Homeজাতীয়তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপরে, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপরে, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এতে লালমনিরহাট ও নীলফামারীর তিস্তাপাড়ের বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চল প্লাবিত হতে শুরু করেছে।

মঙ্গলবার বিকেলে তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে পানির প্রবাহ রেকর্ড করা হয়েছে বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে। পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ঘরবাড়ি ও ফসলি জমিতে পানি ঢুকছে, দেখা দিয়েছে বন্যা ও নদীভাঙনের শঙ্কা।

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা, কালীগঞ্জ, আদিতমারী ও সদর উপজেলার বেশ কয়েকটি চরাঞ্চলে ইতোমধ্যে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, আমন ধানের বীজতলা ক্ষতির মুখে পড়েছে।

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার তিস্তাপাড়ের চরাঞ্চল ও নিম্নভূমিতেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা সম্ভাব্য বন্যা মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা বলছেন, আগামী ৭২ ঘণ্টা বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে তিস্তার পানি আরও বাড়তে পারে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে সার্বক্ষণিক নজরদারি করা হচ্ছে।

অন্যদিকে কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তা ও দুধকুমার নদীর পানি বাড়লেও এখনো বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। তবে নদীভাঙন তীব্র হওয়ায় জেলার অন্তত ৩৫টি স্থানে ক্ষয়ক্ষতি দেখা দিয়েছে। অনেক পরিবার ঘরবাড়ি সরিয়ে নিতে শুরু করেছে।

এদিকে সিলেট অঞ্চলের নদ-নদীর পানি কিছুটা কমলেও বন্যার শঙ্কা পুরোপুরি কাটেনি। ভারতের মেঘালয়ে ভারী বৃষ্টির কারণে পাহাড়ি ঢল অব্যাহত থাকায় সীমান্তবর্তী ও নিম্নাঞ্চলের অনেক এলাকা এখনো প্লাবিত রয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, উজানে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় তিস্তা অববাহিকাসহ কয়েকটি এলাকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বাধিক পঠিত

সাম্প্রতিক মন্তব্য