দেশের বিভিন্ন ধর্মের নেতা ও সেবাকর্মীদের জন্য বড় ধরনের সুখবর দিল সরকার। তাঁদের রাষ্ট্রীয় সম্মানীর আওতায় আনতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ধর্ম বিষয়কমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)। সরকারের এই নতুন সিদ্ধান্তের ফলে সারা দেশের ৮৬ হাজার ৭০ ৯টি প্রতিষ্ঠানের ২ লাখ ৫৬ হাজার ৭৪ জন ধর্মীয় প্রতিনিধি ও সেবাকর্মী রাষ্ট্রীয় সম্মানী পাবেন।
বৃহস্পতিবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা জানান।
পাইলটিং প্রকল্প থেকে বৃহৎ পরিসরে সম্প্রসারণ
সম্মানী কার্যক্রমের বিস্তৃতির তথ্য তুলে ধরে ধর্মমন্ত্রী জানান, প্রকল্পের প্রাথমিক বা পাইলটিং পর্যায়ে ইতিমধ্যেই ১৩ হাজার ৯৪৯ জন ধর্মীয় প্রতিনিধিকে ভাতার আওতায় আনা হয়েছিল। এর মধ্যে ৪,৬৮৩ জন ইমাম, ৪,৩১২ জন মুয়াজ্জিন, ৩,৭৮৪ জন খাদেম, ৫৮৬ জন পুরোহিত, ৪২২ জন সেবাইত, ৯৫ জন বৌদ্ধ অধ্যক্ষ এবং ৬৭ জন উপাধ্যক্ষ রয়েছেন। সফল পাইলটিংয়ের পর এবার সারা দেশে বিপুলসংখ্যক সেবাকর্মীদের কাছে এ সুবিধা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)-এর তাৎপর্য নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মন্ত্রী উল্লেখ করেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ও পুণ্যময় চরিত্র সারা বিশ্বের মানবজাতির জন্য শাশ্বত আলোকবর্তিকা। তিনি মহানবীর আদর্শ অনুসরণে জীবন গড়ার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান।
হজ ব্যবস্থাপনায় যুগান্তকারী বিপ্লব ও বিমানভাড়া হ্রাস
হজ ব্যবস্থাপনায় বর্তমান সরকারের সফলতার চিত্র তুলে ধরে কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন বলেন, “হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে হাজিদের অব্যয়িত অর্থ ফেরত দেওয়ার ঘটনা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও নির্দেশনায় বাংলাদেশ এই অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।”
তিনি জানান, ২০২৬ সালের হজে সরকারি ব্যবস্থাপনায় যাওয়া ৪ হাজার ৩৪১ জন হাজির অনুকূলে মোট ৪ কোটি ৮৭ লাখ ২৩ হাজার ১৪ টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ২০২৩ সালে যেখানে হজের বিমানভাড়া ছিল ১ লাখ ৯৭ হাজার ৭৯৭ টাকা, প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত পদক্ষেপে তা কমিয়ে এ বছর মাত্র ১ লাখ ৩০ হাজার টাকায় নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য ও বিশেষ আর্থিক পুরস্কার
বক্তব্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান স্মরণ করে মন্ত্রী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দূরদর্শী ভাবনা এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ঐতিহাসিক ঘোষণার ফসল আজকের এই বিশ্ববিদ্যালয়। ২০০৫ সালে আইনের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যাত্রা শুরু করা এই প্রতিষ্ঠানকে আধুনিক গবেষণা ও জ্ঞানচর্চায় আরও এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী নাজমুন আক্তারের উপস্থাপিত প্রবন্ধে মুগ্ধ হয়ে মন্ত্রী তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার দেন। একই সঙ্গে প্রতিযোগিতার বাকি ১১ জন বিজয়ী শিক্ষার্থীকে উৎসাহিত করতে আরও ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা পুরস্কারের ঘোষণা দেন তিনি।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীনের প্রধান আলোচক এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মুফতি মুহাম্মদ মুহিব্বুল্লাহিল বাকী নদভীর বিশেষ উপস্থিতিতে আলোচনা সভাটি সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক ড. মোস্তফা হাসান।


