Homeআন্তর্জাতিকহামলার ক্ষতিপূরণ হিসেবে বাজেয়াপ্ত ইরানি সম্পদ ব্যবহারের চিন্তা ট্রাম্পের

হামলার ক্ষতিপূরণ হিসেবে বাজেয়াপ্ত ইরানি সম্পদ ব্যবহারের চিন্তা ট্রাম্পের

ইরানের হামলায় ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ হিসেবে মার্কিন নিয়ন্ত্রণে থাকা বাজেয়াপ্ত তেহরানের তহবিল ব্যবহার করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গতকাল মঙ্গলবার মার্কিন করদাতাদের ওপর অতিরিক্ত বোঝা না চাপিয়ে তেহরানকে জবাবদিহির আওতায় আনার এটিই যৌক্তিক পথ বলে মন্তব্য করেন তিনি।মিশিগান যাওয়ার পথে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, মার্কিন নিয়ন্ত্রণে থাকা ইরানের অর্থই তাদের ঘটানো ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ হিসেবে ব্যবহার করা হবে। গালফ অঞ্চলে ইরানি বাহিনী বা তাদের প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর মাধ্যমে বাণিজ্য জাহাজে হামলার পর বৈশ্বিক তেল পরিবহনের এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, তারই ধারাবাহিকতায় এই বার্তা দিলেন ট্রাম্প।

জানা গেছে, মার্কিন অর্থ দপ্তর ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজের মেরামত খরচ, পণ্যের ক্ষতি এবং আঞ্চলিক মিত্রদের ওপর প্রভাব মূল্যায়ন করে এর বিস্তৃতি ও বাস্তবায়নের সময়সূচি চূড়ান্ত করছে। ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট গত জুন মাস থেকেই এই প্রস্তাব নিয়ে কাজ করছেন বলে তথ্য মিলেছে।ট্রাম্পের সমর্থকরা এই পদক্ষেপকে জবাবদিহি নিশ্চিতের ইতিবাচক প্রয়াস হিসেবে দেখলেও সমালোচকরা বলছেন, এতে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনার সুযোগ কমে যেতে পারে। তবে পুনর্ব্যবহারযোগ্য এই তহবিলের আইনি ভিত্তি বা কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া নিয়ে হোয়াইট হাউস তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত মন্তব্য করেনি। ইরান হুমকি দিয়ে বলেছে, জব্দকৃত ইরানি সম্পদ থেকে অর্থ গ্রহণকারী কোনো কম্পানি বা দেশকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে যেতে দেওয়া হবে না।

তেলের দাম আরো কমেছে : যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান পারস্পরিক হামলা থেকে বিরত থাকায় তেলের দামের পতন আরো অব্যাহত রয়েছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২.২ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৮৪.০৩ ডলারে নেমে এসেছে। ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে এর দাম ব্যারেলপ্রতি ছিল প্রায় ৭২ ডলার। এদিকে মার্কিন বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট অপরিশোধিত তেলের দাম ১.৭ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৮১.২০ ডলারে নেমে এসেছে।

মেলানিয়া-ব্যারনকে হত্যার হুমকি : মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পকে হত্যা করার জন্য ‘স্বাধীনতাসংগ্রামী’ ও ইসলামী প্রজাতন্ত্রের সমর্থকদের প্রতি আহবান জানিয়ে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে ইরানের আইআরজিসির সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি বার্তা সংস্থা। একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছেলে ব্যারন ট্রাম্পকেও হুমকির মুখে ফেলা হয়েছে।ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রকাশিত ওই ভিডিওতে মেলানিয়া ট্রাম্পের যাতায়াত রয়েছে বা সম্ভাব্য যাতায়াতের এমন কয়েকটি স্থানের কথা তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে তাঁর পছন্দের স্থান এবং যেসব দোকান থেকে তিনি কেনাকাটা করেন বলে জানা গেছে সেসব জায়গাও চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে ভিডিওটি নিয়ে ইরানি কর্তৃপক্ষ প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি কিংবা এটি সরকারের কোনো নীতি বা অবস্থানের প্রতিফলন কি না, সে বিষয়েও কিছু জানায়নি।

ট্রাম্পের লক্ষ্য নিয়েও বিভ্রান্তি : ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকার প্রতি মার্কিন নাগরিকদের সমর্থন কমছে। রয়টার্স/ইপসোসের নতুন এক জরিপে দেখা গেছে, প্রতি তিন মার্কিন নাগরিকের মাত্র একজন এ যুদ্ধকে সমর্থন করছে। একই সঙ্গে বেশির ভাগ মানুষের অভিযোগ, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনো স্পষ্ট করে বোঝাতে পারেননি যে এ যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য কী। জরিপে অংশ নেওয়া ৬৯ শতাংশ মার্কিন নাগরিকের মতে, যুক্তরাষ্ট্র কেন এ যুদ্ধে জড়িয়েছে এবং তাদের লক্ষ্য কী, সে বিষয়ে ট্রাম্প স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। 

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বাধিক পঠিত

সাম্প্রতিক মন্তব্য