটনায়। 

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বাধিক পঠিত

সাম্প্রতিক মন্তব্য