Homeজাতীয়বন দখল থেকে ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ: এমপি বাচ্চুর বিরুদ্ধে যত অভিযোগ

বন দখল থেকে ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ: এমপি বাচ্চুর বিরুদ্ধে যত অভিযোগ

ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনের সংসদ সদস্য ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চুর বিরুদ্ধে শিল্পকারখানার ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি, বনভূমির জমি দখল এবং দলীয় প্রতিপক্ষের ওপর হামলা–মামলার মতো নানাবিধ গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। একের পর এক অনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার অভিযোগে ইতোমধ্যে তাঁকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় বিএনপি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এমপি বাচ্চু ও তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা ভালুকার বিভিন্ন পোশাক কারখানার ঝুট ব্যবসা জোরপূর্বক নিজেদের দখলে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। গত মার্চে তাঁর অনুসারীরা একটি কারখানা থেকে জোরপূর্বক ঝুটবোঝাই ট্রাক নিয়ে গেলে পরবর্তীতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের হস্তক্ষেপে তা উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন শিল্প গ্রুপ থেকে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি এবং দুটি শিল্পগ্রুপের কর্মকর্তাদের ওপর ককটেল হামলার ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করা হয়েছে।

আবাসস্থল ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা–লুটপাট

সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোর্শেদ আলমের পক্ষে কাজ করায় স্থানীয় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের ওপর একের পর এক হামলার অভিযোগ এসেছে এমপির বাহিনীর বিরুদ্ধে। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক তিয়াস মাহমুদ শুভর বাসায় ঢুকে ভাঙচুর, স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুটপাট চালায় এমপি বাচ্চুর অনুসারীরা।

একইভাবে ৩ এপ্রিল মোর্শেদ আলমের কার্যালয়ে চা খাওয়ার সময় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে হামলা চালানোর অভিযোগ তুলে ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি ও পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন আমান উল্ল্যাহ নামে এক রাজনৈতিক কর্মী।

তারেক রহমানের কাছে লিখিত অভিযোগ

এমপি বাচ্চুর ক্ষমতার অপব্যবহারের চিত্র তুলে ধরে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন হবিরবাড়ি ইউনিয়নের যুবদল কর্মী মিজানুর রহমান। অভিযোগে তিনি জানান, গত ১ মার্চ স্থানীয় পুলিশ সদস্যদের পাহারায় এমপি বাচ্চুর অনুসারী খোকা মিয়ার নেতৃত্বে ২৫-৩০ জন সশস্ত্র লোক তাঁর বাসায় হামলা চালায়। প্রাণ বাঁচাতে টিনের চাল কেটে পালিয়ে যান মিজানুর। পরবর্তীতে থানায় গেলে এমপির রেফারেন্স দিয়ে পুলিশ মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানায়।

বনভূমি দখল ও ব্যবসায়ে আধিপত্য

অভিযোগ রয়েছে, ভালুকা রেঞ্জ বন বিভাগের শত কোটি টাকার সরকারি জমি এখন এমপি বাচ্চুর প্রভাবে প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের দখলে চলে গেছে। সরকারি হাট-বাজারের ইজারা থেকে শুরু করে স্থানীয় প্রতিটি ব্যবসা কেন্দ্রেই সক্রিয় রয়েছে এই সিন্ডিকেট, যার ফলে সাধারণ ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

পুনরায় শোকজ ও বহিষ্কারের হুমকি

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পরপরই শিল্পপ্রতিষ্ঠান দখল ও চাঁদাবাজির সুনির্দিষ্ট অভিযোগে ২০২৪ সালের ১ সেপ্টেম্বর বাচ্চুকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল এবং তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয়। পরবর্তীতে ক্ষমা প্রার্থনার পর ২০২৫ সালের ২৪ অক্টোবর তাঁর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে বিএনপি এবং তিনি নির্বাচনে দলের টিকেটে এমপি নির্বাচিত হন। তবে নির্বাচিত হওয়ার কয়েক মাসের মধ্যে পুনরায় একই অপরাধে জড়িয়ে পড়েন তিনি।

গত শনিবার বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত কারণ দর্শানোর নোটিশে ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চুকে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ঢাকার নয়াপল্টনস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে লিখিত জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জবাব সন্তোষজনক না হলে তাঁর বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযোগ অস্বীকার এমপি বাচ্চুর

তবে এসব অভিযোগ পুরোপুরি ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন সংসদ সদস্য ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু। তিনি বলেন, তিনি বা তাঁর পরিবারের কেউ ঝুট কিংবা অন্য কোনো ব্যবসার সাথে যুক্ত নন এবং কারও কাছে চাঁদা দাবি করেননি। একটি বিশেষ গোষ্ঠী রাজনৈতিকভাবে তাঁকে হেয় করার জন্য এই প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে।

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বাধিক পঠিত

সাম্প্রতিক মন্তব্য