Homeআন্তর্জাতিকভারত-রাশিয়ার বাণিজ্য ১০ হাজার কোটি ডলারে নেওয়ার সিদ্ধান্ত

ব্রিকস সম্মেলন শুরু হচ্ছে আজ
ভারত-রাশিয়ার বাণিজ্য ১০ হাজার কোটি ডলারে নেওয়ার সিদ্ধান্ত

মোদি-পুতিন বৈঠক অনুষ্ঠিত

আজ মোদি-শি বৈঠক, সম্পর্কোন্নয়নই মূল টার্গেট

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে চলতি ব্রিকস সম্মেলনের আগে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন। দুই বিশ্বনেতার বৈঠকে দুই দেশের প্রতিরক্ষা, জ্বালানি ও প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধি করাসহ কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

বিষয়গুলোর মধ্যে ভারতের সুপারসনিক ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্রের উন্নয়ন প্রকল্পও ছিল। একই দিন মোদি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গেও বৈঠকে মিলিত হন।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের ভলিউমকে ১০ হাজার কোটি ডলারে নিয়ে যেতে চায় রাশিয়া ও ভারত। এ ছাড়া প্রতিরক্ষা, জ্বালানি এবং বিরল খনিজ উপাদান খাতে পারস্পরিক সহযোগিতাও বাড়াতে চায় দুই দেশ।

তিন দিনব্যাপী ব্রিকস জোটের সম্মেলনে যোগ দিতে গতকাল শুক্রবার ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি এসেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। সম্মেলনের প্রথম দিনের সেশনের অবসরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক হয় তাঁর। সেই বৈঠকেই গৃহীত হয়েছে এই সিদ্ধান্ত। এসবের বাইরে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মূল ইস্যুগুলো নিয়েও কথা বলেছেন ভ্লাদিমির পুতিন ও নরেন্দ্র মোদি।

এর আগে ৮ সেপ্টেম্বর রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন ও দপ্তর ক্রেমলিনে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট পুতিনের প্রেস সেক্রেটারি দিমিত্রি পেসকভ বলেছিলেন, ভারতের তৈরি ব্রাহ্মস ক্ষেপণাস্ত্রকে আরো উন্নত করতে নয়াদিল্লি ও মস্কো যৌথভাবে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং ভারতে এস-৪০০ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ও সু-৫৭ যুদ্ধবিমানের চালান দ্রুত পাঠানোর ব্যাপারেও কাজ করছে মস্কো।

এটি ব্রিকস জোটের ১৮তম সম্মেলন। ১৩ সেপ্টেম্বর এই সম্মেলন শেষ হবে। বৈঠকের শুরুতে দুই নেতা উষ্ণ কোলাকুলি করেন। চলতি বছর এটি তাঁদের দ্বিতীয় বৈঠক।এর আগে গত ৩১ আগস্ট বিশকেকে অনুষ্ঠিত ২৬তম এসসিও সম্মেলনের ফাঁকে তাঁরা মুখোমুখি হন। নতুন দিল্লিতে বৈঠককালে পুতিনকে বিশিষ্ট তামিল কবি ও দার্শনিক তিরুভাল্লুভারের বিখ্যাত গ্রন্থ ‘তিরুক্কুরাল’-এর রুশ অনুবাদ উপহার দেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। কৃষি ও কৃষকদের নিয়ে বিস্তারিত লেখা রয়েছে এই গ্রন্থে।

উল্লেখ্য, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর রাশিয়ার বাইরে কোনো ব্রিকস সম্মেলনে সশরীরে পুতিনের এটিই প্রথম অংশগ্রহণ।

আজ শনিবার দুপুরের পর (দুপুর ২টা ৩৫ মিনিট) সম্মেলন শুরু হবে। পুতিন আজ বার্ষিক ব্রিকস বিজনেস ফোরামের পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে বক্তব্য দেবেন। সম্মেলনের ফাঁকে পুতিন আরো কয়েকজন আন্তর্জাতিক নেতার সঙ্গে বৈঠক করবেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা, মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাতেহ আল-সিসি এবং মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম।

সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট সিসি, প্রেসিডেন্ট রামাফোসা, প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো (ইন্দোনেশিয়া), প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম, আবুধাবির যুবরাজ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান এবং ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ আলী অংশ নেবেন। এ ছাড়া জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার মহাপরিচালক নগোজি ওকোনজো-ইওয়েলা, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান তেদ্রোস আধানম গেব্রিয়েসাস, নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট দিলমা রুসেফ এবং এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের প্রধান ঝাও জিয়াই সম্মেলনে যোগ দেবেন।

ব্রিকসের মূল সদস্য ছিল ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকা। ২০২৪ সালে মিসর, ইথিওপিয়া, ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরব এই জোটে যুক্ত হয়। গত বছর ইন্দোনেশিয়াও ব্রিকসের সদস্য হয়েছে। সম্মেলনে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, যোগাযোগব্যবস্থা ও উচ্চ প্রযুক্তিতে সহযোগিতা বৃদ্ধি করার মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে বলে মনে করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য, কৃষি, খাদ্য, জ্বালানি, দুর্যোগের ঝুঁকি কমানো ও সরবরাহব্যবস্থার মতো ক্ষেত্রেও সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা করা হবে।

গতকাল ভোরে দিল্লির পালাম বায়ুসেনা ঘাঁটিতে অবতরণ করে পুতিনের বিমান। সেখানে রুশ প্রেসিডেন্ট এবং তাঁর সঙ্গে আসা প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানান ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তিবর্ধন সিংহ। গতকাল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্রিক‌স নিয়ে একটি পোস্ট করেছেন নরেন্দ্র মোদি। সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘আগামী কয়েক দিন বিশ্বের নানা প্রান্তের রাষ্ট্রপ্রধানরা ব্রিক‌স সম্মেলনের জন্য সমবেত হবেন। আমি আশাবাদী, এই সম্মেলনে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ইতিবাচক ও অর্থপূর্ণ আলোচনা করা হবে। বিশ্বের কল্যাণের বিষয়টিও এখানে স্থান পাবে।’

পুতিন যা বললেন : ব্রিকস বিজনেস ফোরামে বক্তব্য দেওয়ার সময় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, পশ্চিমারা যেকোনো উপায়ে, এমনকি অরুচিকর পদ্ধতিতেও তাদের হারানো নেতৃত্ব ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করছে। তিনি আরো উল্লেখ করেন, ব্রিকস দেশগুলোর মধ্যে শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য ব্যাবসায়িক সম্পর্কই আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভিত্তি তৈরি করে, যা দেশগুলোকে আরো স্থিতিশীল করে তোলে।

তিনি বলেন, ব্রিকস দেশগুলোর গতিশীল অভ্যন্তরীণ বাজারই এই গোষ্ঠীর সাফল্যের মূল ভিত্তি। বিশ্বের প্রায় অর্ধেক জনসংখ্যার আবাসস্থল ব্রিকস দেশগুলোতে বিশাল ও গতিশীল অভ্যন্তরীণ বাজার রয়েছে। আমাদের দেশগুলোর শহরগুলো দ্রুত বিকশিত ও প্রসারিত হচ্ছে, নগরায়ণ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে এবং জাতীয় সংস্থাগুলো বিশ্বব্যাপী খেলোয়াড় হিসেবে ক্রমে নিজেদের ছাপ রাখছে।’

পুতিন উল্লেখ করেন, বিগত পাঁচ বছরে ব্রিকস দেশগুলো বৈশ্বিক জিডিপির ৪০ শতাংশেরও বেশি অবদান রেখেছে, যেখানে গ্রুপ অব সেভেনের (জি৭) অবদান ছিল মাত্র ২৯ শতাংশ। তিনি বলেন, বিগত পাঁচ বছরে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রায় অর্ধেকই এসেছে ব্রিকস দেশগুলো থেকে।

মোদি-শি বৈঠক আজ : ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং আজ শনিবার দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসবেন। নয়াদিল্লিতে চলতি ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে এই বৈঠক হবে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস। প্রায় সাত বছর পর ২০২৬ সালের ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নিতে ভারতে আসছেন শি চিনপিং। সীমান্ত উত্তেজনাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের টানাপড়েনের পর ভারত ও চীন যখন সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে, তখন শির এই সফরকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০১৯ সালের অক্টোবরের পর এবারই প্রথম ভারতে আসছেন শি চিনপিং। ওই সময় তামিলনাড়ুর মামাল্লাপুরমে মোদির সঙ্গে দ্বিতীয় অনানুষ্ঠানিক সম্মেলনে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। তবে এর প্রায় ছয় মাস পর লাদাখ সেক্টরে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা ঘিরে সামরিক উত্তেজনার জেরে ভারত-চীন সম্পর্ক দীর্ঘ সময়ের জন্য তলানিতে নেমে যায়। সেই প্রেক্ষাপটে এবারের মোদি-শি বৈঠক দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপথের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। তবে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের সঙ্গে পুতিনের আলাদা কোনো পূর্ণাঙ্গ বৈঠক নির্ধারিত হয়নি।

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বাধিক পঠিত

সাম্প্রতিক মন্তব্য