Homeপ্রবাসের খবরসংযুক্ত আরব আমিরাতবাতিল ৫ হাজার বাংলাদেশির ভিসা

সংযুক্ত আরব আমিরাতবাতিল ৫ হাজার বাংলাদেশির ভিসা

ছুটি কাটিয়ে কর্মস্থলে ফিরতে গিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন হাজার হাজার সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রবাসী বাংলাদেশি। কোনো ধরনের পূর্বঘোষণা ছাড়াই আবুধাবি ও দুবাই ইমিগ্রেশনে পৌঁছানোর পর কিংবা বাংলাদেশ ইমিগ্রেশন পার হওয়ার পর প্রবাসীরা জানতে পারছেন তাঁদের ভিসা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল (ক্যানসেল) হয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে আমিরাতের বিমানবন্দরেই কান্নায় ভেঙে পড়ছেন বছরের পর বছর মধ্যপ্রাচ্যে শ্রম দেওয়া রেমিট্যান্স যুদ্ধারা।

প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, গত ২২ জুলাই থেকে ভিসা বাতিলের এই সংকট সামনে আসতে শুরু করে। বর্তমানে দেশে ছুটিতে থাকা কিংবা আমিরাতে কর্মরত কর্মীদের মধ্যে অন্তত ৫ হাজার বাংলাদেশির ভিসা ইতিমধ্যে বাতিল হয়ে গেছে বলে বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছে।

ইমিগ্রেশনে নেমে আকাশ ভেঙে পড়ছে মাথায়

নোয়াখালীর তাহের হোসেনের মতো শত শত প্রবাসীর গল্প এখন একই রকম। ৮ বছর ধরে আবুধাবিতে লন্ড্রি দোকানে কাজ করা তাহের এক মাসের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরতে বিমানবন্দরে নেমে জানতে পারেন তাঁর ভিসা আর কার্যকর নেই। ঋণের বোঝা এবং পরিবারের অনিশ্চিত ভবিষ্যতের কথা ভেবে বিমানবন্দরের মেঝেতেই ভেঙে পড়েন তিনি। একই বিড়ম্বনায় বাধ্য হয়ে বিমানে আবার দেশে ফিরে আসতে হচ্ছে অনেককে।

ভিসা বাতিলের আশঙ্কায় নির্ধারিত ছুটির আগেই কর্মস্থলে ফেরার আকুল চেষ্টা চালাচ্ছেন অন্যান্য প্রবাসীরা। তবে এই সুযোগে বিমান টিকিটের দাম হয়ে উঠেছে লাগামহীন। ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকার একমুখী (ওয়ানওয়ে) টিকিট এখন বিক্রি হচ্ছে ৯০ হাজার থেকে এক লাখ টাকায়।

কী বলছে সরকার ও দূতাবাস

প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, এটি শুধু বাংলাদেশের একার সমস্যা নয়, পাকিস্তান ও নেপালের কর্মীদের ক্ষেত্রেও একই জটিলতা দেখা দিয়েছে। কারণ অনুসন্ধানে আমিরাতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী দেশে ফিরলে কূটনৈতিক চ্যানেলেও বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপন করা হবে।

আবুধাবিতে বাংলাদেশ দূতাবাস এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ভিসা বাতিলের বিষয়টি কারিগরি ত্রুটি নাকি অন্য কোনো কারণে ঘটেছে, তা জানতে আমিরাত সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত ৩০০ প্রবাসীর তথ্য দেশটির মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে এবং আরও প্রায় ১,৪০০টি আবেদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। একই সঙ্গে এ সমস্যা সমাধানের নামে কোনো দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীর সঙ্গে আর্থিক লেনদেন না করতে প্রবাসীদের সতর্ক করে দিয়েছে দূতাবাস।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রায় ১০ লাখেরও বেশি বাংলাদেশি নিয়োজিত রয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই শ্রমবাজারে এমন হঠাৎ সিদ্ধান্তে গভীর অনিশ্চয়তা ও উৎকণ্ঠার সৃষ্টি হয়েছে।

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বাধিক পঠিত

সাম্প্রতিক মন্তব্য