Homeআইন আদালতগেন্ডারিয়ায় গোলাগুলি: পুলিশের লুট হওয়া অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার ৫

গেন্ডারিয়ায় গোলাগুলি: পুলিশের লুট হওয়া অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার ৫

রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় মাদক কারবারের সাম্রাজ্য ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই সন্ত্রাসী গ্রুপের বন্দুকযুদ্ধে রক্তাক্ত হয়েছেন নিরীহ পথচারীরা। এ ঘটনায় অভিযান চালিয়ে পুলিশের লুণ্ঠিত অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিপুল পরিমাণ মাদকসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-১০। জব্দ করা অস্ত্রের তালিকায় রয়েছে দুটি বিদেশি পিস্তল, ১২ রাউন্ড গুলি এবং তিনটি ম্যাগাজিন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিশ্চিত করেছে, উদ্ধার হওয়া একটি ম্যাগাজিন ও গুলি ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থানা থেকে লুট হওয়া পুলিশের সমরাস্ত্রের অংশ।

ত্রাসের রাজত্বে রক্তপাত, পথচারীদের দেহে গুলি

গত ৩০ আগস্ট গেন্ডারিয়ার করাতীটোলা এলাকায় মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘাত জড়িয়ে পড়ে স্থানীয় ‘মনির গ্রুপ’ ও ‘অটো সজল গ্রুপ’। দিনে-দুপুরে দুপক্ষের এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণে মুহূর্তের মধ্যে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় পুরো এলাকা। এতে চায়ের দোকানদার থেকে শুরু করে পথচারী তরুণ-তরুণী গুলিবিদ্ধ হন।

মাথায় গুলি লাগা চা-দোকানি আলমগীর হোসেন রাসেল ও বুকের বাঁ পাশে গুলিবিদ্ধ তরুণ সিয়ামের অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হলেও তাদের শরীরজুড়ে এখন আঘাতের ক্ষত। অন্যদিকে পথচারী আশা আক্তারের ডান পায়ে লাগা গুলিটি এখনো বের করতে পারেননি চিকিৎসকেরা। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

সিসিটিভি ফুটেজে শনাক্ত, রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে চিরুনি অভিযান

ঘটনার পর র‍্যাব-১০-এর যাত্রাবাড়ী ক্যাম্পের তদন্ত দল ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ এবং গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে কিলার চক্রটিকে শনাক্ত করে। ১ সেপ্টেম্বর রাতে গেন্ডারিয়ার মুন্সিরটেক থেকে প্রথমে গ্রেপ্তার করা হয় জিসান ও রমজান নামের দুই তরুণকে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৮ সেপ্টেম্বর শাহীন এবং পরদিন পৃথক অভিযানে শাবাব হোসেন শৈকত ও মাহিমকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব।

গ্রেপ্তার শাবাব হোসেন শৈকতের কাছ থেকেই মূলত উদ্ধার হয় লুণ্ঠিত গান-পাউডার ও পিস্তল। এ ছাড়া তার কাছ থেকে ৩ লাখ ১৩ হাজার টাকা মূল্যের ৪২০টি ইয়াবা, ৪০০ পুরিয়া হেরোইন এবং ৯০০ গ্রাম গাঁজা জব্দ করা হয়। শৈকত যাত্রাবাড়ী থানার একাধিক মাদক মামলার এজাহারভুক্ত পলাতক আসামি।

কারওয়ান বাজারে র‍্যাবের হুঙ্কার, নেপথ্যের মূলহোতাদের সন্ধানে তদন্ত

বৃহস্পতিবার সকালে কারওয়ান বাজারে র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাব-১০-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোহা. আসাদুজ্জামান বলেন, “মাদকের রাজত্ব বজায় রাখতে লুণ্ঠিত আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার অত্যন্ত ভয়াবহ সংকেত। এই চক্রের পেছনে যারা কলকাঠি নাড়ছে এবং পুলিশের অস্ত্র যাদের হাতে গেছে, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।”

এর আগে একই ঘটনায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওয়ারী বিভাগ পৃথক অভিযান চালিয়ে আরও চারজনকে দুটি বিদেশি পিস্তলসহ গ্রেপ্তার করেছিল। লুণ্ঠিত অস্ত্রের মূল উৎস ও সিন্ডিকেটের বাকি সদস্যদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বাধিক পঠিত

সাম্প্রতিক মন্তব্য