Homeআন্দোলন সংগ্রামমার্কিন বাণিজ্যচুক্তিকে ‘লাল কার্ড’ প্রদর্শন

মার্কিন বাণিজ্যচুক্তিকে ‘লাল কার্ড’ প্রদর্শন

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তিকে ‘ফাউল’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে এর প্রতি লাল কার্ড প্রদর্শন করেছে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি। অধিকার কমিটির নেতারা বলেছেন, এই চুক্তি ভয়াবহ বাংলাদেশবিরোধী। এটিকে কোনোভাবেই চুক্তি বলা যায় না। এটাকে বলতে হবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটা আদেশনামা, একটা হুকুমনামা।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী মার্কিন বাণিজ্যচুক্তিসহ জাতীয় স্বার্থবিরোধী সব চুক্তি বাতিলের দাবিতে গতকাল শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গণজমায়েত কর্মসূচির আয়োজন করে অধিকার কমিটি। কর্মসূচি থেকে এই চুক্তির প্রতি লাল কার্ড দেখিয়ে এর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সব পর্যায়ের মানুষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

সমাবেশের সমাপনী বক্তা ছিলেন গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্য অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তিকে ‘ভয়াবহ বাংলাদেশবিরোধী চুক্তি’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র সরকার চুক্তির ৩২ পৃষ্ঠার যে দলিল প্রকাশ করেছে, সেটা পড়লে দেখা যাবে কোনোভাবেই এটাকে চুক্তি বলা যায় না। এটাকে বলতে হবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটা আদেশনামা, একটা হুকুমনামা।’ এই চুক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সব পর্যায়ের মানুষের প্রতি তিনি আহ্বান জানান।

চুক্তির সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে আনু মুহাম্মদ বলেন, পোলট্রি, মাছ, ডিমসহ দেশের অন্যান্য সম্ভাবনাময় ক্ষুদ্র শিল্প এই চুক্তির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এই ক্ষুদ্র শিল্পগুলোতে লাখ লাখ মানুষ যুক্ত, সেগুলো বড় বিপর্যয়ের মধ্যে পড়বে। দেশে কর্মসংস্থান সমস্যা আরও বাড়বে। এ ছাড়া বিনা শুল্কে মার্কিন পণ্য আমদানির কারণে সরকারের রাজস্ব আয়ও কমবে। তখন রাজস্ব আয় করতে সরকার দেশের মানুষের ওপর নতুন কর বসাবে। আবার বেশি দামে যখন যুক্তরাষ্ট্র থেকে পণ্য আনতে হবে, ফলে সেই বেশি দামের জিনিস মানুষ কিনবে না। তখন সরকারকে ভর্তুকি দিতে হবে। সব মিলিয়ে মানুষের ওপর বোঝা চলে আসবে।

সংসদে এই চুক্তি নিয়ে আলোচনা না হওয়ার তীব্র সমালোচনা করে আনু মুহাম্মদ বলেন, সংসদে থাকা রাজনৈতিক দলগুলো এই দাসত্বের চুক্তির বিষয়ে সম্পূর্ণভাবে নীরব থাকার ব্যাপারে অসম্ভব রকম নীরবতার ঐক্য তৈরি করেছে।

এই চুক্তি অনুযায়ী মেধাস্বত্বের বিষয়টি কার্যকর হলে দেশের মানুষের ওষুধের প্রাপ্যতা থাকবে না বলে জানান চিকিৎসক ও অধিকার কমিটির সদস্য হারুন অর রশিদ। তিনি বলেন, তখন ওষুধের যে দাম দাঁড়াবে, সেই দামে অনেক মানুষ আর ওষুধ কিনতে পারবে না।

একটা পররাজ্য দখলের পর দখলদার দেশ যে ভাষায় চুক্তি করে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া চুক্তিটির ভাষা সে রকম বলে মন্তব্য করেন বাংলাদেশ জাসদের অন্যতম জ্যেষ্ঠ নেতা মুশতাক হোসেন। তিনি সরকারের উদ্দেশে বলেন, সংসদের আগামী অধিবেশনেই এই চুক্তি বাতিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিন।

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন বলেন, ‘ভারত আমাদের লুণ্ঠন করলে খারাপ, যুক্তরাষ্ট্র করলে ভালো, সেটা হতে পারে না। আমাদের দেশকে যে–ই লুটতে আসবে, তাদের প্রতিরোধ করতে হবে।’

ব্যাক–ডোর নেগোসিয়েশন

মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে নির্বাচিত জাতীয় সংসদে আলোচনা না হওয়ার কড়া সমালোচনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সামিনা লুৎফা। তিনি বলেন, ‘সংসদের এ ধরনের আচরণকে আমরা সবাই মিলে না বলি।’ যে শুল্ক থেকে বাঁচার জন্য এই চুক্তি করা হয়েছিল, সেই শুল্ক খোদ মার্কিন দেশেই বাতিল হয়ে গেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

কোন ব্যাক-ডোর নেগোসিয়েশন বা ডিলের কারণে বর্তমান সংসদের সদস্যরা এই চুক্তির বিষয়ে নীরব, সেই প্রশ্ন তুলে শিক্ষক ও গবেষক মাহা মির্জা বলেন, যেকোনো চুক্তি হওয়ার আগে তার প্রতিটি অনুচ্ছেদ নিয়ে সংসদে পুঙ্খানুপুঙ্খ আলোচনা হবে—জুলাইয়ের এই আকাঙ্ক্ষাকে রীতিমতো পায়ে দলে যাওয়া হচ্ছে।

কর্মসূচিতে অন্যদের মধ্যে অধিকার কমিটির সদস্য সীমা দত্ত বক্তব্য দেন। বামপন্থী বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ও দলের নেতা–কর্মীরা এ কর্মসূচিতে অংশ নেন। আয়োজনে নাটক, গান ও আবৃত্তি পরিবেশনার ফাঁকে ফাঁকে চলে বক্তৃতা।

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বাধিক পঠিত

সাম্প্রতিক মন্তব্য