Homeলন্ডনদাবদাহে যুক্তরাজ্যে ২৭০০ জনের প্রাণহানি

দাবদাহে যুক্তরাজ্যে ২৭০০ জনের প্রাণহানি

চলতি বছরের মে ও জুন মাসে বয়ে যাওয়া তীব্র দাবদাহে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে অন্তত ২ হাজার ৭০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (১৩ জুলাই) প্রকাশিত এক যৌথ গবেষণায় এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন, যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া অফিস এবং লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিনের বিশেষজ্ঞরা যৌথভাবে আবহাওয়া সংক্রান্ত তথ্য, জলবায়ুর মডেল এবং দাবদাহে অতিরিক্ত মৃত্যুর হার নিয়ে গবেষণা করে এই হিসাব তৈরি করেছে। 

গত মে ও জুন মাসে যুক্তরাজ্য এবং ইউরোপের অধিকাংশ অঞ্চলে নজিরবিহীন দুটি দাবদাহ আঘাত হানে। এ সময় ইংল্যান্ডে মে মাসে সর্বোচ্চ ৩৫ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং জুনে ৩৭ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়।

গবেষণায় বলা হয়েছে, ২১ থেকে ২৯ মে পর্যন্ত দাবদাহে প্রায় ৫৫০ জন এবং ১৮ থেকে ২৮ জুনের মধ্যে প্রায় দুই হাজার ২০০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

গবেষক দলটির মতে, এই চরম দাবদাহের পেছনে জলবায়ু পরিবর্তনের বড় ভূমিকা রয়েছে, যা দাবদাহকে আরও তীব্র ও ঘন ঘন করে তুলছে। তাদের হিসাব অনুযায়ী, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন না থাকলে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা বর্তমানের চেয়ে ৩ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস কম থাকত।

যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া অফিসের জলবায়ু অ্যাট্রিবিউশন দলের বিজ্ঞান ব্যবস্থাপক মার্ক ম্যাককার্থি এই গবেষণায় বলেন, যুক্তরাজ্য এবং সমগ্র পশ্চিম ইউরোপের জন্য এগুলো ছিল অত্যন্ত চরম দাবদাহ। বছরের শুরুর দিকে এবং এত অল্প সময়ে এই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হওয়াটা ছিল একেবারেই ব্যতিক্রমী।

জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে যুক্তরাজ্য সরকারকে পরামর্শ দেওয়া সংস্থা ক্লাইমেট চেঞ্জ কমিটি (সিসিসি) গত বছরই সতর্ক করেছিল যে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় যুক্তরাজ্য এখনও ‘প্রস্তুত নয়’। গত মে মাসে প্রকাশিত তাদের অন্য একটি প্রতিবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয় যে, ২০৫০ সালের মধ্যে যুক্তরাজ্যের ৯২ শতাংশ বাড়িঘর প্রচণ্ড উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে। এর প্রতিকারে কর্মক্ষেত্রে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা নির্ধারণ এবং হাসপাতাল ও স্কুলের মতো পাবলিক ভবনগুলোতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা স্থাপনে বিনিয়োগের জন্য সরকারের প্রতি সুপারিশ করেছে সিসিসি।

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বাধিক পঠিত

সাম্প্রতিক মন্তব্য