মিয়ানমারের উপকূলে রোহিঙ্গা শরণার্থী বহনকারী নৌকাডুবির পর সেন্ট মার্টিন, টেকনাফ ও কক্সবাজার সমুদ্র উপকূলে ছয়জনের অর্ধগলিত লাশ ভেসে এসেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার করা লাশগুলোর মধ্যে বেশির ভাগই নারী। ধারণা করা হচ্ছে, সমুদ্রপথে মালয়েশিয়া যাওয়ার সময় কোনো নৌকাডুবির ঘটনায় অথবা মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে নাফ নদ পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে আসার পথে নৌকাডুবির ঘটনায় এসব লাশ ভেসে আসতে পারে। তবে এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারেনি পুলিশ। কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, কক্সবাজার উপকূলে অজ্ঞাতনামা অর্ধগলিত তিন লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। টেকনাফ ও সেন্ট মার্টিন উপকূলসংলগ্ন এলাকা থেকেও তিনটি অর্ধগলিত নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে বলে শুনেছি।
এদিকে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে যাওয়া জেলেরা জানিয়েছেন, সাগরে লাশ ভাসতে দেখেছেন তারা। যদিও উদ্ধার ও ভাসতে দেখা লাশগুলোর সঙ্গে মিয়ানমার উপকূলে নৌকাডুবির ঘটনার যোগসূত্র রয়েছে কি না জানা যায়নি। শাহপরীর দ্বীপের মাঝি আবদুর রহিম বলেন, মাছ ধরতে গিয়ে কয়েকজন নারীর ভাসমান লাশ দেখতে পাই। সাগরে প্রবল বাতাস ছিল। নৌকা ডুবে তারা মারা গেছে বলে মনে করি। সেন্ট মার্টিনের মোহাম্মদ আলী মাঝি বলেন, সেন্ট মার্টিনের দক্ষিণ সাগরে শিশুসহ পাঁচ-ছয়টি লাশ ভাসতে দেখেছি।
প্রসঙ্গত, গত ১৬ জুলাই এক যৌথ বিবৃতিতে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানায়, জুনের শেষ দিকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে নৌকা দুটি যাত্রা শুরু করে। দুটি নৌকায় ৫০০ জনের বেশি যাত্রী ছিলেন। তাদের বেশির ভাগই জাতিগত সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা। যাত্রীদের মধ্যে বাংলাদেশের রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে আসা রোহিঙ্গারাও ছিলেন। ঘটনা ও হতাহতের সংখ্যা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা না গেলেও সম্ভাব্য প্রাণহানির ঘটনায় সংস্থা দুটি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।


