ঢাকার মিরপুরে বৃদ্ধা নুরজাহান বেগমের নিঃসঙ্গ মৃত্যুর ঘটনা ‘টক অব দ্য কান্ট্রি’ ছিল। নানান আলোচনা-সমালোচনা, ন্যায়-অন্যায় ও নীতি-নৈতিকতা নিয়ে ঝড় উঠেছিল সে সময়। এর রেশ কাটতে না কাটতেই আরেকটি মর্মান্তিক ঘটনার অবতারণা হয়েছে। আবদুর রহমান নামে ৬৫ বছর বয়সি এক বৃদ্ধের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার রাতে চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের নগরপাড়া থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। আবদুর রহমানের স্ত্রী ও তিন ছেলের সবাই বিদেশে। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আবদুর রহমানের বড় ছেলে বিবাহিত। তিনি স্ত্রীসহ সংযুক্ত আরব আমিরাতে থাকেন। মেজ ছেলের জানুয়ারিতে চন্দনাইশের বাড়িতে বিয়ে হয়। বিয়ের পর পরিবারের সবাই দুবাইয়ে ফিরে গেলেও আবদুর রহমান যাননি। মেজ ছেলের স্ত্রী দোহাজারীতে বাবার বাড়িতে থাকেন। সেখান থেকে মাঝে মাঝে এসে শ্বশুরকে দেখে যান। সোমবার তিনি খোঁজ নিতে এসে আবদুর রহমানকে মৃত অবস্থায় পান। অবিবাহিত ছোট ছেলেও থাকেন দুবাইয়ে।
আবদুর রহমান থাকতেন প্রবাসে। এক বছর আগে দেশে ফিরে থাকতেন নিজ বাড়িতেই। রান্নাবান্না থেকে শুরু করে দৈনন্দিন সব কাজ নিজেই করতেন। তিন ছেলেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন বিদেশেই। তাঁর স্ত্রীও বর্তমানে বিদেশের একটি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন। কিন্তু সোমবার তাঁর এক ছেলে ফোন করে সংযোগ পাচ্ছিলেন না। ওই দিন বিকালে ছেলের স্ত্রী বাবার বাড়ি থেকে খোঁজ নিতে এসে দেখেন ঘরের দরজা বন্ধ। এলাকার লোকজনের সহায়তায় দরজা খোলার পর দেখা যায় আবদুর রহমানের পচাগলা লাশ পড়ে আছে খাটে।
পুলিশের ধারণা, শুক্রবার রাতে স্ট্রোক বা অন্য কোনো কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। লাশে পচন ধরেছিল। নানান স্থানে পোকা ধরে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল। চেহারাও বিকৃত হয়ে গেছে। লাশের চোখে মুখে পোকা ধরেছে। দুই হাতের চামড়া খসে পড়েছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সর্বশেষ বৃহস্পতিবার আবদুর রহমান তাঁর ছেলেদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছিলেন। শুক্রবার বিকালে তাঁকে এলাকার একটি দোকানে দেখা গিয়েছিল। এরপর থেকে আর দেখা যায়নি।
গাউসিয়া কমিটি চন্দনাইশের মানবিক টিমপ্রধান মাওলানা সোলাইমান ফারুকী বলেন, ‘সোমবার সন্ধ্যায় খবর পাই যে নগরপাড়ার একটি ঘরে এক বৃদ্ধের পচাগলা লাশ পড়ে আছে। ঘটনাস্থলে পৌঁছে মানবিক টিমের সদস্যদের সহায়তায় লাশটি উদ্ধার করে পুলিশে হস্তান্তর করা হয়। গতকাল বাদ মাগরিব জানাজা শেষে তাঁকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।’
চন্দনাইশ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস এম দিদারুল আলম বলেন, ‘সোমবার রাতে এক গ্রামপুলিশের মাধ্যমে লাশের বিষয়ে আমাদের জানানো হয়। পুলিশ গিয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠায়।’


