শান্তিচুক্তিতে পৌঁছাতে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে প্রথম দফার বৈঠক শেষে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স দাবি করেন, পরমাণু পরিদর্শকদের পুনরায় ইরানে প্রবেশের অনুমতি দিতে হবে। তবে তার এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। সুইজারল্যান্ডে আলোচনার পর জেডি ভ্যান্স জানিয়েছিলেন, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার সঙ্গে আলোচনা আজ থেকেই শুরু হতে পারে। কিন্তু পরমাণু কর্মসূচি পরিদর্শনের বিষয়ে তেহরান নতুন কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়নি বলে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছে। পরিদর্শকরা কখন ইরানে ফিরবেন এ প্রসঙ্গে জেডি ভ্যান্স সাংবাদিকদের বলেন, এ প্রক্রিয়া চলতি সপ্তাহের মধ্যেই শুরু হবে, এমনকি পরিদর্শকদের সঙ্গে আলোচনা আজই হতে পারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ বিষয়ে পোস্ট করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনিও দাবি করেন, প্রধান অস্ত্র পরিদর্শনে সম্মত হবে ইরান। তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, পরমাণু পরিদর্শনের বিষয়ে নতুন কোনো প্রতিশ্রুতি তারা দেননি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, জাতিসংঘের পরিদর্শকদের সঙ্গে যেকোনো সম্পৃক্ততা পার্লামেন্ট ও সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের বিদ্যমান প্রক্রিয়ার অধীনেই হবে।
এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি আইএইএ। গত বছরের জুনে ১২ দিনের যুদ্ধের সময় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যেসব স্থানে বোমা হামলা চালিয়েছিল, সেখানে পরিদর্শনের সুযোগ স্থগিত করে দিয়েছিল ইরান। পরের মাসেই জাতিসংঘের পরমাণু পর্যবেক্ষক সংস্থা জানিয়েছিল যে, তারা দেশটিতে থাকা তাদের পরিদর্শকদের সরিয়ে নিয়েছে।
এর আগে সোমবার কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীদের দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, সুইজারল্যান্ডের শহর বার্গেনস্টকে প্রথম দফার আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর রোডম্যাপ তৈরিতে সম্মত হয়েছে। এর পরপরই ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা ৬০ দিনের জন্য মওকুফ করে মার্কিন অর্থ বিভাগ। এর ফলে ২১ আগস্ট পর্যন্ত ইরান অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল উৎপাদন, বিক্রি এবং সরবরাহের অনুমোদন দেয়। এ নিষেধাজ্ঞা শিথিলের আওতায় ইরানি তেল সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রেও আমদানি করা যাবে। যদিও মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, এই ৬০ দিনের ছাড়ের বিনিময়ে তেহরান হরমুজ প্রণালি খোলা রাখা এবং আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পরিদর্শকদের পুনরায় দেশে প্রবেশের অনুমতি দিতে সম্মত হয়েছিল।


