গাজায় ফিলিস্তিনি শিশুদের ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যার মাধ্যমে ইসরায়েল গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত করেছে বলে অভিযোগ করেছে জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশন।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর গাজায় শুরু হওয়া সংঘাতে শিশুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত নির্যাতন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা পর্যালোচনা করে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।
কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, গাজায় নিহতদের প্রায় ৩০ শতাংশই শিশু। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত অন্তত ২০ হাজার ১৭৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতির পরও শিশুদের লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা ফিলিস্তিনিদের সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ধ্বংস করার উদ্দেশ্যের ইঙ্গিত দেয়।
তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০০৮-০৯ এবং ২০১৪ সালের সংঘাতের তুলনায় এবার শিশু মৃত্যুর হার আরও বেড়েছে। কমিশনের মতে, এত বিপুল সংখ্যক শিশুর মৃত্যু কেবল পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নয়, বরং পরিকল্পিত হামলার ফল।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ধারাবাহিক বোমা হামলা, বাস্তুচ্যুতি, খাদ্য ও ওষুধ সংকট এবং ত্রাণে বাধার কারণে শিশুদের স্বাস্থ্য ও স্বাভাবিক বিকাশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলার ফলে নবজাতকদের মৃত্যুঝুঁকি বেড়েছে এবং গর্ভপাতের ঘটনাও বৃদ্ধি পেয়েছে।
একই সঙ্গে অধিকৃত পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমেও ফিলিস্তিনি শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা, গণগ্রেপ্তার, নির্যাতন ও যৌন সহিংসতার অভিযোগ তুলে ধরেছে কমিশন। এসব কর্মকাণ্ডকে মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।
তবে ইসরায়েল এ প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে। জেনেভায় দেশটির মিশন একে ‘মিথ্যা ও মানহানিকর প্রচারণা’ বলে দাবি করেছে এবং অভিযোগ করেছে যে প্রতিবেদনে হামাসের কর্মকাণ্ডকে উপেক্ষা করা হয়েছে।


