রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে পৃথক স্থান থেকে দুই গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তারা হলেন মিথিলা আক্তার নীলা (১৮) ও লাবণী আক্তার (২০)। পারিবারিক কলহ ও স্বামীর ওপর অভিমান করে তারা আত্মহত্যা করেন বলে প্রাথমিকভাবে জানিয়েছে পুলিশ। গতকাল দুপুরে ময়নাতদন্তের জন্য তাদের লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) মর্গে পাঠানো হয়।
শুক্রবার রাতে কামরাঙ্গীরচরের হাসাননগর ঝাউলাহাটি এলাকার একটি বাসা থেকে মিথিলার লাশ উদ্ধার করা হয়। কামরাঙ্গীরচর থানার এসআই ব্রজ কিশোর পাল জানান, পারিবারিক কলহের জেরে মিথিলা নিজ কক্ষে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে জানতে পেরেছি। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। মিথিলার মামা সাদ্দাম হোসেন বলেন, দেড় বছর আগে মিথিলার প্রথম বিয়ে হয়। কিছুদিন পর বিবাহবিচ্ছেদ হলে শাকিল নামে এক যুবকের সঙ্গে তার আবার বিয়ে হয়। সম্প্রতি সাবেক প্রবাসী স্বামীর সঙ্গে মিথিলার মোবাইলে কথা বলা নিয়ে বর্তমান স্বামী শাকিলের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়।
এরই জেরে স্বামীর ওপর অভিমান করে মিথিলা আত্মহত্যা করেন। মিথিলা ঢাকার সাভারের বড়ওয়ালিয়া এলাকার জসিম উদ্দিনের একমাত্র মেয়ে।
একই দিন রাতে কামরাঙ্গীরচরের পানওয়ালা গলির বড় মসজিদ-বড়গ্রাম এলাকার একটি বাসার তৃতীয় তলা থেকে লাবণীর লাশ উদ্ধার করা হয়। কামরাঙ্গীরচর থানার এসআই মোহাম্মদ ইদ্রিস বলেন, লাবণীর স্বামী মালয়েশিয়া প্রবাসী। রাতে মালয়েশিয়া থেকে স্বামী ফোন করলে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে স্বামীর ওপর অভিমান করে লাবণী তার ভাইয়ের ঘরের সিলিংয়ের অ্যাঙ্গেলের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে ফাঁস দেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তার গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুরের রায়পুর থানার বামনায়। তিনি কামরাঙ্গীরচরের ওই বাসায় তিন বছরের ছেলেকে নিয়ে থাকতেন।
এদিকে গত শুক্রবার রাতে কারওয়ান বাজারে রেললাইনে ট্রেনের ধাক্কায় অজ্ঞাত পুরুষের (৫৫) মৃত্যু হয়েছে। কারওয়ান বাজারের কাঁচামাল ব্যবসায়ী কাদের জানিয়েছেন, রাত সাড়ে ১১টার দিকে রেললাইন পার হওয়ার সময় চলন্ত ট্রেনের ধাক্কায় ওই ব্যক্তি মারা যান। রেলওয়ে থানার এসআই মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, নিহতের পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে। তার পরনে ছিল নীল রঙের শার্ট ও সাদা পায়জামা।


