বরিশালের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জির (৫৭) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় নগরীর প্যারারা রোডে দৈনিক সমকালের ব্যুরো অফিস থেকে তাঁর মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।উদ্ধার করা হয়েছে পাঁচটি সুইসাইড নোট।
বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আল মামুন উল ইসলাম গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন। পুলক স্ত্রী ও এক কন্যাসন্তান রেখে গেছেন। তিনি দীর্ঘদিন দৈনিক সমকাল ও দৈনিক যুগান্তরে ব্যুরোপ্রধান হিসেবে কাজ করেছেন।
সম্পাদক। দৈনিক সমকালের বরিশাল অফিসপ্রধান সুমন চৌধুরী গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, পুলক চ্যাটার্জি তাঁর স্ত্রীর ফোন ধরছিলেন না বলে বিষয়টি পুলকের স্ত্রী তাঁকে অবহিত করেন। তারপর সুমন গত সন্ধ্যায় সমকাল অফিসে যান। তখন অফিসে ঢোকার দরজা ভেতর থেকে আটকানো দেখতে পান।
ঘটনাস্থলে সিআইডির বেশ কয়েকটি টিম কাজ শুরু করেছে। ঘটনার আগে পুলক চ্যাটার্জি পাঁচটি সুইসাইড নোট লিখে রেখেছেন বলে একটি সূত্র জানিয়েছে। সুইসাইড নোট তাঁর স্ত্রী-সন্তান, তাঁর ভাই, বরিশাল প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও সমকালের বরিশাল ব্যুরো অফিসের বর্তমান দায়িত্বে থাকা সুমন চৌধুরীর নামে লিখেছেন। ঘটনাস্থলে থাকা বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আবু সালেহ মোহাম্মদ রায়হান বলেন, ‘আমরা মরদেহ উদ্ধার করেছি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি আত্মহত্যা। কারণ পাঁচটি সুইসাইড নোট তাঁর পকেটে পাওয়া গেছে, যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। সুইসাইড নোটগুলোর হাতের লেখা এবং পুলক চ্যাটার্জির হাতের লেখা একই—এমনটি দাবি করেছেন তাঁর স্বজন ও সহকর্মীরা। পুলক চ্যাটার্জি সুইসাইড নোটে উল্লেখ করেন : ‘আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়। আমি বেশ কিছু রোগে আক্রান্ত। এই যন্ত্রণা আর সহ্য করতে পারছি না। অসুস্থতার কারণে আমি সামাজিকভাবেও পিছিয়ে পড়েছি। রোগের যন্ত্রণা সহ্য না করতে পেরে আমি আত্মহত্যা করলাম।’ এ জন্য কাউকে যাতে হয়রানি না করা হয়, তেমনটিও তিনি উল্লেখ করেন সুইসাইড নোটে।
দৈনিক সমকাল পত্রিকার বরিশাল ব্যুরো অফিসের বর্তমানে দায়িত্বে থাকা সুমন চৌধুরীকে উল্লেখ করে লেখেন, ‘তোমার সঙ্গে একসাথে দেড় যুগ কাজ করেছি। কখনো কোনো কষ্ট দিয়ে থাকলে ক্ষমা করিও। তোমাকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলার জন্য দুঃখিত। যদি পারো দৈনিক সমকাল পত্রিকায় আমার পাওনা টাকা আদায় করে তোমার বৌদির হাতে দিয়ো।’
তাঁর স্ত্রী প্রিয়াংকাকে উল্লেখ করে লেখেন, ‘প্রিয়াঙ্কা, আমাকে ক্ষমা করে দিয়ো। পৃথিবীতে কারো জন্য কিছু থেমে থাকে না। প্রকৃতিকে (পুলক চ্যাটার্জির মেয়ে) দেখে রেখো এবং লেখাপড়া চালিয়ে যেয়ো।’
পুলক চ্যাটার্জির মৃত্যুকে ঘিরে গুঞ্জনের বিষয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আল মামুনুল ইসলাম বলেন, স্বাভাবিকভাবে আত্মহত্যার পর সময় অতিবাহিত হতে থাকলে দেহের পরিবর্তন হতে থাকে। এতে শরীরের অঙ্গ ঝুলে পড়তে পারে। তার পরও পুলক চ্যাটার্জি যেহেতু বরিশালের একজন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আর তাঁর মরদেহ উদ্ধার হওয়ার বিষয়টি বেশ আলোচিত, তাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মানুষ বিভিন্ন আঙ্গিকে লিখছে। তাই তাঁর মরদেহ আমরা ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে এটি হত্যা না আত্মহত্যা।


