যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসানীতি আরও কঠোর করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। ১৬ জুলাই দেওয়া আদেশ অনুযায়ী, ফেডারেল সরকারের অনুমতি ছাড়া কোনো বিদেশি শিক্ষার্থী চার বছরের বেশি যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে পারবেন না। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম পরিবর্তন এবং এক বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজ থেকে অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্রেডিট ট্রান্সফারের ক্ষমতাও সীমিত করা হবে। প্রসঙ্গত এত দিন এই ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর ক্ষমতা উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর হাতেই ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাবিষয়ক বিভাগ (ডিএইচএস) জানিয়েছে, আগামী সেপ্টেম্বর থেকে এই নতুন নীতি কার্যকর হবে। সংস্থাটির দাবি, এ পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো ‘ভিসার ব্যাপক অপব্যবহার মোকাবিলা করা এবং নিয়মিত যাচাইবাছাইয়ের (ভেটিং) মাধ্যমে জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার করা’। তবে আন্তর্জাতিক শিক্ষাবিদদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল এডুকেটরস নতুন এই নিয়মকে ‘ভুল পথে পরিচালিত এবং অপ্রয়োজনীয়’ বলে অভিহিত করেছে। এ ছাড়া নতুন নিয়মের অধীনে গ্র্যাজুয়েশন বা পড়াশোনা শেষ করার পর বিদেশি শিক্ষার্থীদের দেশ ছাড়ার অথবা অন্য ভিসার ক্যাটাগরিতে পরিবর্তনের জন্য মাত্র ৩০ দিন সময় দেওয়া হবে, যা আগে ছিল ৬০ দিন। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, চরমপন্থি, বামপন্থি ও সন্ত্রাসী সংগঠনের সমর্থকদের ভিসা নিষিদ্ধ থাকবে। ফুডস্ট্যাম্প, চিকিৎসাসেবাসহ অন্যান্য সুযোগ গ্রহণকারী নাগরিকদের স্বজনরা পারিবারিক কোটায় যুক্তরাষ্ট্রে আসতে পারবে না। ‘ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাশনালিটি অ্যাক্ট’-এর অধীনে ভিসা, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি বা অভিবাসন মর্যাদা পরিবর্তনের (স্ট্যাটাস অ্যাডজাস্টমেন্ট) জন্য আবেদনকারী ব্যক্তিকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অযোগ্য বলে গণ্য করা হবে।
গণমাধ্যমের ওপর ক্ষেপেছেন ট্রাম্প : ইরান যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যসংকট ও সামরিক অভিযান নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জের ধরে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস, সিএনএন, এবিসি, এনবিসির ওপর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনকে ‘রাষ্ট্রদ্রোহমূলক’ এবং সিএনএনকে ‘নির্বোধ’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। সূত্র : রয়টার্স। প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ টেলিভিশন নেটওয়ার্কের মধ্যে দুটি এবং সিএনএন গত বৃহস্পতিবার রাতে তাদের মূল টেলিভিশন চ্যানেলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভাষণ সরাসরি সম্প্রচার করেনি। এতে ক্ষুব্ধ হয়েছেন ট্রাম্প। ট্রাম্প অভিযোগ করেন, যেসব টেলিভিশন নেটওয়ার্ক তাঁর ভাষণ সরাসরি দেখায়নি, তারা একটি ‘ষড়যন্ত্রে’ জড়িত। তিনি বলেন, এসব নেটওয়ার্কের সম্প্রচার লাইসেন্স বাতিল করা উচিত। ট্রাম্প বলেন, ‘ভুয়া সংবাদমাধ্যম এনবিসি ও এবিসি দুটি ঘোষণা দিয়েছে, তারা আমার এই ভাষণ সম্প্রচার করবে না, যা বিরল ঘটনা।’ তিনি আরও বলেন, ‘এ ধরনের ধোঁকাবাজির শাস্তি হিসেবে তাদের সম্প্রচার লাইসেন্স বাতিল করা উচিত।’
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনী অনুযায়ী, কোন টেলিভিশন নেটওয়ার্ক কী সম্প্রচার করবে- সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা তাদের আছে। যদিও অতীতে দেখা গেছে, জনস্বার্থের বিষয় বিবেচনায় এমন ভাষণগুলো বেশির ভাগ সম্প্রচারমাধ্যমই সরাসরি প্রচার করেছে।


