Homeআন্তর্জাতিকট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব ইরানের প্রত্যাখ্যান

ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব ইরানের প্রত্যাখ্যান

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাঠানো নতুন যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। ফলে অঞ্চলটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় বাহরাইন ও জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিতে ইরান শক্ত হামলা চালিয়েছে। এতে আমেরিকান কোম্পানি অ্যামাজনের গোয়েন্দা ডেটা সেন্টার ভবন ধ্বংস হয়ে গেছে বলে দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে সতর্কবার্তা দিয়ে সেখানকার বেসামরিক মানুষকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের থেকে দূরে থাকার আহ্বানও জানিয়েছে। সূত্র : আলজাজিরা, রয়টার্স, এএফপি।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব সম্পর্কে ইরান ও ইরাকি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক ওয়াশিংটন সফর শেষে ইরাকি প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি তেহরানে গিয়ে ট্রাম্পের প্রস্তাব পৌঁছে দিয়েছিলেন। তবে প্রস্তাবে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ প্রশ্নে কোনো সমাধান না থাকায় তা গ্রহণে অনাগ্রহ দেখায় তেহরান। প্রস্তাবের বিস্তারিত প্রকাশ করা না হলেও বর্তমানে এটিই একমাত্র যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব বলে জানিয়েছেন ইরানি কর্মকর্তারা। তবে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণের মতো মূল বিরোধ নিষ্পত্তি ছাড়া কোনো অস্থায়ী সমঝোতা হবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে তেহরান। এ বিষয়ে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম  আইআরআইবিকে দেওয়া বক্তব্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, ‘সমস্যা যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের অযৌক্তিক, আধিপত্যবাদী ও অতিরিক্ত চাপপ্রয়োগের নীতি। ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান দৃঢ়ভাবে সেই নীতির মোকাবিলা করছে।’

সংঘাত আরও তীব্রতর : সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি রেলপথ, বিমানবন্দর, সেতু ও সমুদ্রবন্দরের মতো বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে ইরান পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) গতকাল জানিয়েছে, তারা বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন প্রযুক্তি সংস্থা অ্যামাজনের একটি ডেটা সেন্টারে হামলা চালিয়েছে। এটি ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। কারণ প্রতিষ্ঠানটি শিশু হত্যাকারী মার্কিন সেনাবাহিনীকে গোয়েন্দা সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা পালন করে আসছিল। এদিকে ইরানের এ দাবির বিষয়ে অ্যামাজন বা বাহরাইন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। এর আগে গত বুধবারেও ডেটা সেন্টারটিতে হামলা চালিয়েছিল আইআরজিসি। আরেক খবরে বলা হয়েছে, বাহরাইন ও জর্ডানে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনায় নতুন করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে ইরানের স্বার্থবিরোধী যেকোনো পদক্ষেপ আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে নষ্ট করবে বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটি। ইরানের মেহের নিউজ এজেন্সির প্রকাশ করা এক বিবৃতিতে দেশটির সেনাবাহিনী জানিয়েছে, বাহরাইনের শেখ ইসা বিমানঘাঁটির জ্বালানি মজুত, সরঞ্জামের গুদাম এবং সেনাদের বাসস্থানে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এ ছাড়া জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বা আল-আজরাক ঘাঁটির উড়োজাহাজের হ্যাঙ্গার, রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র ও বাসস্থানেও আঘাত হানা হয়েছে।

মধ্যপ্রাচের দেশগুলোর প্রতি সতর্কবার্তা : মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর বেসামরিক মানুষকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের থেকে দূরে থাকার নির্দেশনা দিয়েছে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড। গতকাল এমন হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। বিপ্লবী গার্ড এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘যেসব দেশে মার্কিন সেনা আছে সেসব দেশের নাগরিকদের আমরা সতর্ক বার্তা দিচ্ছি, নিরাপত্তার স্বার্থে যেখানে মার্কিন সেনারা লুকিয়ে আছে সেখান থেকে ৫০০ মিটার দূরে অবস্থান করুন।’ প্রসঙ্গত প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে ইরানে টানা হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। অপরদিকে পাল্টা হামলা হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে থাকা মার্কিন অবকাঠামোকে টার্গেট করছে তেহরান। দুই দেশের মধ্যে চলতি মাসের শুরুতে একটি সমঝোতা স্মারক সই হলেও এটি এরই মধ্যে ভেস্তে গেছে। দুই পক্ষই এখন একে অপরের ওপর ব্যাপক হামলা চালাচ্ছে।

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বাধিক পঠিত

সাম্প্রতিক মন্তব্য