HomeUncategorizedজ্বালানি তেলের পর বাড়ল বিদ্যুতের দাম, প্রভাব পড়বে সব ক্ষেত্রে

জ্বালানি তেলের পর বাড়ল বিদ্যুতের দাম, প্রভাব পড়বে সব ক্ষেত্রে

জ্বালানি তেলের পর এবার বিদ্যুতের দামও রেকর্ড পরিমাণ বাড়ল। আবাসিক, বাণিজ্যিক, কৃষি, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, শিল্পসহ সব ধরনের গ্রাহকের বিদ্যুতের দাম গতকাল বুধবার বাড়ানো হয়েছে। উৎপাদন, বিপণন থেকে শুরু করে জনজীবনের সব ক্ষেত্রেই এর প্রভাব পড়বে। 

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) গতকাল বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে দাম বৃদ্ধির ঘোষণা দেয়। বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, সরকার ১৭ থেকে ২১ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব পেলেও কমিশন সব পক্ষের মতামত বিবেচনা করে গড়ে ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটি চলতি মাস থেকেই কার্যকর হবে।
বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধিতে জনজীবনে বাড়তি চাপের বিপরীতে সরকারের অতিরিক্ত আয় হবে ১৪ হাজার ২০০ কোটি টাকা। এতে বিদ্যুতের ৫৬ হাজার কোটি টাকার ভর্তুকি নেমে দাঁড়াবে ৪১ হাজার কোটিতে। 

ঘোষণা অনুসারে, দিনে শুধু প্রয়োজনীয় সময়ে একটি লাইট-ফ্যান ব্যবহারকারী গ্রাহককেও আগামী মাসে ৪০ টাকার মতো বেশি বিল দিতে হবে। বাসাবাড়ির অন্য গ্রাহকের খরচ ব্যবহার অনুযায়ী মাসে ৭০ থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ৬০০ ইউনিটের বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী আবাসিক গ্রাহকের খরচ আরও বেশি  বাড়বে।

গ্রাহক পর্যায়ে গড় দাম ৯ টাকা ১১ পয়সা থেকে এক টাকা ৫২ পয়সা বাড়িয়ে ১০ টাকা ৬৩ পয়সা করা হয়েছে। ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ বেড়েছে, যা এযাবতকালের সর্বোচ্চ। একই সঙ্গে পাইকারি বিদ্যুতের দাম প্রতি ইউনিটে সাত টাকা থেকে এক টাকা ৩৯ পয়সা বাড়িয়ে আট টাকা  ৩৯ পয়সা করা হয়েছে। শতকরা বেড়েছে ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ। 

পাশাপাশি কৃষিতে ১৫ শতাংশ; স্কুল, মসজিদ, মন্দির ও হাসপাতালে প্রায় ২০ শতাংশ এবং শিল্পে ১৮-১৯ শতাংশ পর্যন্ত দাম বাড়ানো হয়েছে। এতে সরাসরি বিদ্যুৎ বিল যা বাড়বে, তার চেয়েও বড় প্রভাব পড়বে পরোক্ষ ব্যয়ে। উৎপাদন ও সেবা খাতে বিদ্যুৎ বিল বাড়ায় নিত্যপণ্যের দাম বাড়বে।  বাড়বে মূল্যস্ফীতি। 

যদিও বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানিয়েছিলেন, আগামী দুই বছর বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি করা হবে না। কিন্তু ইরান-যুক্তরাষ্ট্রে যুদ্ধের পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার অস্থির হয়ে উঠলে সরকার ওই প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসে। দায়িত্ব নেওয়ার ১০০ দিনের মধ্যেই লাইনের গ্যাস ছাড়া সব ধরনের জ্বালানির কয়েক দফা দাম বৃদ্ধি করা হয়। এপ্রিলে এলপিজি, ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেনের দাম রেকর্ড পরিমাণ বাড়ানো হয়। এবার বিদ্যুতের দামও রেকর্ড পরিমাণ বাড়ানো হলো। 

কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা ড. শামসুল আলম সমকালকে বলেন, অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম-দুর্নীতি, সিস্টেম লস এবং ক্যাপাসিটি চার্জের মতো বিষয়গুলোর কারণে বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ বেড়েছে। সেগুলো বন্ধের দাবি করা হলেও, এ বিষয়ে ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র গ্রাহকদের ওপর বাড়তি বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হলো। এর প্রভাব সবখানেই পড়বে এবং মূল্যস্ফীতি বাড়বে। জনগণের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পাবে। 

বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেছেন, বাজেটের আগে তড়িঘড়ি করে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত স্বেচ্ছাচারী। বিদ্যুৎ খাতে দুর্নীতি, অপচয় ও অব্যবস্থাপনার দায় সাধারণ মানুষের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

খুচরার গড় দামে গরমিল
সর্বশেষ বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছিল ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে। সেই সময় গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের গড় মূল্যহার ছিল আট টাকা ৯৫ পয়সা। গতকালের ঘোষণার সময় তা ধরা হয়েছে ৯ টাকা ১১ পয়সা। যদিও এর কোনো কারণ ব্যাখ্যা করেনি বিইআরসি। তবে পিডিবির একজন কর্মকর্তা জানান, আগে বিইআরসি শুধু এনার্জি রেটের গড় হিসাব করে গ্রাহক পর্যায়ে গড় মূল্যহার নির্ধারণ করা হতো। তবে এবার এনার্জি রেটের সঙ্গে ডিমান্ড চার্জসহ অন্যান্য খরচ যোগ করে বিতরণ সংস্থাগুলোর মোট আয়ের ওপর গড় মূল্যহার হিসাব করা হয়েছে। এ জন্য গড় মূল্যহার ১৬ পয়সা বেড়েছে।

প্রান্তিক মানুষের খরচ বাড়ল 
গ্রাহক পর্যায়ে লাইফ লাইন বা প্রান্তিক মানুষের বিদ্যুতের দামও এবার বাড়ানো হয়েছে। শূন্য থেকে ৫০ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারকারীদের এই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সারাদেশে মোট গ্রাহকের একটি বড় অংশ লাইফ লাইন গ্রাহক। সরকার প্রান্তিক মানুষকে ভর্তুকি মূল্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে তাদের শিক্ষা ও জীবনমান উন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছে। সারাদেশে এমন গ্রাহকের সংখ্যা ১ কোটি ৭৮ লাখ ৮২ হাজার ৩৮০। এর মধ্যে গ্রামীণ জনপদে, অর্থাৎ পল্লী বিদ্যুতের সমিতিগুলোতে ১ কোটি ৬১ লাখ ৪৭ হাজার ৫৯১টি সংযোগ রয়েছে।

এই লাইফ লাইন গ্রাহকের বিদ্যুতের দাম ১৫ শতাংশের কাছাকাছি বাড়িয়ে ইউনিটপ্রতি ৫ টাকা ৩২ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। ৫০ ইউনিট ব্যবহারকারী একজন গ্রাহকের মাসিক বিদ্যুৎ বিল ৩৭ টাকা বাড়বে। তবে বিদ্যুৎ বিল শুধু এনার্জি চার্জের ওপর নির্ভর করে না। এর সঙ্গে ডিমান্ড চার্জ, ভ্যাট ও মিটার ভাড়া যোগ হয়। 

লাইফ লাইন গ্রাহকদের বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, ভর্তুকির চাপ কমানো এবং ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষার মধ্যে ভারসাম্য রাখতে হয়েছে। এ কারণে সব শ্রেণির গ্রাহকের মধ্যে লাইফ লাইন গ্রাহকদের জন্য সবচেয়ে কম, প্রায় ১৫ শতাংশ হারে দাম বাড়ানো হয়েছে। নিম্ন আয়ের ভোক্তাদের কথা বিবেচনায় নিয়েই এ শ্রেণিতে সীমিত হারে মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।

মধ্যবিত্ত-উচ্চবিত্তেরও খরচ বাড়ল
নতুন দর অনুযায়ী, ৭৫ ইউনিট ব্যবহারকারীদের জন্য ইউনিটপ্রতি দাম ৬ টাকা ১৮ পয়সা, যা ৯২ পয়সা বা ১৭ দশমিক ৪৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। 

এ ছাড়া ৭৬ থেকে ২০০ ইউনিট ব্যবহারে প্রতি ইউনিটের দাম হবে ৮ টাকা ৫০ পয়সা, যা ১ টাকা ৩ পয়সা বেশি। ২০১ থেকে ৩০০ ইউনিটের জন্য নতুন দর ৯ টাকা ১০ পয়সা, যা ১ টাকা ৫১ পয়সা বৃদ্ধি পেয়েছে। ৩০১ থেকে ৪০০ ইউনিটের ক্ষেত্রে ইউনিটপ্রতি দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ টাকা ৬২ পয়সা এবং ৪০১ থেকে ৬০০ ইউনিটের জন্য ১৫ টাকা ১ পয়সা। সবচেয়ে বেশি ব্যবহারকারী শ্রেণি, অর্থাৎ ৬০০ ইউনিটের বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার করলে প্রতি ইউনিটের জন্য গুনতে হবে ১৭ টাকা ৩৫ পয়সা, যা আগের তুলনায় ২ টাকা ৭৪ পয়সা বেশি। 

এই হিসাবে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে মাসিক বাড়তি বিল দাঁড়াবে প্রায় ৬৯ টাকা। ৭৬ থেকে ২০০ ইউনিটে মাসে প্রায় ২০০ টাকার বেশি খরচ বাড়বে। ২০১ থেকে ৩০০ ইউনিটে প্রায় ৪৫০ টাকা, ৩০১ থেকে ৪০০ ইউনিটে প্রায় ৬৪০ টাকা এবং ৪০১ থেকে ৬০০ ইউনিটে প্রায় ৯০০ টাকার কাছাকাছি বাড়তি বিল গুনতে হবে। ৬০০ ইউনিটের বেশি ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে খরচ আরও অনেক বেশি হবে। এর সঙ্গে আনুপাতিক হারে ভ্যাট-ট্যাক্স বাড়বে।

সেচে খরচ বেড়েছে 
সারাদেশে সেচপাম্পের জন্য সরকার খানিকটা কম দামে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। কৃষির ব্যয়কে সীমিত রাখতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়। এবার এ খাতে ১৫ শতাংশ দাম বাড়িয়ে ৫ টাকা ২৫ পয়সা থেকে ইউনিটপ্রতি ৬ টাকা ৪ পয়সা করা হয়েছে। 

শিক্ষা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালের খরচও বেড়েছে
এই শ্রেণির গ্রাহকের দাম ইউনিটপ্রতি ৭ টাকা ৫৫ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৯ টাকা ৫ পয়সা করা হয়েছে। বেড়েছ ১৯ দশমিক ৮৭ শতাংশ।

নির্মাণ শ্রেণির গ্রাহক
ভবন ও কারখানা নির্মাণের সময় গ্রাহককে একটি পৃথক নির্মাণ লাইন নিতে হয়, যা কাজ শেষ হওয়ার পর হস্তান্তর করতে হয়। এই শ্রেণির গ্রাহকের বিদ্যুতের দাম তুলনামূলক বেশি থাকে। নির্মাণ শ্রেণির গ্রাহকের দাম ইউনিটপ্রতি ১৫ টাকা ১৫ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১৯ টাকা ৯ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।

ব্যাটারি চার্জিং স্টেশন
সারাদেশে ইজিবাইকসহ বৈদ্যুতিক যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় এই খাতে বিদ্যুতের চাহিদা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত পৃথক লাইনের পরিবর্তে অনেক ক্ষেত্রে আবাসিক সংযোগ ব্যবহার করে চার্জ দেওয়া হয়। নতুন দর অনুযায়ী, ব্যাটারি চার্জিং স্টেশনে ফ্ল্যাট রেট প্রতি ইউনিট ৯ টাকা ৬২ পয়সা থেকে ১১ টাকা ৩৬ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। অফ-পিক সময়ে ইউনিটপ্রতি ৮ টাকা ৬৬ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১০ টাকা ২২ পয়সা এবং সুপার অফ-পিক সময়ে ৭ টাকা ৭৮ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৯ টাকা শূন্য ৯ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর পিক আওয়ারে ১২ টাকা ১৪ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১৪ টাকা ২০ পয়সা করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ১৭-১৮ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে।

সড়কবাতি
রাস্তার বাতি ও পানির পাম্পে ব্যবহৃত বিদ্যুতের ইউনিটপ্রতি ১ টাকা ৪৬ পয়সা দাম বাড়িয়ে মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১১ টাকা ৪৬ পয়সা। বেড়েছে ১৮ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ।

বাণিজ্যিক ও অফিস খাত
বাণিজ্যিক ও স্থায়ী অফিস শ্রেণিতে ফ্ল্যাট রেট ১৩ টাকা এক পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১৫ টাকা ৩৬ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। অফপিক সময়ে ইউনিটপ্রতি দাম ১১ টাকা ৭১ পয়সা থেকে ১৩ টাকা ৮২ পয়সা এবং পিক সময়ে ১৫ টাকা ৬২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১৮ টাকা ৪৩ পয়সা করা হয়েছে। এ ছাড়া বাণিজ্যিক শ্রেণির অস্থায়ী গ্রাহকদের জন্য ইউনিটপ্রতি বিদ্যুতের দাম ২০ টাকা ১৭ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২৩ টাকা ৮১ পয়সা করা হয়েছে। গড়ে বেড়েছে ১৮ শতাংশ।

ক্ষুদ্র শিল্পক্ষেত্রে 
ক্ষুদ্র শিল্পের ক্ষেত্রে আগে ফ্ল্যাট রেট ছিল ইউনিটপ্রতি ১০ টাকা ৭৬ পয়সা। এখন তা বেড়ে হয়েছে ১২ টাকা ৭৩ পয়সা। অফপিকে দাম ছিল ৯ টাকা ৬৮ পয়সা; এখন বেড়ে হয়েছে ১১ টাকা ৪৫ পয়সা এবং পিকে দাম ছিল ১২ টাকা ৯৫ পয়সা; এখন হয়েছে ১৫ টাকা ২৭ পয়সা। ১৮ শতাংশের বেশি দাম বাড়ানো হয়েছে।

মাঝারি ও বৃহৎ শিল্প
১১ কেভি শ্রেণির মাঝারি ও বৃহৎ শিল্পে বিদ্যুতের ফ্ল্যাট রেট ১১ টাকা ৬৩ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১৩ টাকা ৯৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। অফপিক সময়ে ১০ টাকা ৪৮ পয়সা থেকে ১২ টাকা ৫৪ পয়সা এবং পিক সময়ে ১৪ টাকা ৫৭ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১৭ টাকা ৪১ পয়সা করা হয়েছে। ৩৩ কেভি শিল্প গ্রাহকদের জন্য ইউনিটপ্রতি ফ্ল্যাট রেটে নতুন দর ১২ টাকা ৭৫ পয়সা এবং ১৩২-২৩০ কেভি শিল্প গ্রাহকদের জন্য ১২ টাকা ৬৬ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। উভয় ক্ষেত্রেই প্রতি ইউনিটে দুই টাকা করে দাম বাড়ানো হয়েছে। গড়ে দাম বেড়েছে ১৮-১৯ শতাংশ।

পাইকারি দামও বৃদ্ধি
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) এক সংবাদ সম্মেলনে জানায়, পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ইউনিটপ্রতি সাত টাকা থেকে এক টাকা ৩৯ পয়সা বাড়িয়ে আট টাকা ৩৯ পয়সা করা হয়েছে। এতে পাইকারি পর্যায়ে মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ। পিডিবি বিভিন্ন উৎপাদন কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ কিনে বিতরণ কোম্পানিগুলোর কাছে এই পাইকারি দরে সরবরাহ করে।

সঞ্চালন মাশুল বৃদ্ধি
উৎপাদিত বিদ্যুৎ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পৌঁছে দিতে সঞ্চালন ব্যবস্থার দায়িত্বে থাকা পাওয়ার গ্রিড কোম্পানির চার্জও বাড়ানো হয়েছে। নতুন হিসাব অনুযায়ী, ইউনিটপ্রতি সঞ্চালন মাশুল ৩১ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৩৯ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এরপরও ভর্তুকি ৪১ হাজার কোটি
এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বিদ্যুতের নতুন দাম ঘোষণার সময় বলেন, সরকারের কোনো চাপ ছিল না। তিনি জানান, এবার বিদ্যুৎ বাবদ সরকারকে বাজেটে ৫৬ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হতো; এখন তা কমে দাঁড়াবে ৪১ হাজার কোটিতে।

ক্যাপাসিটি চার্জেই সর্বনাশ
দেশের বিদ্যুৎ খাতের জন্য বড় ফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘ক্যাপাসিটি চার্জ’ বা কেন্দ্র ভাড়া। বিদ্যুৎ উৎপাদন না করেও কেন্দ্রগুলোকে অলস বসিয়ে রেখে বিগত বছরগুলোতে সরকারকে বিপুল অঙ্কের অর্থ গুনতে হয়েছে, যার চূড়ান্ত মাশুল দিতে হচ্ছে সাধারণ জনগণকে।  

সূত্র মতে, ২০১১-১২ অর্থবছরে যেখানে বিদ্যুৎ খাতের ক্যাপাসিটি চার্জ ছিল মাত্র পাঁচ হাজার ৪৫৩ কোটি টাকা, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা আকাশচুম্বী হয়ে দাঁড়ায় ৪৫ হাজার ৪৫১ কোটি টাকায়। চলতি অর্থবছর তা হতে পারে ৪৮ হাজার ২৬০ কোটি টাকা। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এই অলস ব্যয়ের পরিমাণ আরও বেড়ে ৫২ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা স্পর্শ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অর্থাৎ ১৫ বছরে ক্যাপাসিটি চার্জ ৪৭ হাজার ২২৮ কোটি টাকা বেড়েছে, যা প্রায় ৮৬৬ শতাংশ বৃদ্ধি।

২০১১ সালে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতে যেখানে ক্যাপাসিটি চার্জ ছিল দুই টাকা ৩৫ পয়সা, ২০২৬ সালে তা দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে দাঁড়িয়েছে পাঁচ টাকা ৪৬ পয়সায়। 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বাস্তবসম্মত চাহিদার চেয়ে অতিরিক্ত বিদ্যুৎকেন্দ্রের অনুমোদনই এই সংকটের মূল কারণ। দেশে বর্তমানে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা যেখানে ১৮ হাজার মেগাওয়াট, সেখানে উৎপাদন সক্ষমতা তৈরি করা হয়েছে ২৯ হাজার মেগাওয়াটেরও বেশি। এই ১১ হাজার মেগাওয়াটের বিশাল উদ্বৃত্ত সক্ষমতার কারণে অলস বসে থাকা কেন্দ্রগুলোর পেছনেই খরচ হচ্ছে সিংহভাগ অর্থ। আর এই বিশাল লোকসানের ঘাটতি মেটাতে দফায় দফায় দাম বাড়িয়ে জনগণের ওপর চাপানো হচ্ছে খরচের বোঝা।

তথ্য সূত্র: দৈনিক সমকাল

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

সাম্প্রতিক মন্তব্য