Homeঅপরাধপ্রতিদিন সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু ৬৬

প্রতিদিন সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু ৬৬

আঘাতে প্রতিদিন গড়ে ২৬৮ ব্যক্তি প্রাণ হারাচ্ছে। সর্বোচ্চ ৬৬ জনের মৃত্যু হয় সড়ক দুর্ঘটনায়। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আত্মহত্যায় ৫৬ জন এবং পানিতে ডুবে মারা যায় ৫০ জন। বছরে এ সংখ্যা ৯৮ হাজার ৪২২ জন। এ ছাড়া প্রতি বছর ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৯ জন আঘাতজনিত কারণে স্থায়ীভাবে প্রতিবন্ধী হয়ে যাচ্ছে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ‘সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ, বাংলাদেশ (সিআইপিআরবি)’ পরিচালিত গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণার শিরোনাম ‘প্রিভেলেন্স অ্যান্ড রিস্ক ফ্যাক্টরস ফর মর্টালিটি অ্যান্ড মোরবিডিটি ইন রিলেশন টু ন্যাশনাল হেলথ ইনজুরি সার্ভে অব বাংলাদেশ ২০২২-২৩’। গবেষণাটি প্রকাশ করা হয় চলতি বছর!

গবেষণার ফলাফলে জানা যায়, দেশে প্রতি ১ লাখ জনসংখ্যায় আঘাতজনিত মৃত্যুর হার ৫৯ দশমিক ৬। বছরে ৯৮ হাজার ৪২২ এবং প্রতিদিন গড়ে ২৬৮ ব্যক্তি বিভিন্ন ধরনের আঘাতে মারা যায়। এর মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় বছরে ২৪ হাজার ২৩৩ জন (প্রতিদিন ৬৬ জন), আত্মহত্যায় ২০ হাজার ৫০৫ জন (প্রতিদিন ৫৬ জন), পানিতে ডুবে ১৮ হাজার ২৬৮ জন (প্রতিদিন ৫০ জন) এবং পড়ে গিয়ে ১৪ হাজার ১৬৭ জন (প্রতিদিন ৩৯ জন) প্রাণ হারায়। এ ছাড়া বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে বছরে ৭ হাজার ৮৩ জন, সহিংসতায় ৫ হাজার ২১৯ জন, প্রাণীর আক্রমণে ৩ হাজার ৭২৮ জন, ভোঁতা বস্তুর আঘাতে ২ হাজার ২৩৭ জন এবং আগুনে পুড়ে প্রায় ১ হাজার ৪৯১ ব্যক্তির মৃত্যু হয়।

গবেষণায় দেখা গেছে, আঘাতজনিত মৃত্যুর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাচ্ছে। সড়ক দুর্ঘটনায় কেন এই মৃত্যুর মিছিল? এ সম্পর্কে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক পরিবহন বিশেষজ্ঞ ড. সামছুল হক বলেন, ‘ওভারটেকিংয়ের জন্য কয়েক সেকেন্ডে শেষ হয়ে যায় বহু জীবন। মহাসড়কের সবচেয়ে বড় ঝুঁকিগুলোর একটি হচ্ছে বিপজ্জনক ওভারটেকিং। ধীরগতির ট্রাক বা অন্য যানবাহনকে অতিক্রম করতে গিয়ে অনেক বাস বিপরীত লেনে উঠে পড়ে। সামনাসামনি আরেকটি যানবাহন চলে এলে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ঘটে ভয়াবহ সংঘর্ষ। দীর্ঘ পথে বিরতিহীন গাড়ি চালানোর কারণে চালকদের মধ্যে ক্লান্তি ও তন্দ্রা তৈরি হচ্ছে, ঘটছে দুর্ঘটনা। এ ছাড়া সড়কে চলাচল করছে ফিটনেসবিহীন গাড়ি। দুর্ঘটনায় প্রাণ ঝরলেও টনক নড়ছে না কর্তৃপক্ষের।’ বাংলাদেশে আঘাতজনিত মৃত্যুর দ্বিতীয় প্রধান কারণ আত্মহত্যা। প্রতি ১ লাখ জনসংখ্যায় আত্মহত্যাজনিত মৃত্যুহার ১২ দশমিক ৪। বছরে ২০ হাজার ৫০৫ ব্যক্তি আত্মহত্যা করে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্য হলো ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সি তরুণ-তরুণীদের মধ্যে আত্মহত্যার হার সবচেয়ে বেশি, প্রতি ১ লাখে ২৮ জন। শহরের তুলনায় গ্রামে আত্মহত্যার হার প্রায় দ্বিগুণ। গ্রামীণ এলাকায় প্রতি ১ লাখে ১৪ দশমিক ৮ জন আত্মহত্যা করলেও শহরে এ হার ৭ দশমিক ৯। বেকার জনগোষ্ঠীর মধ্যেও আত্মহত্যার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি পাওয়া গেছে। পাবলিক হেলথ অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. আবু জামিল ফয়সাল বলেন, তরুণদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা বেশি। মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে না পারলে, এই আত্মহত্যা কমানো যাবে না। মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সরকারের ছোটখাটো কিছু পদক্ষেপ থাকলেও বড় কোনো পদক্ষেপ নেই।’

পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনায় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে ছোট শিশু। গবেষণায় বলা হয়েছে, দেশে প্রতি বছর ১৮ হাজার ২৬৮ ব্যক্তি পানিতে ডুবে মারা যায়। এর মধ্যে ১৪ হাজার ২৬৯ জন শিশু এবং ৩ হাজার ৯৯৯ জন প্রাপ্তবয়স্ক। এক থেকে চার বছর বয়সি শিশুদের মধ্যে পানিতে ডুবে মৃত্যুহার সবচেয়ে বেশি। এ ব্যাপারে অধ্যাপক ডা. আবু জামিল ফয়সাল বলেন, ‘দেশে এত নদীনালা, খালবিল, পুকুর, সবখানেই পানিতে ডুবে মারা যাচ্ছে শিশু। বাচ্চাদের পোশাকে যদি কোনো এক ধরনের সেন্সর লাগানো থাকে, যাতে করে শিশু পানির স্পর্শে এলেই পরনের পোশাকটি ফুলে উঠবে, নয়তো ঘণ্টা বাজবে- এমন কিছু হলে মৃত্যু প্রতিরোধ করা যেতে পারে। আমি দেখেছি, সাঁতার প্রশিক্ষণ, শিশুর জন্য দিবাযত্ন কেন্দ্রে রাখা, মা-বাবাকে সচেতন করা, সাঁতার শেখানোর কথা বলা- সবই চেষ্টা করেছে সরকার। কিন্তু কোনোভাবেই পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যু কমছে না।’

বয়স্কদের জন্য বড় ঝুঁকি পড়ে যাওয়া। প্রতি বছর দেশে প্রায় ১৪ হাজার ১৬৭ ব্যক্তি পড়ে গিয়ে মারা যায়। মৃত্যুর পাশাপাশি আঘাতের কারণে বিপুলসংখ্যক ব্যক্তি স্থায়ী প্রতিবন্ধী হয়ে যাচ্ছে, প্রতিদিন গড়ে ৩৮০ জন। সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ বাংলাদেশের সহযোগী পরিচালক ডা. মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, পানিতে ডুবে মৃত্যু এখন পর্যন্ত আমাদের দেশে পাঁচ বছরের নিচে শিশুমৃত্যুর বড় একটা কারণ। বিষপান ও রশিতে ঝুলে আত্মহত্যার ঘটনা বেশি ঘটছে। এটা কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে বেশি, যা বছরে ১০ হাজারের ওপরে। নিরাপত্তাব্যবস্থা না নিয়েই সুউচ্চ দালানে কাজ করার সময় ওপর থেকে পড়ে মৃত্যু হচ্ছে অনেক শ্রমিকের।

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বাধিক পঠিত

সাম্প্রতিক মন্তব্য