Homeখেলাঅনন্ত যাত্রায় কিংবদন্তি স্যার গ্যারি সোবার্স

সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডার
অনন্ত যাত্রায় কিংবদন্তি স্যার গ্যারি সোবার্স

ক্রিকেটের ইতিহাসের এক সোনালি অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল। না-ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডার ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ কিংবদন্তি স্যার গ্যারি সোবার্স। অনন্তের পথে পা বাড়ানোর সময় তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর। তাঁর মৃত্যুতে শুধু ওয়েস্ট ইন্ডিজই নয়, পুরো ক্রিকেটবিশ্বই শোকস্তব্ধ।

১৯৩৬ সালের ২৮ জুলাই বার্বাডোজে জন্ম নেওয়া সোবার্সের ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে টেস্ট অভিষেক হয়েছিল মাত্র ১৭ বছর বয়সে। শুরুটা হয়েছিল বাঁহাতি স্পিনার হিসেবে; কিন্তু সময়ের সঙ্গে নিজেকে রূপ দেন পূর্ণাঙ্গ অলরাউন্ডারে।

বাঁহাতি ব্যাটিংয়ের সৌন্দর্য, বাঁহাতি ফাস্ট-মিডিয়াম, অর্থোডক্স স্পিন ও চায়নাম্যান—একজন ক্রিকেটারের যে এত বৈচিত্র্য থাকতে পারে, সোবার্স তার একমাত্র উদাহরণ। ১৯৫৮ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে কিংস্টনে সোবার্স খেলেছিলেন ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় ইনিংস। মাত্র ২১ বছর বয়সে অপরাজিত ৩৬৫ রান করে ভেঙে দিয়েছিলেন লেন হাটনের সর্বোচ্চ টেস্ট ইনিংসের বিশ্বরেকর্ড। প্রায় ৩৬ বছর সেই রেকর্ড অক্ষুণ্ন ছিল।

পরে ১৯৯৪ সালে সোবার্সের স্বদেশী ব্রায়ান লারা ৩৭৫ রান করে সেটি ভাঙেন, সেই রেকর্ড ভাঙার দিন সোবার্স নিজেও উপস্থিত ছিলেন মাঠে।

সোবার্স ৯৩টি টেস্টে করেছেন ৮,০৩২ রান। গড় ৫৭.৭৮। ২৬টি সেঞ্চুরি এবং ৩০টি ফিফটির পাশাপাশি নিয়েছেন ২৩৫ উইকেট। ক্যাচ নিয়েছেন ১০৯টি।পরিসংখ্যানই বলে দেয়, তিনি শুধু একজন দুর্দান্ত ব্যাটার ছিলেন না; ছিলেন ম্যাচের গতিপথ একাই বদলে দেওয়ার ক্ষমতাসমপন্ন অলরাউন্ডার। ১৯৬৮ সালে ইংল্যান্ডের কাউন্টি ক্রিকেটে নটিংহ্যামশায়ারের হয়ে খেলতে গিয়ে এক ওভারে টানা ছয়টি ছক্কা হাঁকিয়ে ইতিহাস গড়েছিলেন সোবার্স। ম্যালকম ন্যাশকে উড়িয়ে দেওয়া সেই ওভার আজও ক্রিকেটের সবচেয়ে আইকনিক মুহূর্তগুলোর একটি। অধিনায়ক হিসেবেও ওয়েস্ট ইন্ডিজকে নেতৃত্ব দিয়েছেন দীর্ঘ সময়। তাঁর নেতৃত্বে ক্যারিবীয় ক্রিকেট নতুন দিগন্ত দেখেছিল। পরবর্তী সময়ে ক্লাইভ লয়েড ও ভিভ রিচার্ডসদের যে বিশ্বশাসনের যুগ, তার ভিত্তি তৈরি হয়েছিল অনেকটাই সোবার্সের সময়ে। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞ, সাবেক খেলোয়াড় ও সমর্থকদের চোখে সোবার্স ছিলেন ‘পরিপূর্ণ ক্রিকেটার’।

অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি রিচি বেনো একবার বলেছিলেন, ‘তিনি এমন একজন ক্রিকেটার, যিনি খেলার প্রতিটি বিভাগে বিশ্বসেরাদের একজন হতে পারতেন।’ আর স্যার ডোনাল্ড ব্র্যাডম্যানও তাঁকে ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে পরিপূর্ণ ক্রিকেটারদের একজন হিসেবে আখ্যা দিয়েছিলেন। ২০০৯ সালে আইসিসি হল অব ফেমে অন্তর্ভুক্ত হন তিনি। এরও আগে ১৯৭৫ সালে ব্রিটিশ রাজপরিবারের পক্ষ থেকে নাইটহুড লাভ করেছিলেন সোবার্স। ক্রিকেটে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বিশ্বের নানা প্রান্তে পেয়েছেন অসংখ্য সম্মাননা। গ্যারি সোবার্সের বিদায়ের মধ্য দিয়ে শেষ হলো ক্রিকেটের এক জীবন্ত কিংবদন্তির অধ্যায়। তাঁর বিদায়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক পোস্টে ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজ লিখেছে, ‘একটি মহাকাব্যিক ইনিংসের সমাপ্তি ঘটল। আপনি আমাদের হৃদয়ে এখন যেমন আছেন, তেমনি চিরকালই থাকবেন স্যার গারফিল্ড সোবার্স।’

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বাধিক পঠিত

সাম্প্রতিক মন্তব্য