করদাতাদের সময়মতো ও আগাম আয়কর রিটার্ন দাখিলে উৎসাহিত করতে বিশেষ করছাড়ের সুবিধা চালু করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে রিটার্ন জমা দিলে করদাতারা পাবেন বিশেষ প্রণোদনা। হিসাব অনুযায়ী, কোনো করদাতার প্রযোজ্য আয়কর ১ লাখ টাকা হলে নির্ধারিত সময়ের আগে জমা দিলে তাঁকে ৯৫ হাজার টাকা দিলেই চলবে; অর্থাৎ তিনি ৫ হাজার টাকা ছাড় পাবেন।
এনবিআর কর্মকর্তা সূত্রে জানা গেছে, চলতি ২০২৬-২৭ করবর্ষ থেকে ‘আগে জমা দিলে ছাড়, দেরিতে দিলে জরিমানা’—এই নীতি চালু করা হয়েছে। বর্তমানে দেশে সোয়া এক কোটির বেশি কর শনাক্তকরণ নম্বরধারী (টিআইএন) রয়েছেন, যাদের জন্য এখন বছরজুড়েই রিটার্ন জমা দেওয়ার সুযোগ উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।
ত্রৈমাসিকভেদে ছাড় ও জরিমানার হিসাব
এনবিআরের সার্কুলার অনুযায়ী, অর্থবর্ষের প্রথম প্রান্তিকে অর্থাৎ জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে রিটার্ন জমা দিলে পরিশোধযোগ্য করের ওপর ৫ শতাংশ বা সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা (যেটি কম) ছাড় পাওয়া যাবে। ফলে কারও কর ৫০ হাজার টাকা হলে তিনি ২ হাজার ৫০০ টাকা ছাড় পাবেন।
তবে দ্বিতীয় প্রান্তিকে (অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর) রিটার্ন দিলে কোনো বিশেষ প্রণোদনা মিলবে না; মূল করের পুরোটাই পরিশোধ করতে হবে। অন্যদিকে নির্ধারিত সময়ের পর অর্থাৎ তৃতীয় প্রান্তিকে (জানুয়ারি থেকে মার্চ) রিটার্ন দাখিল করলে প্রদেয় করের ওপর ২ শতাংশ বা ৩ হাজার টাকা (যেটি বেশি) জরিমানা যুক্ত হবে। সে ক্ষেত্রে ১ লাখ টাকার করে অতিরিক্ত ৩ হাজার টাকা মিলিয়ে ১ লাখ ৩ হাজার টাকা পরিশোধ করতে হবে। আর চতুর্থ প্রান্তিকে (এপ্রিল থেকে জুন) রিটার্ন দিলে জরিমানার পরিমাণ বেড়ে দাঁড়াবে প্রদেয় করের ৫ শতাংশ বা ৫ হাজার টাকায় (যেটি বেশি)।
অনলাইনে ই-রিটার্ন দাখিলের নিয়ম
অনলাইনে ঘরে বসেই আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া যাবে। এজন্য এনবিআরের নির্দিষ্ট পোর্টালে লগইন করে ধাপে ধাপে করদাতার বার্ষিক মোট আয়, বিনিয়োগের বিবরণ, পারিবারিক ব্যয়, সম্পদ ও দায়-দেনার তথ্য পূরণ করতে হবে।
অনলাইন ই-রিটার্ন সিস্টেমে ব্যাংক ট্রান্সফার, ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড এবং বিকাশ, রকেট বা নগদের মতো মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) মাধ্যমে সরাসরি কর পরিশোধ করার সুবিধা রয়েছে। রিটার্ন সাবমিট করা সম্পন্ন হলে করদাতারা তাৎক্ষণিকভাবে অনলাইন থেকেই প্রাপ্তিস্বীকারপত্র ও আয়কর সনদ ডাউনলোড করে সংগ্রহ করতে পারবেন।


