নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন ও ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালের বৈঠক এক দিন পিছিয়ে আজ মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ১১টায় সংসদ ভবনের ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের দপ্তরে অনুষ্ঠেয় এই বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হবে।
নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘মহামান্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়ে মাননীয় স্পিকার মহোদয়ের সঙ্গে সিইসির নেতৃত্বে ফুল কমিশন সাক্ষাৎ করবে।’
গতকাল সিইসি ও ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। রবিবার ইসি সচিবালয় থেকে স্পিকারের সাক্ষাৎ চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়।
সংসদ সচিবালয় থেকেও ইসিকে চিঠি দিয়ে জানানো হয়, সোমবার সকাল সাড়ে ১১টায় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। ইসি সব ধরনের প্রস্তুতি নিলেও সোমবার সকালে সেই বৈঠক স্থগিত করা হয়। ইসি, সংসদ সচিবালয় ও সিইসির দপ্তর সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। গতকালের বৈঠক স্থগিতের কারণ হিসেবে জানা গেছে, এদিন সকালে জাতীয় সংসদের সাউন্ড সিস্টেম প্রতিস্থাপন বিষয়ে উচ্চ পর্যায়ের এক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সংসদ ভবনের মন্ত্রিপরিষদ সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এই সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান। এতে সভাপতিত্ব করেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। এ কারণে সিইসির সঙ্গে ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের বৈঠকটি স্থগিত করে এক দিন পেছানো হয়েছে।
নির্বাচন আইন ১৯৯১ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে স্পিকারের সঙ্গে সিইসিকে সাক্ষাৎ করতে হয়। সাক্ষাতে নির্বাচনের ভোটগ্রহণের দিন সংসদের বৈঠক নিশ্চিত করারও বাধ্যবাধকতা রয়েছে।এই আইনের ৫ ধারা অনুসারে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য তফসিল ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন। এর আগের নির্বাচনগুলোতে স্পিকারের সঙ্গে সিইসির সাক্ষাৎ পর্ব শেষ হওয়ার পর দু-এক দিনের মধ্যে তফসিল ঘোষণা করা হয়েছিল।
তবে নির্বাচন সম্পন্ন করার জন্য ভোটগ্রহণ পর্যন্ত পৌঁছানোর প্রয়োজন হয় না। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় পার হলেই একক প্রার্থী হিসেবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার ঘটনা ঘটে। জাতীয় সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দল প্রার্থী মনোনয়ন চূড়ান্ত করলেই জানা যায় কে হচ্ছেন পরবর্তী রাষ্ট্রপতি। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
এর আগে গত রবিবার সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিনসহ অন্য চার নির্বাচন কমিশনার ও ইসি সচিব রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বিষয়ে অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করেন। বৈঠকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আইনি দিক পর্যালোচনা করেন তাঁরা। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংসদ সচিবালয়কে চিঠি দিয়ে স্পিকারের সাক্ষাৎ চাওয়া হয়।


