সারের নতুন ডিলার (পরিবেশক) নিয়োগকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ ও বিতরণব্যবস্থায় তীব্র অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমান পরিবেশকদের একাংশের মধ্যে পদ হারানোর আতঙ্ক তৈরি হওয়ায় তারা সার উত্তোলনে অনাগ্রহ দেখাচ্ছেন, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে মাঠপর্যায়ে। সরকারের একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, রাজনৈতিক নেতাদের সুপারিশ ও প্রভাবে নতুন ডিলার নিয়োগের উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে, যা দেশের সার্বিক সার বিতরণব্যবস্থাকে চরম হুমকির মুখে ফেলছে।
প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়েছে, দলীয় প্রভাবে অনুগত ব্যক্তিদের ডিলার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলে যোগ্য ও প্রকৃত ব্যবসায়ীরা বাদ পড়তে পারেন। পাশাপাশি প্রভাবশালী গোষ্ঠী সার পরিবহনে হস্তক্ষেপ করলে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হতে পারে এবং কৃষকদের কাছ থেকে সারের অতিরিক্ত দাম আদায় করার সুযোগ তৈরি হবে।
মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধানে জানা গেছে, মানিকগঞ্জ, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, লালমনিরহাট ও নড়াইলসহ বিভিন্ন এলাকায় বিএনপি নেতা ও প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গ নতুন ডিলারশিপ পেতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। বিএনপি নেতাদের মধ্যে এই প্রতিযোগিতার ফলে বর্তমান ডিলাররা অনিশ্চয়তায় পড়ে সার উত্তোলন ও বিতরণ ঝুলিয়ে রাখছেন, যা কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ ও বিভ্রান্তি বাড়িয়ে দিচ্ছে।
চলতি আমন মৌসুমে সময়মতো এবং নির্ধারিত দামে সার না পেয়ে ইতিমধ্যে কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাটসহ বিভিন্ন জেলায় ক্ষুব্ধ কৃষকেরা সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ এবং গুদামে ভাঙচুরের মতো ঘটনা ঘটিয়েছেন। বিশেষ করে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী ও নাগেশ্বরীতে অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় পুলিশ সদর দপ্তর থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়ে প্রকৃত কৃষকের ডেটাবেজ তৈরি এবং নিরাপত্তা জোরদারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া রাজশাহী, দিনাজপুর, রংপুর, সিরাজগঞ্জ ও নাটোরসহ একাধিক জেলায় সারের অবৈধ মজুত ও বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ রয়েছে।
সারের এমন সংকট নিরসনে গত ২৭ আগস্ট কৃষি মন্ত্রণালয় নতুন নীতিমালা প্রকাশ করে, যেখানে প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় তিনজন করে ডিলার নিয়োগের বিধান রাখা হয়েছে।
বিদ্যমান অস্থিরতা প্রসঙ্গে কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদ জানান, ঢালাওভাবে সব পুরোনো ডিলারকে বাদ দেওয়া হবে না; বরং যাচাই-বাছাই শেষে নতুন ও পুরোনোদের সমন্বয়েই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। ডিলারদের মাঝে ভুল বোঝাবুঝির কারণেই এই সাময়িক সংকট তৈরি হয়েছে দাবি করে তিনি আশ্বাস দেন, কোনো পরিবেশক অবৈধভাবে সার মজুত করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


