সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের মানফুয়া এলাকায় একটি সোফা তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত হয়েছেন ১৬ জন প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিক। এর মধ্যে নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলার ১০ জন ও নাটোর জেলার দুইজন। বাকি ৪ বাংলাদেশির বিস্তারিত পরিচয় এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে ১৬ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের কাউন্সেলর (শ্রম) মোহাম্মদ রেজায়ে রাব্বী।
জানা যায়, রবিবার বাংলাদেশ সময় আনুমানিক বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সৌদি আরবের রিয়াদের খোরদাম শহরের ওই সোফা তৈরির কারখানায় আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ভয়াবহ আকার ধারণ করে। নিহতরা জীবিকার তাগিদে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়ে ওই কারখানায় কাজ করছিলেন। প্রবাসের মাটিতে কাজ করে পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন নিয়ে যাওয়া এসব মানুষের এমন করুণ মৃত্যুতে স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
নিহতরা হলেন উপজেলার বিশা ইউনিয়নের আত্রাইয়ের বিশা গ্রামের সাগর (৩১) ও মজিদুল (৩৪), উদনপৈ গ্রামের ফরিদ শেখ (৩২) ডুবাই গ্রামের মৃত বাদলের ছেলে সুমন (৩৫) ও একই গ্রামের চঞ্চলের ছেলে হাসিবুল হাসান শুভ (২৭), কালিকাপুর ইউনিয়নের গন্ডগোহালি গ্রামের মৃত গুফফার প্রামাণিকের ছেলে মহুন প্রামাণিক (৪২), সুমন প্রামাণিক, একই গ্রামের রুবেল হোসেন (৩০) ও ফজলুর প্রামাণিকের ছেলে কলি প্রামাণিক (৩৫) এবং পারকাসুন্দা গ্রামের আবদুল জলিল (৩৮)। নাটোর জেলার দুজন হলেন নলডাঙ্গা উপজেলার খাজুরা গ্রামের সাব্বির হোসেন শুভ ও শামীম হোসেন। বাকি চার জনের মৃত্যুর বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেলেও তাদের বিস্তারিত পরিচয় জানা যায়নি।
পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে নওগাঁর আত্রাই উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, জীবিকার জন্য সৌদি আরবে গিয়ে রিয়াদের ওই সোফা তৈরির কারখানায় কাজ করছিলেন আত্রাই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের এসব বাসিন্দা। রবিবার দুপুরে কারখানাটিতে আগুন লাগে। এতে আত্রাই উপজেলার ১০ প্রবাসী নিহত হন।
আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান জানান, সৌদি আরবের একটি সোফা তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আত্রাই উপজেলার ১০ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে গন্ডগোহালি গ্রামের চারজন, বিশা গ্রামের দুজন, ডুবাই গ্রামের দুজন, উদনপৈ গ্রামের একজন এবং পারকাসুন্দা গ্রামের একজন রয়েছেন। তবে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে পরিবারের বরাতে নাটোরের দুইজনের মৃত্যুর বিষয় নিশ্চিত করেন খাজুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন। তিনি জানান, সাব্বির দুই বছর আগে এবং শামীম কয়েক মাস আগে জীবিকার সন্ধানে পাড়ি জমিয়েছিলেন সৌদি আরবে।
এদিকে সৌদি আরবে সোফা কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিকদের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
রবিবার রাত ১২টার দিকে দেওয়া এক শোকবার্তায় মন্ত্রী বলেন, সৌদি আরবে কর্মরত এসব প্রবাসীর অকাল ও মর্মান্তিক মৃত্যু অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। দেশের অর্থনীতিতে তাদের অবদান অপরিসীম। তাদের আকস্মিক মৃত্যুতে গভীরভাবে শোকাহত তিনি। একই সঙ্গে নিহতদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি জানান গভীর সমবেদনা।
মন্ত্রী আরও বলেন, সৌদি আরবে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে দুর্ঘটনাস্থল ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। নিহত প্রবাসীদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা এবং তাদের পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের।


