তীব্র তাপপ্রবাহে পুড়ছে যুক্তরাজ্য। রাজধানী লন্ডনসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ‘রেড এক্সট্রিম হিট ওয়ার্নিং’ জারি করেছে আবহাওয়া বিভাগ। পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে, যা জুন মাসের নতুন রেকর্ড হতে পারে।
প্রচণ্ড গরমের মধ্যেও লাখো মানুষকে অফিস ও কর্মস্থলে যেতে হচ্ছে। বিশেষ করে পুরোনো ভবন এবং পর্যাপ্ত শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা না থাকা কর্মস্থলগুলোতে কর্মীদের দুর্ভোগ বেড়েছে।
যুক্তরাজ্যের কর্মক্ষেত্র নিরাপত্তা আইনে নিয়োগকর্তাদের কর্মীদের জন্য যুক্তিসঙ্গত তাপমাত্রা ও পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে কর্মক্ষেত্রের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা কত হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো নির্দিষ্ট আইনি সীমা নির্ধারণ করা হয়নি।
হেলথ অ্যান্ড সেফটি এক্সিকিউটিভের (এইচএসই) নির্দেশনা অনুযায়ী, অতিরিক্ত গরমে কর্মীরা নিয়োগকর্তার কাছে অভিযোগ করতে পারেন। একাধিক কর্মী অভিযোগ করলে প্রতিষ্ঠানকে ঝুঁকি মূল্যায়ন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হয়। পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানীয় জলের ব্যবস্থা নিশ্চিত করাও নিয়োগকর্তার দায়িত্ব।
তবে গরমের কারণে কর্মীরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাড়ি চলে যাওয়ার অধিকার পান না। এ বিষয়ে নিয়োগকর্তার সিদ্ধান্তই কার্যকর থাকে।
এদিকে কর্মক্ষেত্রে সর্বোচ্চ তাপমাত্রার আইনি সীমা নির্ধারণের দাবি জোরালো হচ্ছে। ট্রেডস ইউনিয়ন কংগ্রেস (টিইউসি) বলেছে, অতিরিক্ত গরমে কাজ করলে পানিশূন্যতা, জ্ঞান হারানো, ত্বকের ক্ষতি এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ে। খোলা জায়গায় কর্মরত শ্রমিকদের ত্বকের ক্যান্সারের ঝুঁকিও বেশি।
বিশেষজ্ঞরা প্রবাসী বাংলাদেশিসহ শারীরিক শ্রমনির্ভর পেশায় নিয়োজিত কর্মীদের নিয়মিত পানি পান, দীর্ঘ সময় রোদে কাজ এড়িয়ে চলা, হালকা পোশাক পরা এবং অসুস্থ বোধ করলে দ্রুত নিয়োগকর্তাকে জানানোর পরামর্শ দিয়েছেন।


