Homeজাতীয়মন্ত্রিসভায় যোগ হচ্ছে নতুন মুখ

মন্ত্রিসভায় যোগ হচ্ছে নতুন মুখ

মন্ত্রিসভায় যোগ হচ্ছে নতুন মুখ, একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের আভাস

মাহমুদুল হাসান

০৮ আগস্ট ২০২৬

ঢাকা: আগামী ১৭ আগস্ট বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হতে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে মন্ত্রিসভায় সম্ভাব্য রদবদল নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোরালো আলোচনা শুরু হয়েছে। মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের কর্মদক্ষতা, প্রশাসনিক সক্ষমতা এবং ১৮০ দিনের ঘোষিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে সার্বিক মূল্যায়ন চলছে বলে নিশ্চিত করেছে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা মন্ত্রীদের দপ্তর ভাগ করে কাজের চাপ কমানো হতে পারে। সেই সঙ্গে মন্ত্রিসভায় নতুন মুখ যুক্ত করা এবং দু-তিনজন প্রতিমন্ত্রীকে পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে পদোন্নতি দেওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

১৮০ দিনের কর্মসূচির অগ্রগতি রিপোর্ট জমা ১০ আগস্টের মধ্যে

গত ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ৪৯ সদস্যের (২৫ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী) মন্ত্রিসভা শপথ গ্রহণ করে। পরদিন ১৮ ফেব্রুয়ারি ঘোষিত ১৮০ দিনের কর্মসূচির বাস্তবায়ন কত দূর—তা খতিয়ে দেখতেই এই মূল্যায়নের আয়োজন।

ইতিমধ্যে আগামী ১০ আগস্টের মধ্যে নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ের সুনির্দিষ্ট অগ্রগতি সম্পর্কিত তথ্য-উপাত্ত প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে জমা দেওয়ার জন্য তৎপরতা শুরু হয়েছে। বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরিফুল আলম নিশ্চিত করেছেন যে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই তাঁদের খাতের অর্জনের রিপোর্ট জমা দেওয়ার প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

নতুন মুখ ও দপ্তর পুনর্বণ্টনের গুঞ্জন

রাজনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এমপি, ড. আব্দুল মঈন খান এমপি ও সেলিমা রহমান এমপি মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন। তা ছাড়া টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রী হতে পারেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান ও রুহুল কবীর রিজভী। সম্ভাবনাময়দের তালিকায় আরও রয়েছেন জয়নুল আবদিন ফারুক এমপি ও শহিদুল ইসলাম বাবুল এমপি।

অপরদিকে, রদবদলের গুঞ্জনে রয়েছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে পূর্ণ মন্ত্রী করা হতে পারে।

বর্তমানে খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর (বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট), শেখ রবিউল আলম (সড়ক পরিবহন, রেলপথ ও নৌপরিবহন), মো. আমিন উর রশিদ (কৃষি, মৎস্য ও খাদ্য), আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী (অর্থ ও পরিকল্পনা) এবং ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন (শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা)—এই জ্যেষ্ঠ নেতারা একাধিক মন্ত্রণালয়ের বিশাল দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। দপ্তর ভাগ করে দিলে প্রশাসনিক কাজে কাঙ্ক্ষিত গতি ফিরবে বলে মনে করছেন নীতিনির্ধারকেরা।

‘বাদ’ নয়, সতর্কবার্তাও হতে পারে

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান জানান, ১৮০ দিনের মেয়াদ শেষে কাজের পর্যালোচনার ভিত্তিতে যেকোনো প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার একচ্ছত্র এখতিয়ার প্রধানমন্ত্রীর রয়েছে। তবে কেবল বাদ দেওয়াই মূল লক্ষ্য নয়; যাঁদের বিরুদ্ধে বড় বিতর্ক নেই কিন্তু গতি কম, তাঁদের সতর্কবার্তা ও নতুন লক্ষ্য বেঁধে দিয়ে সময় দেওয়া হতে পারে। সীমিত পরিসরে পুনর্বিন্যাস নাকি বড় রদবদল—তা আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই স্পষ্ট হয়ে উঠবে।

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বাধিক পঠিত

সাম্প্রতিক মন্তব্য