ঘুমিয়ে ছিল দুই মাস বয়সী শিশুটি। ঘরে ঢুকে তার একটি পা জোরে মুচড়ে দিয়ে দ্রুত বেরিয়ে যান এক নারী। এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নরসিংদীর মাধবদীতে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
শিশুটির পরিবারের অভিযোগ, ভিডিওতে দেখা নারী শিশুটির চাচি রত্না বেগম। পারিবারিক বিরোধের জেরে তিনি শিশুটিকে নির্যাতন করতেন।
সম্প্রতি মাধবদী থানার আমদিয়া ইউনিয়নের পাইকারদী গ্রামে ঘটনাটি ঘটে। শিশুটি সায়েবা বেগম ও কাউসার মিয়ার সন্তান। মঙ্গলবার ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, জন্মের পর থেকে শিশুটি প্রায়ই অস্বাভাবিকভাবে কান্না করত। এতে তার মা সায়েবার সন্দেহ হয়, তার অনুপস্থিতিতে কেউ শিশুটিকে নির্যাতন করছে কি না। বিষয়টি জানতে ঘরে গোপনে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণের ব্যবস্থা করেন তিনি।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, রত্না ঘরে ঢুকে ঘুমন্ত শিশুটির একটি পা জোরে মুচড়ে দ্রুত বেরিয়ে যান। এরপর শিশুটি কান্না শুরু করলে তার মা ছুটে আসেন।
শিশুটির বাবা কাউসার মিয়া বলেন, ‘পারিবারিক কলহের জেরে আমার বড় ভাইয়ের স্ত্রী রত্না অগোচরে আমার সন্তানকে নির্যাতন করতেন। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য আমার স্ত্রী ঘরে মোবাইল ফোনে ভিডিও চালু করে রেখে যায়।’
তিনি বলেন, ভিডিওতে তার ভাইয়ের স্ত্রীকে শিশুটির পা জোরে মুচড়ে দিতে দেখা গেছে। তবে শিশুটির পা ভাঙেনি। বিষয়টি পারিবারিকভাবে সমাধান করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামাল হোসেন জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি জানার পর তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটির মা-বাবার সঙ্গে কথা বলেছেন।
তিনি বলেন, শিশুটির পা ভাঙেনি বলে পরিবার জানিয়েছে। তবে পারিবারিক কলহের জেরে শিশুটিকে নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


