Homeআন্দোলন সংগ্রামসংসদ ভবন এলাকায় শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ

সংসদ ভবন এলাকায় শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জাতীয় সংসদ ভবনে প্রবেশের চেষ্টা করলে লাঠিপেটা করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছে পুলিশ। এতে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

সকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধের পর সন্ধ্যা ৬টার দিকে সংসদ ভবনের সামনে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। তখন জাতীয় সংসদের অধিবেশন চলছিল। শিক্ষার্থীরা ‘দফা এক দাবি এক, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে কয়েকজন শিক্ষার্থী সংসদ ভবনে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশ প্রথমে তাদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। পরে আবার প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশ লাঠিপেটা করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

এ সময় কয়েকজন শিক্ষার্থী পুলিশের দিকে ইটপাটকেল নিক্ষেপের চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ ধাওয়া দিয়ে তাদের সংসদ ভবনের প্রধান ফটক থেকে আসাদগেট পর্যন্ত সরিয়ে দেয়। এরপর সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

বেশির ভাগ শিক্ষার্থী চলে গেলেও পরে ৩০ থেকে ৪০ জন আবার সংসদ ভবনের সামনে অবস্থান নেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত তাদের সেখানে দেখা যায়।

টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার মধ্যে সোমবার এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া এবং প্রশ্নপত্র নিয়ে অভিযোগের জেরে মঙ্গলবার সকাল থেকে আন্দোলন করেন শিক্ষার্থীরা। সায়েন্সল্যাব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সামনে অবস্থান ও বিক্ষোভের পর তারা তিন দফা দাবি জানান।

দাবিগুলো হলো শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ও ক্ষমা চাওয়া, সোমবারের পরীক্ষা পুনরায় নেওয়া এবং ১৫ জুলাইয়ের পরীক্ষা স্থগিত করে নতুন রুটিন প্রকাশ। পরে সায়েন্সল্যাব থেকে মিছিল নিয়ে সংসদ ভবনের সামনে যান শিক্ষার্থীরা।

ঢাকার পাশাপাশি বরিশাল, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা ও বগুড়াসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ ও অবরোধ করেছেন।

এদিকে সন্ধ্যার পর জাতীয় সংসদের অধিবেশনে অনির্ধারিত আলোচনায় নিজের মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

তিনি বলেন, ‘আমার ব্যক্তিগত মন্তব্য, সেটি নিয়ে অনেকে আপত্তি করেছেন। সেই ব্যাপারে বলতে চাই, আমি কাউকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কিছু বলতে চাইনি। যদি কেউ আহত হয়ে থাকে, আমি সিম্পলি দুঃখ প্রকাশ করছি।’

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বৃষ্টির মধ্যে সোমবার পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, হিসাববিজ্ঞান ও যুক্তিবিদ্যার পরীক্ষা হয়েছে। এতে অনেকে ভিজেছেন এবং কেউ কেউ সঠিকভাবে পরীক্ষা দিতে পারেননি।

তিনি বলেন, ‘আমরা যদিও সব সময় মনিটরিংয়ে ছিলাম। শিক্ষার্থীদের দাবি এসেছে পরীক্ষা পেছানোর জন্য। ইতোমধ্যে চট্টগ্রামের পরীক্ষা বন্ধ করে দিয়েছি। আমাদের পুনরায় পরীক্ষা নিতে হবে।’

এর আগে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষামন্ত্রীর একটি ফোনালাপের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে পরীক্ষার্থীদের শারীরিক অবস্থা নিয়ে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘এগুলো তো ফার্মের মুরগি। একটু বৃষ্টিতে ভিজলেই জ্বর চলে আসে।’

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বাধিক পঠিত

সাম্প্রতিক মন্তব্য