Homeজাতীয়সেচের পাইপ বসানোর নামে শত কোটি টাকার বাণিজ্য

সেচের পাইপ বসানোর নামে শত কোটি টাকার বাণিজ্য

বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) প্রায় সাড়ে পাঁচশত কোটি টাকার সেচ প্রকল্পে কৃষকদের কাছ থেকে অবৈধভাবে অন্তত পাঁচ কোটি টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠিয়াছে। অঘোষিত অপারেটর ও বিএমডিএর এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে নির্দিষ্ট অংশগ্রহণ ফির বাইরে শত কোটি টাকা অর্থ বাণিজ্যের ছক কষা হইয়াছে বলিয়া চরম ক্ষোভ প্রকাশ করিয়াছেন ভুক্তভোগী চাষিরা।

খোঁজ লইয়া জানা গেছে, রাজশাহী, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ অঞ্চলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর রক্ষায় ‘ডাবল লিফটিং’ পদ্ধতিতে পদ্মা নদী হইতে পানি উত্তোলন করিয়া বরেন্দ্র এলাকায় সরবরাহের প্রকল্প হাতে নেয় বিএমডিএ। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে শুরু হওয়া ৫৪৮ কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্প ২০২৭ সালের জুনে শেষ হইবার কথা। খালের পানি সৌরবিদ্যুৎ চালিত পাম্পের মাধ্যমে জমিতে পৌঁছাইতে ১৬০ জন অপারেটর নিয়োগের প্রক্রিয়া চলিতেছে। নিয়ম অনুযায়ী পাইপ বসাইতে বিএমডিএ নির্ধারিত অংশগ্রহণ ফি ৫০ হাজার টাকা। অথচ মাঠপর্যায়ে অঘোষিত অপারেটররা আদায় করিতেছেন ৭০ হাজার টাকা। অতিরিক্ত টাকা বিএমডিএর একাধিক কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারা হইবার অভিযোগ উঠিয়াছে।

বিঘাপ্রতি ১ হাজার টাকা চাঁদা দাবি, অনিয়মের পাহাড়

নিয়োগ চূড়ান্ত হইবার পূর্বেই স্থানীয় প্রভাবশালী নেতা ও স্বঘোষিত অপারেটররা বিঘাপ্রতি ১ হাজার টাকা চাঁদা ধার্য করিয়াছেন। বিএমডিএর অধীন ১০ হাজার ২৫০ হেক্টর জমির মালিকদের নিকট হইতে জোরপূর্বক এই টাকা তোলা হইতেছে। টাকা না দিলে বোরো মৌসুমে জমিতে সেচের পানি না দেওয়ার হুমকি দেওয়া হইতেছে। ফলে তানোর, গোদাগাড়ী ও পবার শত শত কৃষক বাধ্য হইয়া টাকা দিতেছেন। কেবল একটি এলাকা হইতেই সাড়ে তিন লাখ টাকা তোলার প্রমাণ মিলিয়াছে। পুরো প্রকল্পে এই চাঁদার পরিমাণ ১০০ কোটি টাকা ছাড়াইতে পারে বলিয়া আশঙ্কা করা হইতেছে।

শুধু অর্থ বাণিজ্যই নয়, পাইপলাইন স্থাপনেও চরম অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। নির্ধারিত সিডিউল অনুযায়ী পাইপের ওপর-নিচে বালু দেওয়ার কথা থাকিলেও তাহা না করিয়া ধানের চারা উপড়াইয়া কাটা গর্তে কেবল মাটি চাপা দেওয়া হইতেছে। ফলে জমিতে পাইপ ফেটে স্থায়ী ক্ষতি হইবার আশঙ্কায় রহিয়াছেন প্রশাদপাড়া ও বাবুপুর এলাকার কৃষকেরা।

বিএমডিএ কর্মকর্তাদের প্রতিক্রিয়া

অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রকল্পের পরিচালক ও বিএমডিএর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শিবির আহমেদ বলেন, “পাইপলাইনের ফি ৫০ হাজার টাকাই ধার্য রহিয়াছে। অপারেটর নিয়োগ আগামী নভেম্বরের পূর্বে শুরু হইবে না। কেহই যদি নিজেদের অপারেটর দাবি করিয়া বাড়তি টাকা তোলে, তবে অভিযোগ পাইলে ব্যবস্থা নেওয়া হইবে। আর বালু ব্যবহারের বিষয়টি সিডিউলে রাখা হয় নাই, তাই মাটি দিয়াই ভরাট করা হইতেছে।”

তবে জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া এবং সাবস্টেশন নির্মাণ কাজ থমকে থাকায় নির্ধারিত মেয়াদে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়া লইয়া সংশয় প্রকাশ করিয়াছেন খোদ প্রকল্প পরিচালকই। একদিকে সরকারি অর্থায়নে ধীরগতি, অন্যদিকে স্থানীয় সিন্ডিকেটের পকেট ভারী করিবার এই মহোৎসবে চরম হতাশায় দিন পার করিতেছেন বরেন্দ্র অঞ্চলের প্রান্তিক কৃষকেরা।

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বাধিক পঠিত

সাম্প্রতিক মন্তব্য