১৯৭১ সালে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের রক্তে কেনা আমাদের স্বাধীন বাংলাদেশ। অর্ধশতাব্দী পর সেই মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা তৈরিতে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা প্রস্তাব সত্যিই বিস্ময়কর। যে দেশ ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার নগ্ন বিরোধিতা করেছিল, তাদের এই আগ্রহ ।
ইতিহাসের সত্য মুছে ফেলা সম্ভব নয়। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনী যখন গণহত্যা চালাচ্ছিল, ওয়াশিংটন তখন তাদের সমর্থন দিয়েছিল। তারা বঙ্গোপসাগরে সপ্তম নৌবহর পাঠিয়েছিল। বাঙালিদের আন্দোলন থামাতে জাতিসংঘেও বারবার চক্রান্ত করেছিল। যে শক্তি বাংলাদেশের জন্ম রুখতে চেয়েছিল, তাদের হাতে ইতিহাস তুলে দেওয়া এক চরম ঐতিহাসিক উপহাস।
বিষয়টি শুধু ইতিহাসের বৈপরীত্য নয়, জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও ঝুঁকি। মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা কেবল কোনো প্রশাসনিক ফাইল নয়। এটি আমাদের জাতীয় আত্মপরিচয় এবং স্বাধীনতার মূল ভিত্তি। একটি বিদেশি শক্তিকে এই স্পর্শকাতর নথির দায়িত্বে দেওয়া মানে সার্বভৌমত্বকে হুমকির মুখে ফেলা। কোন বীর মুক্তিযোদ্ধা আর কে নন, তা নির্ধারণ করার অধিকার কোনো ভিনদেশি শক্তির নেই।
নিজের দেশের বীরদের তালিকা করার পূর্ণ সক্ষমতা বাংলাদেশের আছে। তালিকায় কোনো ভুল থাকলে তা আমাদের নিজেদেরই সংশোধন করতে হবে। অভ্যন্তরীণ দুর্বলতার অজুহাতে ইতিহাসের চাবি বিদেশি শক্তির হাতে তুলে দেওয়া যায় না।
৭১-এ যাদের ভূমিকা ছিল রক্তক্ষয়ী, তাদের সহায়তায় ইতিহাস সাজানো বীরদের অবমাননা। সরকারের উচিত এই ধরনের আত্মঘাতী চিন্তা থেকে অবিলম্বে সরে আসা।


