কয়েক দিন আগেও তাঁকে ঘিরে ছিল সমালোচনার ঝড়। কেউ বলছিলেন সময় ফুরিয়ে এসেছে, কেউ তুলছিলেন অবসরের প্রশ্ন। কঙ্গোর বিপক্ষে প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ার পর পর্তুগাল অধিনায়ক ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে নিয়ে শুরু হয়েছিল নানা আলোচনা। তবে সমালোচনার সেই অধ্যায়ের জবাব তিনি দিলেন নিজের সবচেয়ে পরিচিত ভঙ্গিতে—গোল করে।
হিউস্টনে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ৫-০ গোলের দাপুটে জয়ে জোড়া গোল করেন রোনালদো। শুধু দলকে বড় জয়ই উপহার দেননি, গড়েছেন বিশ্বকাপের ইতিহাসেও নতুন এক মাইলফলক। প্রথম ফুটবলার হিসেবে টানা ছয়টি বিশ্বকাপ আসরে গোল করার কীর্তি এখন তাঁর দখলে।
কঠিন সময় পেছনে ফেলে নতুন উদ্দীপনা
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে গত কয়েক দিনের চাপ ও সমালোচনার কথা খোলামেলাভাবে তুলে ধরেন রোনালদো। তিনি জানান, সময়টা সহজ ছিল না। চারদিকের সমালোচনা তাঁকে আঘাত করেছিল, কিন্তু তিনি নিজের বিশ্বাস হারাননি।
রোনালদোর ভাষায়, কঠোর পরিশ্রমই তাঁকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে। সতীর্থদের সহযোগিতা এবং দলের ঐক্যের ওপর আস্থা রেখেই তিনি অপেক্ষা করেছেন নিজের সময়ের।
গোলের খরা ভেঙে স্বস্তি
বিশ্বকাপ ও অন্যান্য বড় টুর্নামেন্ট মিলিয়ে দীর্ঘ সময় গোলের দেখা পাননি রোনালদো। সেই অপেক্ষার অবসান ঘটে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে। ষষ্ঠ মিনিটে প্রথম গোল করার পর ৩৯ মিনিটে করেন দ্বিতীয় গোল।
২০০৬ সালে জার্মানি বিশ্বকাপে প্রথম গোল করেছিলেন তিনি। দুই দশক পরও বিশ্বমঞ্চে গোল করে চলেছেন একই ধারাবাহিকতায়। বিশ্বকাপের ছয়টি ভিন্ন আসরে গোল করার এই অর্জন ফুটবল ইতিহাসে আগে কেউ দেখাতে পারেননি।
সমালোচকদের উদ্দেশে বার্তা
রোনালদো মনে করেন, সাফল্য ও ব্যর্থতা দুটিই একজন ফুটবলারের ক্যারিয়ারের অংশ। দল জিতলে প্রশংসা আসে, হারলে সমালোচনা। তবে তিনি এসবকে স্বাভাবিক হিসেবেই দেখেন।
তাঁর মতে, মানুষ সব সময় মতামত দেবে। কিন্তু মাঠে পারফরম্যান্সই সবচেয়ে বড় উত্তর। উজবেকিস্তানের বিপক্ষে জয়কে তিনি সেই উত্তর হিসেবেই দেখছেন।
কোচের চোখে অনন্য রোনালদো
পর্তুগালের কোচ রবার্তো মার্তিনেজও ম্যাচ শেষে রোনালদোর মানসিক শক্তির প্রশংসা করেন। তাঁর মতে, এত দীর্ঘ ক্যারিয়ারের পরও প্রতিদিন নিজেকে নতুন করে প্রমাণ করার ক্ষুধা খুব কম খেলোয়াড়ের মধ্যেই দেখা যায়।
মার্তিনেজ বলেন, রোনালদোর সবচেয়ে বড় শক্তি হলো কাজের প্রতি তাঁর অবিশ্বাস্য নিষ্ঠা। বয়স বাড়লেও সেই মানসিকতা একটুও কমেনি।
প্রতিপক্ষ কোচও মুগ্ধ
উজবেকিস্তানের কোচ হিসেবে দায়িত্বে থাকা ইতালির কিংবদন্তি ফাবিও কানাভারোও ম্যাচ শেষে রোনালদোর প্রশংসা করেন। ২০০৬ বিশ্বকাপে যখন কানাভারো শিরোপা জিতেছিলেন, তখনই বিশ্বকাপে যাত্রা শুরু হয়েছিল রোনালদোর।
কানাভারোর মতে, রোনালদোকে এক মুহূর্তের জন্যও জায়গা দেওয়া যায় না। কারণ সামান্য সুযোগ পেলেই তিনি ম্যাচের চিত্র বদলে দিতে পারেন।
ইতিহাস গড়েও থামার ইঙ্গিত নেই
এক সময় যাঁকে নিয়ে অবসরের আলোচনা হচ্ছিল, কয়েক দিনের ব্যবধানে তিনিই বিশ্বকাপের ইতিহাসে নতুন রেকর্ডের মালিক। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি বহুবার হয়েছেন রোনালদো। সমালোচনা, সন্দেহ কিংবা বয়স নিয়ে প্রশ্ন—সবকিছুর জবাব তিনি বারবার দিয়েছেন মাঠে।
হিউস্টনের রাতেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। সমালোচনার চাপকে পেছনে ফেলে আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। আর সেটিও করেছেন নিজের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র দিয়ে—গোল এবং জয়।


