তীব্র গ্যাসসংকটে দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামের শিল্প খাতে চরম অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। সরবরাহ সংকটের কারণে অনেক শিল্পকারখানার মালিক উৎপাদন অর্ধেকে নামিয়ে আনতে বাধ্য হয়েছেন, আর কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ঠেকেছে তলানিতে। বর্তমান পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি তৈরি পোশাকের বহুমুখী ক্রয়াদেশ বাতিল হয়ে তা প্রতিযোগী দেশগুলোর হাতে চলে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
চাহিদার তুলনায় সরবরাহ তলানিতে
নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে ত্রুটির পর থেকেই দেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র চট্টগ্রামে এই গ্যাসসংকট তীব্র আকার ধারণ করে। শিল্পকারখানাগুলোতে চাহিদার বিপরীতে গ্যাসের সরবরাহ নেমে এসেছে অর্ধেকেরও কম। চট্টগ্রামে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৭০ মিলিয়ন ঘনফুট হলেও গ্রিড থেকে সাধারণত ২৫০ থেকে ২৬০ মিলিয়ন ঘনফুট পাওয়া যেত। কিন্তু এলএনজি টার্মিনাল থেকে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় তা বর্তমানে মাত্র ১৯০ থেকে ২১০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে এসেছে।
পর্যাপ্ত গ্যাসের অভাবে বায়েজিদ, অক্সিজেন, কালুরঘাট, ইপিজেড, কর্ণফুলী ইপিজেড ও পতেঙ্গা শিল্প এলাকাসহ প্রধান প্রধান শিল্পাঞ্চলের চাকা প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। তৈরি পোশাক ও ভারী শিল্প থেকে শুরু করে রড এবং সিমেন্ট উৎপাদনের মতো খাতগুলোতেও উৎপাদন ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনা হয়েছে।
ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ ও রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব
চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, গ্যাসের তীব্র সংকটের কারণে চট্টগ্রামের অধিকাংশ শিল্পকারখানায় বড় ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে এবং উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে কারখানাগুলো বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া উপায় থাকবে না। অবিলম্বে এই সংকট নিরসনে সরকারের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) পরিচালক ও এশিয়ান গ্রুপের উপপরিচালক সাকিফ আহমেদ সালাম জানান, গ্যাসসংকটের কারণে প্রায় প্রতিটি কারখানার উৎপাদন ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ কমাতে বাধ্য হয়েছে তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকরা। নির্ধারিত সময়ে পণ্য ডেলিভারি দেওয়া সম্ভব না হলে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হবে এবং অনেক প্রতিষ্ঠান স্থায়ীভাবে রপ্তানি ক্রয়াদেশ হারাবে, যার পুরো সুবিধা ভোগ করবে প্রতিযোগী দেশগুলো।
শুধু তৈরি পোশাক নয়, অন্যান্য ভারী শিল্পও মারাত্মক হুমকির মুখে রয়েছে। ডায়মন্ড সিমেন্টের জেনারেল ম্যানেজার আবদুর রহিম জানান, গ্যাসের অভাবে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় সিমেন্ট তৈরির সার্বিক খরচ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। পরিস্থিতি চলতে থাকলে বর্ধিত খরচ সামাল দিতে বাজারে সিমেন্টের দাম বাড়াতে বাধ্য হতে পারেন তারা। এ ছাড়া রড, খাদ্যপণ্যসহ অন্যান্য গ্যাসনির্ভর শিল্পেও কাঁচামাল নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি উৎপাদন কার্যক্রমে চরম নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।


