তীব্র জ্বালানি সংকট ও অস্বাভাবিক লোডশেডিংয়ের জেরে দেশের বিভিন্ন স্থানে পল্লী বিদ্যুতের অফিসে হামলা, ভাঙচুর ও বিক্ষোভের ঘটনা ঘটছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশের ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অফিস, সাবস্টেশন বা উপকেন্দ্র এবং গ্রিডের নিরাপত্তা জোরদার করতে পুলিশের মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) কাছে জরুরি চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ অ্যাসোসিয়েশন।
সংগঠনটির দপ্তর সম্পাদক মাহবুবুর রহমান স্বাক্ষরিত চিঠিতে জানানো হয়, দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ঘাটতির কারণে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলোর আওতাধীন এলাকাগুলোতে দৈনিক ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং করতে হচ্ছে। ফলে ক্ষুব্ধ গ্রাহকদের ‘জনরোষে’ পড়ছেন সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। বিভিন্ন স্থানে অফিসে ভাঙচুরের ঘটনায় মাঠপর্যায়ের কর্মীরা তীব্র নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশের সব জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদেরও অনুলিপি পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন চিঠি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ সচেষ্ট রয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সংকটের চিত্র
দেশের মোট বিদ্যুৎ গ্রাহকের প্রায় ৮০ শতাংশ (প্রায় ৪ কোটি) পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতায়। জাতীয়ভাবে উৎপাদিত বিদ্যুতের ৬০ শতাংশ এদের মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়। সমিতিগুলো নিজেরা বিদ্যুৎ উৎপাদন করে না; জাতীয় গ্রিড থেকে প্রাপ্ত বরাদ্দই গ্রাহক পর্যায়ে বিতরণ করে। গত কয়েক দিনে ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সম্মিলিত ৮ থেকে ৯ হাজার মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে গড়ে মাত্র ৫ থেকে ৬ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ মিলছে।
চলমান এই পরিস্থিতির জন্য তীব্র গ্যাস ঘাটতি ও আবহাওয়ার প্রতিকূলতাকে দায়ী করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। বুধবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, বঙ্গোপসাগরে বৈরী আবহাওয়ার কারণে সামিটের ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে নতুন কার্গো খালাস করা যাচ্ছে না। একই সঙ্গে এক্সেলারেট এনার্জির টার্মিনালটিও এখনও পূর্ণ সক্ষমতায় ফেরানো সম্ভব হয়নি। ফলে জাতীয় পর্যায়ে লোডশেডিং তিন হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে গেছে, যার মূল চাপ পড়ছে গ্রামাঞ্চলে।
পরিস্থিতি সামালে সরকারের নতুন কৌশল
প্রতিমন্ত্রী জানান, পরিস্থিতি সামলাতে সরকার বেশ কিছু জরুরি পদক্ষেপ ও বিশেষ কৌশল গ্রহণ করেছে। দ্রুত গ্যাস সংকট কাটাতে মালয়েশিয়ার সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং সেখান থেকে অন্তত এক কার্গো এলএনজি পাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। এ ছাড়া আইএসও ট্যাংকের মাধ্যমে এলএনজি আনার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে।
বিগত সরকারগুলোর ভুল জ্বালানি নীতির সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের দিকে নজর না দেওয়ায় আজ এই মাসুল দিতে হচ্ছে। তবে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলোর পুলিশকে চিঠি দেওয়ার বিষয়ে তিনি জানান, এটি তাদের নিজস্ব উদ্যোগ; মন্ত্রণালয় থেকে এই চিঠি দেওয়া হয়নি।


