Homeজাতীয়শঙ্কা বাড়াচ্ছে ডেঙ্গু: জুলাইতেই আক্রান্ত ও মৃত্যু সর্বোচ্চ

শঙ্কা বাড়াচ্ছে ডেঙ্গু: জুলাইতেই আক্রান্ত ও মৃত্যু সর্বোচ্চ

বর্ষার বৃষ্টি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে রাজধানীসহ সারা দেশে মারাত্মক রূপ নিচ্ছে ডেঙ্গু পরিস্থিতি। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে যে পরিমাণ রোগী শনাক্ত হয়েছিলেন, কেবল চলতি জুলাই মাসেই সেই সংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেছে। অব্যাহত বৃষ্টিতে পানি জমে এডিস মশার বংশবিস্তারের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হওয়ায় সামনের দিনগুলোতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে গভীর আশঙ্কা প্রকাশ করছেন বিশেষজ্ঞরা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৮১ জন। চলতি বছরে মোট ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ২০১ জনে এবং প্রাণ হারিয়েছেন ৩৯ জন। এর মধ্যে শুধু জুলাই মাসেই আক্রান্ত হয়েছেন ৬ হাজার ৯৭ জন এবং মারা গেছেন ২১ জন, যা বছরের মোট আক্রান্ত ও মৃত্যুর অর্ধেকেরও বেশি।

আক্রান্তদের মধ্যে সর্বাধিক ২ হাজার ৮২০ জন বরিশাল বিভাগে, ২,১১৭ জন চট্টগ্রাম বিভাগে এবং ১,৭৪৭ জন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে শনাক্ত হয়েছেন। বর্তমানে রাজধানীর সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে ভর্তি আছেন বিপুলসংখ্যক রোগী, যার মধ্যে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন ৫৬ জন।

হটস্পট চিহ্নিতকরণ ও মশক নিয়ন্ত্রণের তীব্র সংকট

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও কীটতত্ত্ববিদ ড. কবিরুল বাশার জানান, ঢাকা ছাড়াও বরিশাল, বরগুনা, পিরোজপুর, পটুয়াখালী, গাজীপুর, মানিকগঞ্জ, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম এলাকাগুলো এডিস মশার নতুন হটস্পট হয়ে উঠেছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, স্থানীয় সরকার, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাগুলোতে পর্যাপ্ত বাজেট, আধুনিক যন্ত্রপাতি এবং প্রশিক্ষিত জনবলের অভাব রয়েছে। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

জলাবদ্ধতা ও এডিসের লার্ভা বৃদ্ধি প্রতিরোধে কেবল সিটির মশকনিধনের ওপর নির্ভর না করে ব্যক্তিগত উদ্যোগে বাসাবাড়ি, নির্মাণাধীন ভবন ও আশপাশের পানি পরিষ্কার রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

জরুরি অবস্থা বিবেচনায় ব্যবস্থার তাগিদ

জনস্বাস্থ্যবিদ ডা. মুশতাক হোসেনের মতে, হাসপাতাল থেকে আক্রান্ত রোগীদের তথ্য নিয়ে তাঁদের বাসাবাড়ির আশপাশে এডিস মশার প্রজননস্থল খুঁজে ধ্বংস করতে হবে। প্রতিটি জেলার র‌্যাপিড রেসপন্স টিম ও স্বেচ্ছাসেবকদের কীটতত্ত্ববিদদের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দিয়ে কাজে লাগানোর পাশাপাশি জ্বর আক্রান্তদের অতিসত্বর ‘এনএস১’ টেস্টের আওতায় এনে মশারির ভেতরে চিকিৎসা নিশ্চিত করার তাগিদ দেন তিনি।

সরকারের বিশেষ প্রস্তুতি ও মূল্যছাড়

সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের পূর্ণ প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি জানান, বেসরকারি হাসপাতালেও নির্ধারিত মূল্যে পরীক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ডেঙ্গু রোগীদের জন্য সরকারি হাসপাতালে ১০ শতাংশ শয্যা সংরক্ষিত রাখা হয়েছে।

পাশাপাশি সরকারি হাসপাতালে এনএস১ টেস্ট সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করা হচ্ছে এবং আইজিজি ও আইজিএম পরীক্ষার ফি ৩০০ টাকা থেকে কমিয়ে ৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় অতিরিক্ত এক লাখ স্যালাইন ব্যাগ মজুদ রাখা হয়েছে এবং প্রতিটি উপজেলায় প্রয়োজনীয় স্যালাইন সরবরাহ পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বাধিক পঠিত

সাম্প্রতিক মন্তব্য