Homeআন্তর্জাতিকককরোচ পার্টির আন্দোলনে দিল্লি রণক্ষেত্র

ককরোচ পার্টির আন্দোলনে দিল্লি রণক্ষেত্র

ভারতের সংসদ অভিমুখে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচি কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে রাজধানী দিল্লি। গতকাল সকালে সেন্ট্রাল দিল্লির যন্তরমন্তর থেকে সিজেপির সমর্থকরা সংসদ অভিমুখে লংমার্চ শুরু করলে লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে পুলিশ। আটক করা হয় সিজেপির মুখ্য নেতা অভিজিৎ দীপকে, সমাজবাদী পার্টির সাংসদ ডিম্পল যাদবসহ অনেক আন্দোলনকারীকে। এ সময় দিল্লির নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় ইন্টারনেট সেবা সাময়িক বন্ধ করা হয়। আন্দোলনকারীরা পুলিশি বাধা পেরিয়ে সংসদের সামনে চলে গেলে বর্ষাকালীন অধিবেশন স্থগিত করা হয়। অন্যদিকে আন্দোলনকারীদের দাবি মেনে তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জগৎ প্রকাশ নাড্ডা। এর পরপরই অনশন ভাঙেন পরিবেশকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক।

মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষায় (নিট) অনিয়মের অভিযোগে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে গতকাল ভারতের সংসদ অভিমুখে ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচি করে সিজেপির অন্তত ২০ হাজার সমর্থক। সকালে দিল্লির জন্তরমন্তর থেকে লংমার্চটি সংসদ ভবনের দিকে অগ্রসর হলে ব্যারিকেড দেয় দিল্লি পুলিশ। বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে সামনের দিকে অগ্রসর হলে শ্রমশক্তি ভবনের পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাস প্রয়োগ করে। এতে বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারী ও পুলিশ সদস্য আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মধ্য দিল্লির নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়। এ সময় সিজেপির মুখ্য নেতা অভিজিৎ দীপকে, সমাজবাদী পার্টির সাংসদ ডিম্পল যাদব, ধর্মেন্দ্র যাদবসহ আন্দোলনে অংশ নেওয়া অনেক শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়।

পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে বিক্ষোভকারীরা দুপুরের দিকে সংসদ ভবনের কাছে পৌঁছালে নিরাপত্তার কারণে সংসদের প্রধান ফটক বন্ধ করে দেওয়া হয়। সংসদের অধিবেশন স্থগিত করেন স্পিকার ওম বিড়লা এবং রাজ্যসভা চেয়ারম্যান সি পি রাধাকৃষ্ণন। এ সময় কড়া নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে দ্রুত সংসদ ভবন ত্যাগ করতে দেখা যায়। অন্যদিকে, আন্দোলনকারীদের দাবি মেনে তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জগৎ প্রকাশ নাড্ডা। গতকাল দুপুরের পর স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বাসভবনে ১০ মিনিটের বৈঠক হয়। আন্দোলনকারীদের পক্ষে বৈঠকে অংশ নেন সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা। বৈঠক শেষে তারা জানান, সরকার তাদের বক্তব্য শুনেছে, কিন্তু কোনো দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস বা লিখিত প্রতিশ্রুতি দেয়নি। সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়গুলো বিবেচনা করার জন্য কিছু সময় চাওয়া হয়েছে। প্রতিনিধিরা বলেন, জেপি নাড্ডার সঙ্গে বৈঠকে তিন দফা দাবি তুলে ধরা হয়েছে।

দাবিগুলো হলো- কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, সোনম ওয়াংচুককে দ্রুত হাসপাতাল থেকে মুক্তি দেওয়া এবং যে নিট পরীক্ষার্থীরা আত্মহত্যা করেছেন, তাদের ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বৈঠকের পর আলোচনার পরিবেশ তৈরি হওয়ায় ২৩ দিন পর অনশন প্রত্যাহার করেন শিক্ষাবিদ ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। গতকাল দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে তিনি অনশন প্রত্যাহার করেন।

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বাধিক পঠিত

সাম্প্রতিক মন্তব্য