সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উগ্রবাদী ও বিভেদমূলক পোস্ট দেয়ার অভিযোগে সিঙ্গাপুরে কর্মরত দুই বাংলাদেশী শ্রমিকের ওয়ার্ক পারমিট বাতিল করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। তদন্ত শেষে তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে সিঙ্গাপুরের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ (আইএসডি)। ওই দুই বাংলাদেশী দেশটির নির্মাণ শিল্পে কর্মরত ছিলেন। সিঙ্গাপুরভিত্তিক গণমাধ্যম স্ট্রেট টাইমসের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা গেছে।
গতকাল এক বিবৃতিতে আইএসডি জানায়, ২৫ বছর বয়সী তায়ানি মো. রিসাদ ও ৩৭ বছর বয়সী ইসলাম সাহেদুলকে পৃথকভাবে তদন্ত করা হয়। তদন্ত শেষে তাদের ওয়ার্ক পারমিট বাতিল করে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। আইএসডির তথ্য অনুযায়ী, রিসাদ তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে মৌলবাদের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেছিলেন। অন্যদিকে ইসলাম সাহেদুল ইসরায়েল-ইরান সংঘাত নিয়ে উসকানিমূলক পোস্ট করেন। পাশাপাশি ধর্মীয় বিভেদমূলক মতামত প্রকাশ করেন।
আইএসডি জানিয়েছে, এ দুই ব্যক্তি সিঙ্গাপুরে কোনো সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন এমন কোনো প্রমাণ তদন্তে পাওয়া যায়নি। তারা সিঙ্গাপুরে আসার আগে উগ্রবাদে জড়িয়ে পড়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নেয়া অন্য কোনো মামলার সঙ্গেও সম্পৃক্ত নন। আইএসডির এক মুখপাত্র বলেন, ‘তাদের উগ্রবাদী ও বিভেদমূলক মতাদর্শ সিঙ্গাপুরের বহুজাতিক ও বহু ধর্মীয় সমাজ ব্যবস্থার জন্য ক্ষতিকর।’
বাংলাদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে স্ট্রেট টাইমস জানিয়েছে, গত ৮ জুলাই ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছার পর তাদের আটক করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ সময় তাদের কাছ থেকে তিনটি মোবাইল ফোন ও তিনটি পাসপোর্ট জব্দ করা হয়। পরদিন ৯ জুলাই তাদের ঢাকার একটি আদালতে হাজির করা হয়। আরো জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। আদালতে দেয়া আবেদনে পুলিশ জানায়, সিঙ্গাপুরে অবস্থানকালে জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কথা তারা স্বীকার করেছেন। রিমান্ড মঞ্জুর করার সময় বিচারক দুই আসামিকে তাদের উগ্রপন্থী সংশ্লিষ্টতা নিয়ে প্রশ্ন করেন। তিনি বলেন, ‘আপনারা তো রেমিট্যান্স যোদ্ধা। এসব বিষয়ে জড়ানোর প্রয়োজন কী ছিল?’
প্রসঙ্গত, সিঙ্গাপুর উগ্রবাদ, সন্ত্রাসবাদ, ধর্মীয় বিদ্বেষ ও সামাজিক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে পারে এমন যেকোনো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে বিশ্বের অন্যতম কঠোর অবস্থান অনুসরণ করে। দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা আইন অনুযায়ী, চরমপন্থী মতাদর্শ প্রচার, সন্ত্রাসবাদে সমর্থন বা ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগে কোনো বিদেশী নাগরিককে ফৌজদারি মামলা ছাড়াই তদন্ত, আটক, ওয়ার্ক পারমিট বাতিল এবং দেশ থেকে বহিষ্কারের মতো ব্যবস্থা নেয়ার বিধান রয়েছে।


