Homeঅপরাধকোটিপতি বানানোর লোভ দেখান তরুণীর বাবাকে

চাঞ্চল্যকর তথ্য নজরুলের ড্রাইভারের
কোটিপতি বানানোর লোভ দেখান তরুণীর বাবাকে

নৈতিক স্খলনের অভিযোগে জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত সাবেক এমপি গাজী নজরুল ইসলামের (৭৫) বিরুদ্ধে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আসছে। মেয়েকে জাতীয় সংসদ ভবনে চাকরি দেওয়া এবং বাবা মাসুম বিল্লাহকে ঠিকাদারি লাইসেন্স পাইয়ে দিয়ে কোটিপতি বানানোর প্রলোভন দেখিয়ে ওই তরুণীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে সাতক্ষীরা-৪ আসনের এই সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে।

অন্যদিকে নারী কেলেঙ্কারির ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর থেকে সংসদ সদস্য পদ থেকে তাঁর পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে তাঁর নির্বাচনী এলাকা সাতক্ষীরার শ্যামনগর। পাঁচ দিন ধরে সেখানে লাগাতার প্রতিবাদ সমাবেশ, বিক্ষোভ মিছিল ও কুশপুত্তলিকা দাহ করা হচ্ছে।

ভাগনিকে নিয়ে প্রলোভন ও গোপন সম্পর্কের ছক

গাজী নজরুল ইসলাম সম্পর্কের সূত্রে ভুক্তভোগী তরুণী মরিয়মের বাবার খালু (দাদার ভায়রা)। স্বজন ও গাড়িচালক ওবায়দুর রহমান জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে থেকেই রাজধানীর পল্লবীতে ওই তরুণীর ভাড়া বাড়িতে এমপির নিয়মিত যাতায়াত ছিল। জাতীয় সংসদ ভবনে এমপি হোস্টেলে ফ্ল্যাট বরাদ্দ পাওয়ার পরও ঢাকায় এলে তিনি সেখানেই অবস্থান করতেন।

পরবর্তীতে গভীর রাতে মোবাইলে কথোপকথনের সূত্র ধরে এই সম্পর্কের কথা ধরে ফেলেন ওবায়দুর। অনুসন্ধানে জানা যায়, এমপি গোপনে যোগাযোগের জন্য তরুণীকে একটি মোবাইল ও সিম কিনে দেন, যা শ্যামনগরের প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক দেলোয়ারের নামে নিবন্ধিত ছিল। স্বজনেরা অনৈতিক সম্পর্কের প্রতিবাদ করলে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে এমপি টাকার বিনিময়ে ‘মুতআ বিয়ে’ (চুক্তিভিত্তিক বিয়ে) এবং একটি নোহা গাড়ি উপহার দেওয়ার প্রস্তাব দেন। এ ছাড়া বিভিন্ন মহলে ওই তরুণীকে তাঁর ‘এপিএস-২’ হিসেবে পরিচয় দেওয়া হতো।

নিঃস্ব পরিবার থেকে রাতারাতি ঠিকাদারির মালিক

অনুসন্ধানে দেখা যায়, শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের চৌদ্দরশি গ্রামের বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী তরুণীর বাবা মাসুম বিল্লাহর অতীত আর্থিক অবস্থা ছিল অত্যন্ত করুণ। একসময় নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করা মাসুম পরে খুলনায় ইট ভাঙার কাজ এবং মিরপুর ১২ নম্বরে ভ্যানে করে শাকসবজি বিক্রি করতেন।

পরবর্তীতে এমপি নজরুলের সহায়তায় তিনি মিরপুরে একটি মুদির দোকান (মাসুম জেনারেল স্টোর) দেন। গাজী নজরুল এমপি হওয়ার পর তাঁর সুবাদে ‘মাসুম এন্টারপ্রাইজ’ নামে ঠিকাদারি লাইসেন্স বাগিয়ে নেন এবং মুদির দোকানটিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করেন। একই সঙ্গে তরুণীর পরিবারকে ঢাকার আলিনগর রোজ গার্ডেনে দুই কক্ষের একটি ফ্ল্যাট ভাড়া করে দেওয়া হয়, যেখানে এমপির অবাধ যাতায়াত ছিল।

স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনে চিঠি

উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর হয়ে সাতক্ষীরা-৪ আসন থেকে নির্বাচিত হন গাজী নজরুল ইসলাম। তিনি দলটির কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য ছিলেন। গত ২০ জুলাই রাতে এক নারীর সঙ্গে তাঁর অনৈতিক মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গত ২২ জুলাই তাঁকে দল থেকে চূড়ান্ত বহিষ্কার করে জামায়াত। পরদিন দলটি নিজেদের সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) অবহিত করে চিঠি পাঠায়।

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বাধিক পঠিত

সাম্প্রতিক মন্তব্য