Homeঅপরাধকারাগার থেকে পালানো ৫২ ফাঁসির আসামি এখনো অধরা

কারাগার থেকে পালানো ৫২ ফাঁসির আসামি এখনো অধরা

কারাগারে নজিরবিহীন ভাঙচুর ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিপর্যয়ের সুযোগে পালিয়ে যাওয়ার দুই বছরেরও বেশি সময় পার হলেও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ৫২ জন আসামি এখনো মুক্ত বাতাসে ঘুরে বেড়াচ্ছে। কারা সূত্রের তথ্যানুযায়ী, ২০২৪ সালের আগস্টের সেই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে বিভিন্ন কারাগার থেকে মোট ৯৯ জন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দী পালিয়ে যায়। তাদের মধ্যে ৪৬ জনকে পরবর্তীতে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হলেও অত্যন্ত দুর্ধর্ষ ৫২ জন আসামি এখনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধরাছোঁয়ার বাইরেই রয়ে গেছে। তারা কোথায় আছে বা আদৌ দেশে আছে কি না, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই কর্তৃপক্ষের কাছে।

পলাতকদের তালিকায় রয়েছে চিহ্নিত খুনি, সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের সদস্য এবং শীর্ষ জঙ্গি। সম্প্রতি মতিঝিলের একটি হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মো. মোয়াজ্জেম হোসেন এবং সুদের টাকাকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশী হত্যার দায়ে দণ্ডিত আব্দুল্লাহ শিকদারের মতো কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে ফেরত পাঠানো হলেও বাকিদের পাকড়াও করা কঠিন হয়ে পড়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এখনো যারা অধরা তারা মোয়াজ্জেম বা আব্দুল্লাহর চেয়েও দুর্ধর্ষ। তারা নিয়মিত নাম ও পরিচয় বদলাচ্ছে এবং আত্মগোপনে থাকতে নানান কৌশল অবলম্বন করছে। অনেক আসামিই ফাঁসির দড়ি এড়াতে দেশ ছেড়ে পালিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের অস্থির সময়ে দেশের অন্তত ১৭টি কারাগারে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও বিদ্রোহের ঘটনা ঘটে। সেই সুযোগে মোট ২,২৪৭ জন বন্দী পালিয়ে যায়, যাদের মধ্যে ৬৯০ জন এখনো পলাতক। এ ছাড়া ৯৮ জন জঙ্গি সদস্য পালিয়ে যায়, যার মধ্যে বড় একটি অংশের এখনো কোনো হদিস মেলেনি। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে বোমা উদ্ধারের ঘটনায় জেলপলাতক ও জামিনে থাকা এসব জঙ্গিদের সম্পৃক্ততা পেয়েছেন গোয়েন্দারা, যা নতুন করে নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি করেছে।

এর পাশাপাশি লুট হওয়া অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার না হওয়াটাও বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারাভাঙচুরের সময় ৮৫টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ৮,০১৫ রাউন্ড গুলি লুট হয়। পরবর্তীতে ৫৮টি অস্ত্র উদ্ধার করা গেলেও এখনো ২৭টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৬,৩৫২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

অপরাধ বিশ্লেষক ও বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, এ ধরনের দুর্ধর্ষ অপরাধীরা বাইরে থাকা মানেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য দীর্ঘমেয়াদি হুমকি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ ও অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক মনে করেন, এদের দ্রুত গ্রেপ্তার না করা গেলে সমাজে খারাপ দৃষ্টান্ত তৈরি হবে এবং তারা আড়ালে থেকে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাবে। সাবেক আইজিপি মুহাম্মদ নুরুল হুদাও পলাতক বন্দীদের গ্রেপ্তারের বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন।

পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ) সহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে নিরবচ্ছিন্ন অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন, বারবার অবস্থান পরিবর্তন করার কারণে সময় লাগলেও অধরা সব আসামিকে খাঁচায় পুরতে কঠোর নির্দেশ জারি রয়েছে।

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বাধিক পঠিত

সাম্প্রতিক মন্তব্য