ভালুকা উপজেলার হবিরবাড়ী ইউনিয়নের আওলাতলী গ্রামে মাদক বিক্রির অভিযোগে মা-ছেলেকে মাদকসহ আটক করে পুলিশে দিয়েছেন এলাকাবাসী। তাদের বসতঘর ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত চলে এ ঘটনা।
জানা গেছে, আওলাতলী গ্রামের পারভেজ, তাঁর মা পারভীন আক্তার এবং মামা মামুন দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক বিক্রি করে আসছেন। স্থানীয়রা বারবার তাদের মাদক বেচাকেনা বন্ধ করার অনুরোধ করে আসছিলেন। কিন্তু মাদক ব্যবসা বন্ধ করেননি তারা। সম্প্রতি একই দাবি নিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য ফখর উদ্দিন আহাম্মদ বাচ্চুর কাছে যান এলাকাবাসী।
তিনি প্রশাসনের সঙ্গে পরামর্শ করে এলাকাবাসীর সমন্বয়ে ওই এলাকায় মাদক প্রতিরোধ কমিটি গঠন করার পরামর্শ দেন। পরে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা ও মসজিদের ইমামের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়। মাদক কারবারে জড়িত ওই পরিবারকে আবারও সতর্ক করা হয়। তাতেও কোনো কাজ না হওয়ায় শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে মসজিদ থেকে মাইকিং করে এলাকাবাসীকে জড়ো করা হয়। পরে গ্রামবাসী ওই এলাকার জামাল ড্রাইভারের বাড়িতে হামলা চালায়।
মাদকসহ জামাল ড্রাইভারের স্ত্রী পারভীন আক্তার ও ছেলে পারভেজকে আটক করেন তারা। এ সময় তাদের বসতবাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। হামলার সময় পরিবারের অন্য সদস্যরা পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আটক পারভেজ ও তার মা পারভিন আক্তারকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন এলাকাবাসী।
আওলাতলী জামে মসজিদের খতিব মাওলানা শফিকুল ইসলাম শফিক জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় মাদকসহ পারভেজ ও তাঁর মামা মামুনকে গ্রেপ্তার করে সেনাবাহিনী। পরে মাদক মামলায় আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। কিছু দিন পর জামিনে মুক্তি পেয়ে আবারও মাদক বিক্রি শুরু করেন।
ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মকবুল হোসেন বলেন, কারাগারে পাঠানোর ১৫-২০ দিনের মধ্যে জামিন পেয়ে আবারও মাদক বেচাকেনা শুরু করে পরিবারটির সদস্যরা। তাই মাদক নির্মূলে প্রতিরোধ কমিটি করা হয়েছে। তাদের বাড়ি থেকে মাদকদ্রব্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এরপর এলাকাবাসীর উদ্যোগে মাদক কারবারিদের এলাকা থেকে উচ্ছেদের লক্ষ্যে বাড়িঘরে আগুন দেওয়া হয়।
হবিরবাড়ী ইউপির ২ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মো. শাহজাহানের ভাষ্য, তাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে মাদক বেচাকেনার অভিযোগ রয়েছে। একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছে। পরে একটি মাদক নির্মূল কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির সদস্য ও এলাকাবাসী তাদের বসতঘরে আগুন দেন এবং তাদের এলাকা ছাড়ার দাবি জানান।
তবে পরিবারটির বাকি সদস্যরা পালিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগের চেষ্টা করেও কারও বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
ভালুকা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, আটক পারভেজ ও তাঁর মা পারভীন আক্তারের নামে মাদক আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন। বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর দেওয়া আগুনে পারভেজের বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। তবে এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।


