বিশ্বকাপ জয়ের চেয়ে বড় কোনো অনুপ্রেরণা ছিল না লিওনেল মেসির। গত বিশ্বকাপে অধরা সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে তাঁর।
এবার একই রকম ক্ষুধা নিয়ে তিনি মাঠে নামতে পারবেন কি না, সেই আলোচনা আছে। তবে শিরোপা ধরে রাখার পাশাপাশি এবার নতুন কিছু রেকর্ডেও চোখ রাখতে পারেন আর্জেন্টাইন তারকা। একটি রেকর্ড তো ১৬ জুন আলজেরিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামলেই হয়ে যাচ্ছে তাঁর, যৌথভাবে সবচেয়ে বেশি—ছয়টি বিশ্বকাপ খেলার রেকর্ড।
তাঁর সঙ্গে সেই রেকর্ডের অংশ হতে যাচ্ছেন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো ও মেক্সিকান গোলরক্ষক গিলের্মো ওচোয়াও।
তবে রোনালদো যে লড়াইয়ে ততটা নেই, বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার সেই সুযোগটাও এবার বেশ ভালোভাবেই আছে মেসির সামনে। ২০১৪ থেকে এই রেকর্ড মিরোস্লাভ ক্লোজার দখলে। ব্রাজিলের রোনালদোকে ছাড়িয়ে সেই আসরেই ক্লোজা নিজের বিশ্বকাপ গোলসংখ্যা ১৬-তে নিয়ে গিয়েছিলেন। এখনো সেই চূড়াতেই আছেন তিনি।
১৫ গোল নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রোনালদো নাজারিও। তিনি ভেঙেছিলেন ১৪ গোল করা জার্ড মুলারের রেকর্ড। সেখানে ১৩ গোল নিয়ে ফরাসি জুস্ত ফতেইনের সঙ্গে এর পরের অবস্থানেই মেসি। ফতেইন ১৯৫৮ সালের এক আসরেই করেছিলেন ১৩ গোল। অর্থাৎ এই বিশ্বকাপে ক্লোজাকে ছুঁতে বর্তমান খেলোয়াড়দের মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে আর্জেন্টাইন তারকাই।
আর তিনটি গোল হলেই হয় তাঁর। তবে মেসিকে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ফেলবেন নিশ্চিত কিলিয়ান এমবাপ্পে। পেলের সমান ১২টি বিশ্বকাপ গোল যে তাঁর নামের পাশেও।
পেলেকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপে অ্যাসিস্টের রেকর্ডও হতে পারে মেসির। বিশ্বকাপে এখনো পর্যন্ত আটটি অ্যাসিস্ট মেসির। পেলের ১০ অ্যাসিস্ট ছাড়িয়ে যেতে পারেন তিনি এবারই। যদিও এই পরিসংখ্যান নিয়ে বিতর্ক আছে। তবে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ডটা আর্জেন্টাইন তারকা নিজের করে নিয়েছেন গত আসরেই—২৬টি। এবার সেই সংখ্যা নিশ্চিত আরো বাড়িয়ে নিচ্ছেন তিনি। টুর্নামেন্টের কলেবর বাড়ায়, ফাইনাল পর্যন্ত যেতে এবার আটটি ম্যাচ খেলার সুযোগ আছে। আর্জেন্টিনা ফাইনালে উঠলে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ তিনটি ফাইনাল খেলার সংক্ষিপ্ত তালিকায়ও ঢুকে যাবেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
হালকা চোট নিয়ে তিনি বিশ্বকাপ ক্যাম্পে যোগ দিলেও আলজেরিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ থেকেই তাঁর মাঠে থাকা নিয়ে অবশ্য সংশয় নেই। তবে তার আগে হন্ডুরাস ও আইসল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ার্ম আপ ম্যাচ দুটি তিনি খেলবেন কি না সেটি নিশ্চিত নয়। আঙুলে চোট থাকায় এই দুটি ম্যাচ খেলবেন না গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেসও। তবে বিশ্বকাপের শুরু থেকে তাঁকে পাওয়া নিয়ে সংশয় নেই বলে গত পরশু অনুশীলন শেষে এক ভক্তের প্রশ্নের জবাবে বলেছেন মার্তিনেস নিজেই, ‘আমি সেখানে থাকছি।’ পরশু ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোকে নিয়েও সুখবর পেয়েছেন লিওনেল স্কালোনি। হাঁটুর চোট থেকে পুরো সেরে উঠে অনুশীলনে যোগ দিয়েছেন টটেনহাম ডিফেন্ডার। বিশ্বকাপের শুরু থেকে পাওয়া যাবে তাঁকে। টিওয়াইসি স্পোর্টস

