হাজার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করে কারখানা নির্মাণের পরও গ্যাস সংযোগ না পাওয়ায় বিপাকে পড়েছে দেশের বড় বড় শিল্পগোষ্ঠী। উৎপাদন শুরু করতে না পেরে তারা একদিকে যেমন বিপুল সুদ পরিশোধ করছে, অন্যদিকে নতুন কর্মসংস্থানও আটকে আছে।
কুমিল্লা ইকোনমিক জোনে মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের (এমজিআই) দুটি কারখানায় প্রায় ৭ হাজার ৩২০ কোটি টাকা বিনিয়োগ হয়েছে। এর মধ্যে গ্লাস কারখানায় ২ হাজার ৪৪০ কোটি এবং রড উৎপাদন কারখানায় ৪ হাজার ৮৮০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। কারখানাগুলোর নির্মাণকাজ শেষ হলেও গ্যাস সংযোগ না পাওয়ায় উৎপাদন শুরু করা যাচ্ছে না। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, শুধু ঋণের সুদ বাবদ প্রতি মাসে প্রায় ৪৫ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হচ্ছে।
এমজিআই চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল বলেন, বিদেশি ঋণে গড়ে ওঠা এসব প্রকল্পে সুদ মওকুফ বা ঋণ পুনঃতফসিলের সুযোগ নেই। গ্যাস না থাকায় বিনিয়োগ কার্যত অচল হয়ে আছে। কুমিল্লা ইকোনমিক জোনে পরিকল্পিত সাতটি কারখানা চালু হলে প্রায় ১৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হতো।
শুধু এমজিআই নয়, গ্যাস সংকটে বিপাকে রয়েছে আরও অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান। পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, টিটাসসহ ছয়টি বিতরণ কোম্পানির কাছে শিল্প খাতে গ্যাস সংযোগের ১ হাজার ৮০০টির বেশি আবেদন ঝুলে আছে। এর মধ্যে প্রায় ৫৫০টি প্রতিষ্ঠান সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেও সংযোগ পাচ্ছে না।
সিটি গ্রুপও একই সমস্যার মুখে রয়েছে। মুন্সীগঞ্জের হোসেন্দী ইকোনমিক জোনে তাদের পাঁচটি শিল্প ইউনিট গ্যাসের অভাবে চালু করা যাচ্ছে না। প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ বর্তমানে অলস পড়ে আছে। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ হোসেন বলেন, প্রতিদিন প্রায় ৫ কোটি টাকা সুদ দিতে হচ্ছে, অথচ গ্যাস কবে পাওয়া যাবে তা জানা নেই।
এ ছাড়া হা-মীম গ্রুপ, টিকে গ্রুপ, বাংলাদেশ অটো ইন্ডাস্ট্রিজসহ একাধিক শিল্পপ্রতিষ্ঠানও দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস সংযোগের অপেক্ষায় রয়েছে। অনেক কারখানা চালু হলে হাজার হাজার নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হওয়ার কথা থাকলেও তা আটকে আছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে বর্তমানে দৈনিক প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ হচ্ছে প্রায় ২৭০ কোটি ঘনফুট। উৎপাদন ঘাটতি ও আমদানি ব্যয়ের কারণে সংকট দ্রুত কাটার সম্ভাবনা নেই। তাদের আশঙ্কা, আগামী চার থেকে পাঁচ বছরও শিল্প খাতে গ্যাস সংকট অব্যাহত থাকতে পারে।
জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, সীমিত সরবরাহের মধ্যে কিছু শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে গ্যাস দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়ানো এবং বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।


