রাজধানী ঢাকাসহ চট্টগ্রাম ও বরিশালে পৃথক ঝটিকা মিছিল করেছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও তাদের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এসব মিছিলকে কেন্দ্র করে ঢাকার গুলশানে ককটেল বিস্ফোরণ ও পুলিশ ফাঁকা গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে শুরু করে জুমার নামাজের পর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এসব মিছিল থেকে যৌথ অভিযানে মোট ৯ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
রাজধানীর গুলশানে বিশৃঙ্খলা ও দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি
গতকাল দুপুর পৌনে ১২টার দিকে রাজধানীর গুলশান-১ নম্বর এলাকার ভোলা মসজিদের সামনে থেকে আওয়ামী লীগের ব্যানারে ১৫০ থেকে ২০০ জন নেতাকর্মী হঠাৎ এক হয়ে মিছিল বের করেন। মিছিলটি নিকেতন এলাকার দিকে অগ্রসর হতে থাকলে সেখানে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা তাদের বাধা দেন। পুলিশ উপস্থিতি টের পেয়ে মিছিলকারীরা দুটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়, ফলে আশপাশের এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং মিছিলকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে দায়িত্বরত এক উপপরিদর্শক (এসআই) দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়েন। পুলিশের বাধায় মিছিলকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় ঘটনাস্থলে পাঁচটি তাজা ককটেল ফেলে রেখে যায়। পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে তা জব্দ করে।
গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. দাউদ হোসেন জানান, কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের ব্যানারে হঠাৎ জমায়েত হয়ে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছিল। ঘটনাস্থল থেকে মো. আরাফাত (২০) ও আ. রহিম (৪৯) নামে দুজনকে ককটেলসহ আটক করা হয়েছে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ঝটিকা মিছিল
একই দিনে জুমার নামাজের পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ১ নম্বর গেট সংলগ্ন এলাকায় ঝটিকা মিছিল বের করে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। সংক্ষিপ্ত এই মিছিলে তারা সরকারবিরোধী নানা স্লোগান দেন। মিছিলের একটি ভিডিও পরবর্তীতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে পোস্ট করা হয়।
তবে ঘটনার সময় উপস্থিত থাকার বিষয়ে হাটহাজারী মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নজরুল ইসলাম জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর গেট এলাকায় অনুষ্ঠিত এই মিছিল সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের কাছে কোনো আগাম তথ্য ছিল না। পরবর্তীতে ভিডিও ফুটেজ দেখে জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
বরিশালে স্টেডিয়ামের সামনে মিছিল, চিরুনি অভিযানে আটক ৭
এদিকে বরিশাল নগরীতেও জুমার নামাজের পর নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ব্যানার নিয়ে ঝটিকা মিছিল বের করেন। কবি জীবনানন্দ দাশ স্টেডিয়ামের সামনে থেকে ‘দেশ বাঁচাতে প্রয়োজন শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন’ লেখা ব্যানার হাতে মিছিলটি শুরু হয়। প্রত্যক্ষদর্শী ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, মিছিলকারীরা কিছু সময়ের জন্য প্রধান সড়ক দখল করে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।
খবর পেয়ে দ্রুত কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং সেখান থেকে সরাসরি পাঁচজনকে আটক করে। পরবর্তীতে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় চিরুনি অভিযান চালিয়ে আরও দুজনকে আটক করা হয়।
বরিশাল মহানগরীর কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আল মামুন উল ইসলাম জানান, ঝটিকা মিছিলের খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। মোট সাতজনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। তাদের রাজনৈতিক পরিচয়, মিছিলে প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ ও নাশকতার পরিকল্পনা ছিল কিনা তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গভীরভাবে যাচাই করছে। যাচাই-বাছাই শেষে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


