দেশে নারী নির্যাতনের ঘটনা বেড়েছে। ধর্ষণ, নারীর প্রতি যৌন হয়রানি, যৌতুক ও পারিবারিক সহিংসতার কারণে নারী নির্যাতনের ঘটনাগুলো একের পর এক ঘটেই চলেছে। এর মধ্যে বছরের প্রথম ছয় মাসে ৩১৯টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। যার মধ্যে ছয় বছর বা তার চেয়ে কম বয়সি শিশু ধর্ষণের ঘটনা ৩৫টি।
মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) তথ্যে, গত ছয় মাসে এক হাজার ৬২১ জন নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। যা আগের বছরে ছিল ১ হাজার ৪২ জন। অর্থাৎ, এ বছর বেড়েছে প্রায় ৫৬ শতাংশ। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যৌতুকের জন্য নির্যাতনের ঘটনায় ১৯ নারী নিহত ও আটজন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া তিন নারী আত্মহত্যা করেছেন। পারিবারিক সহিংসতায় নিহত হয়েছেন ৩২০ জন। এ ছাড়া ২১১ জন আহত এবং ১৪৭ জন আত্মহত্যা করেছেন। অ্যাসিড সহিংসতায় আহত হয়েছেন চারজন। এদিকে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য বলছে, জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত দেশে ৩১৯টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে।
বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন অ্যাডভোকেট এলিনা খান বলেন, মানুষের মধ্যে পৈশাচিকতা ও বীভৎসতার প্রকাশ ক্রমেই প্রকট হচ্ছে। জমে থাকা রাগ, প্রতিহিংসা সামনে আসায় ও মানবিক মূল্যবোধ কমে যাওয়ায় নারী নির্যাতনের মতো ঘটনা না কমে উল্টো বাড়ছে। মানুষের সাইকোলজিক্যাল অবস্থার বিচ্যুতি ঘটছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির জন্যও এমনটা হয়েছে। উল্লেখ্য, ১৯৯৫ সালের এই দিনে (২৪ আগস্ট) দিনাজপুরে ইয়াসমিন নামের এক কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যা করে কিছু বিপথগামী পুলিশ সদস্য। এ ঘটনার প্রতিবাদে আন্দোলনে ফেটে পড়ে বিক্ষুব্ধ জনতা। তাদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালিয়ে সাতজনকে হত্যা করে পুলিশ। এরপর থেকেই সারা দেশে এ দিনটি ইয়াসমিন ট্র্যাজেডি দিবস বা জাতীয় নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।


