Saturday, March 28, 2026
spot_imgspot_imgspot_imgspot_img
Homeঅর্থনীতিনাইকোর টেরংটিলা বিস্ফোরণে ৪২ মিলিয়ন ডলার জারিমানার রায়

নাইকোর টেরংটিলা বিস্ফোরণে ৪২ মিলিয়ন ডলার জারিমানার রায়

আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ বিরোধ নিষ্পত্তি সংক্রান্ত ট্রাইব্যুনাল (ইকসিড  নাইকো রিসোর্সেস-কে সুনামগঞ্জের টেংরাটিলা গ্যাস ক্ষেত্রে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় কানাডীয় কোম্পানি নাইকো রিসোর্সেস-কে ৪২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫১৩ কোটি টাকা) জরিমানা করেছে ।

 গ্যাস ও পরিবেশের অপূরণীয় ক্ষতির কারণ এই বিস্ফোরণ বলে রায়ে জানান হয়েছে ।

পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজানুর রহমান বৃহস্পতিবার রাতে সংবাদ মাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন । পেট্রোবাংলা সূত্র নিশ্চিত করে জানায় , রায়ে বিস্ফোরণে পুড়ে যাওয়া ৮ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের ক্ষতি বাবদ ৪০ মিলিয়ন ডলার এবং পরিবেশসহ অন্যান্য ক্ষতির জন্য ২ মিলিয়ন ডলার—  যা সব মিলিয়ে প্রায় ৪২ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে বলা হয়েছে।  যদিও বাংলাদেশ গ্যাসের ক্ষতি  ১১৮ মিলিয়ন এবং রাষ্ট্রের সমস্ত ক্ষতি হিসেবে  ৮৯৬ মিলিয়ন ডলার দাবী করেছিল । বাংলাদেশ এর পাশাপাশি পরিবেশগত ক্ষতি ও স্বাস্থ্যগত ক্ষতি যোগ করার আবেদন করে। 

 “ইকসিড থেকে ক্ষতিপূরণ বাবদ ৪২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বাংলাদেশকে  দিতে বলা হয়েছে বলে  জানান রেজানুর রহমান  । এখন তিনি  পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ দ্রুত গ্রহণ করা করার ব্যপারে  আইনজীবীদের মতামত নেয়ার কথা জানান  ।” 

সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার টেংরাটিলা গ্যাস ফিল্ডে কূপ খনন করার সময়  ২০০৫ সালের ৭ জানুয়ারি ও ২৪ জুন নাইকোর অবহেলায় দুই দফা ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। এতে বিপুল পরিমাণ গ্যাস সম্পদের ক্ষতির সঙ্গে  যোগ হয় পরিবেশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকি।এর পর থেকেই  গ্যাস ক্ষেত্রটি পরিত্যক্ত।

টেংরাটিলা বিস্ফোরণের পরপরই বাংলাদেশ নাইকোর কাছে ক্ষতিপূরণ বাবদ  ৭৪৬ কোটি টাকা দাবি করে। তবে নাইকো সরাসরি সেই দাবী পরিমাণ ক্ষতিপূরণ দিতে অস্বীকার করে। এরপর পেট্রোবাংলা,  নাইকোর ফেনী গ্যাস ফিল্ডের বিল প্রদান স্থগিত  করে । এর প্রতিবাদে  নাইকো ২০০৭ সালে স্থানীয় নিম্ন আদালতে মামলা দায়ের করে । পরবর্তীতে বিষয়টি হাইকোর্ট  তাদের সাথে সম্পাদিত চুক্তি বাতিলের আদেশ দেন এবং  বাংলাদেশে থাকা নাইকোর সব সম্পদ বাজেয়াপ্ত  করে।  এই আদেশের বিরুদ্ধে  নাইকো সুপ্রিম কোর্টে গেলে সেখানেও রায় বাংলাদেশের পক্ষেই থাকে। এরপর  নাইকো ২০১০ সালে আটকে রাখা গ্যাস বিল আদায় এবং ক্ষতিপূরণ না দেওয়ার উদ্দেশ্যে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল ইকসিডে দুটি মামলা করে । ২০১৪ সালে ইকসিড দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে এক রায়ে পেট্রোবাংলাকে ফেনী গ্যাসক্ষেত্রের পাওনা পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছিল। তবে সম্প্রতি এই  রায়ে টেংরাটিলা বিস্ফোরণের দায় ও ক্ষতিপূরণের বিষয়টি চূড়ান্ত হয় । 

তবে , রায়টি গত মাসেই সুনিশ্চিত হলেও আনুষ্ঠানিকতার কারনে  ঘোষণা না হওয়ায় পেট্রোবাংলা এতদিন এ বিষয়ে মতামত দেয়নি   বলে জানিয়েছে পেট্রোবাংলা কর্তৃপক্ষ । 

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

সাম্প্রতিক মন্তব্য