দেশের দুই জেলায় পৃথক তিনটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় শিশু ও নারীসহ অন্তত ১৮ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। গতকাল শুক্রবার সকালে সিলেটের ওসমানীনগরে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৯ জন এবং বগুড়ার এরুলিয়ায় নিয়ন্ত্রণ হারানো বাসের চাপায় কাজের অপেক্ষায় থাকা ৭ দিনমজুর নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া একই দিন বগুড়াতেই অপর এক দুর্ঘটনায় স্বামী-স্ত্রী এবং কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বাসের ধাক্কায় এক নারী নিহত হন। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ২৫ জন।
ওসমানীনগরে বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৯
সিলেট: সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার দয়ামীর (কাশিকাপন) এলাকায় দুই যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন। গতকাল সকালে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের কাশিকাপন এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই ৯ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ৪ জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাঁরা হলেন—নগরীর সোবহানীঘাট এলাকার উত্তম রায়ের ছেলে সপ্তম রায় প্রীতম (২৫), ঢাকার বিক্রমপুরের জাহাঙ্গীর শেখের তিন বছরের মেয়ে জাইফা, কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামের মৃত সাফিউদ্দিনের ছেলে হাজী সাইফুল ইসলাম (৫০) ও ভৈরব উপজেলার চণ্ডীবের এলাকার বাবুল মিয়ার মেয়ে বাউলশিল্পী পেহেলী ভৈরবী (১৭)।
দুর্ঘটনার পর আহত ২৩ জনকে উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. উমর রাশেদ মুনীর জানান, আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। শেরপুর হাইওয়ে থানার ওসি আনিসুর রহমান জানান, নিহতদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে এবং দুর্ঘটনাকবলিত বাস দুটি সরিয়ে নেওয়ার পর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
বগুড়ায় ৭ দিনমজুরের পিষ্ট হওয়া ও পৃথক দুর্ঘটনা
বগুড়া: বগুড়া সদর উপজেলার এরুলিয়ার সিল্কিবান্দা এলাকায় ভোরে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা নওগাঁগামী একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে খাদে পড়ে যায়। এতে রাস্তার পাশে কাজের সন্ধানে অপেক্ষমাণ দিনমজুর ও কৃষিশ্রমিকদের চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই ৭ জন নিহত হন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৯ জন।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, বাসটি প্রথমে সড়কের পাশের একটি খুঁটিতে ধাক্কা দেয়। এরপর চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে বাসটি শ্রমিকদের ওপর উঠে যায়। নিহতদের মধ্যে ছয়জনের পরিচয় নিশ্চিত করেছে পুলিশ। তারা হলেন—গাইবান্ধার আমিরুল ইসলাম (৫০), নূর আলম (৫০), আবদুস ছামাদ ও বেলাল; জয়পুরহাটের তাজমুল ও ফয়জার। সদর থানার ওসি ইব্রাহিম আলী জানান, দুর্ঘটনার পর বাসটি জব্দ করা হলেও চালক ও হেলপার পালিয়ে গেছে।
এদিকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মাসুদ হোসেনকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান জানান, নিহত সাতজনের প্রত্যেক পরিবারের জন্য সরকারি বিধি অনুযায়ী ২৫ হাজার ও আহতদের পরিবারের জন্য ১৫ হাজার টাকা করে জরুরি আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।
অপরদিকে বগুড়ার এরুলিয়া এলাকায় প্রাইভেট কার ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে এক দম্পতি নিহত হন। শুক্রবার বিকেলে বগুড়া-নওগাঁ আঞ্চলিক সড়কের এরুলিয়া বিমানবন্দরের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন—শহরের আটাপাড়া এলাকার ব্যবসায়ী বাবুল হাসান (৫৫) ও তাঁর স্ত্রী জেসমিন বিবি (৪৭)। এ সময় তাঁদের আট বছর বয়সি নাতি জুলকার নাঈন গুরুতর আহত হয়।


