Homeজাতীয়বন্ধ ৩৭ বিদ্যুৎকেন্দ্র, বিদ্যুৎ খাতের সক্ষমতা ধ্বংসের পথে

বন্ধ ৩৭ বিদ্যুৎকেন্দ্র, বিদ্যুৎ খাতের সক্ষমতা ধ্বংসের পথে

বিগত শেখ হাসিনা সরকারের সুদূরপ্রসারী ও দূরদর্শী নীতির কারণে বাংলাদেশ বিদ্যুতের স্থাপিত উৎপাদনে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছিল। শূন্য থেকে দেশকে ১৯ হাজার ৫৩৭ মেগাওয়াটেরও বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার এক বিশাল শক্তিতে পরিণত করেছিল আওয়ামী লীগ সরকার। গ্রাম থেকে গ্রামে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিয়ে শতভাগ বিদ্যুতায়নের যে সুফল দেশবাসী পাচ্ছিল, বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের চরম প্রশাসনিক ব্যর্থতা, আর্থিক অব্যবস্থাপনা এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর প্রতি অবহেলার কারণে তা আজ ধ্বংসের মুখে। বিদ্যুৎ বিভাগের দুর্বল ব্যবস্থাপনার খেসারত হিসেবে দেশজুড়ে চলছে তীব্র লোডশেডিং, এবং প্রতিদিনের বিদ্যুতের এই আসা-যাওয়ায় গ্রাহকদের ভোগান্তি এখন চরম রূপ নিয়েছে।

তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে, দেশে জ্বালানিসংকট, দ্রুত মেয়াদ নবায়ন না করা এবং সাময়িক যান্ত্রিক ত্রুটি মেটাতে না পারার কারণে মোট ৩৭টি বিদ্যুৎকেন্দ্র বর্তমানে সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। শেখ হাসিনা সরকার যেখানে বেসরকারি ও সরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে একের পর এক মেগাপ্রকল্প বাস্তবায়ন করে বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করেছিল, সেখানে বর্তমান বিএনপি সরকার সময়মতো বেসরকারি খাতকে পাওনা টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে অর্থ ও জ্বালানি সংকটে একে একে বন্ধ হয়ে গেছে সরকারি ২৩টি এবং বেসরকারি ১৪টি কেন্দ্র।

এই চরম সংকটের জন্য সরাসরি সরকারের সিদ্ধান্তহীনতা এবং তদারকির অভাবকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম. তামিম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, বেসরকারি খাতকে সময়মতো টাকাপয়সা না দেওয়া এবং কয়লা ও তেলের মতো জরুরি জ্বালানির সরবরাহ নিশ্চিত করতে না পারাই এই সংকটের প্রধান কারণ। তিনি বলেন, কয়লার অভাবে পায়রা ও রামপালের মতো মেগা বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন বন্ধ রাখা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

খুলনায় শেখ হাসিনা সরকারের আমলে নির্মিত সামিট ও ইউনাইটেড গ্রুপের কেপিসিএল-এর ১১৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ‘নো ইলেকট্রিসিটি, নো পেমেন্ট’ নীতির অধীনে চালু ছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে চুক্তি নবায়ন না করায় শত শত মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন থেকে দেশ বঞ্চিত হচ্ছে। একইভাবে রূপসা ৮০০ মেগাওয়াট কেন্দ্রসহ বেশ কয়েকটি দ্রুতগতির বিদ্যুৎকেন্দ্র চালুর বিষয়ে সরকারের কোনো সমন্বিত উদ্যোগ নেই।

আওয়ামী লীগ সরকার দেশীয় বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি আঞ্চলিক সহযোগিতার মাধ্যমে দেশের বিদ্যুৎ সংকট দূর করতে আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো মেগাপ্রকল্প থেকে বিদ্যুৎ আমদানির সফল ব্যবস্থা করেছিল। কিন্তু বর্তমান সরকারের সময়ে কারিগরি তদারকি ও নিয়মিত যোগাযোগের অভাবে ঝাড়খণ্ডের গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ৮০০ মেগাওয়াটের ইউনিট বয়লার ত্রুটিতে বন্ধ হয়ে গেছে, যা গ্রিডের ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকালে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ৩৪৫ মেগাওয়াট, যার বিপরীতে উৎপাদন নেমে এসেছে মাত্র ১২ হাজার ৭৮৮ মেগাওয়াটে। ফলে এক লাফেই ঘাটতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৫৫৭ মেগাওয়াটে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যেখানে মেগা বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ওপর নির্ভর করে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিতের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল, সেখানে নতুন সরকারের সমন্বয়হীনতা ও সিদ্ধান্তহীনতায় আজ সচল বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদনও তলানিতে এসে ঠেকেছে। সময়মতো জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত ও বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো রক্ষণাবেক্ষণ করতে না পারলে এই সংকট আরও ভয়াবহ রূপ নেবে বলে মনে করছেন অভিজ্ঞ মহল।

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বাধিক পঠিত

সাম্প্রতিক মন্তব্য